রেমিটেন্স-রপ্তানি আয়ের স্বস্তি আটকে যাচ্ছে যেখানে
সেপ্টেম্বরে বেসরকারি খাতে ব্যাংক ঋণের প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ৪ দশমিক ১৭ শতাংশে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ম।
প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স ও রপ্তানি আয়—দুই সূচকেই ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি রয়েছে; দাতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বেড়েছে। কিন্তু অর্থনীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক বেসরকারি খাতে ব্যাংক ঋণের প্রবৃদ্ধি ক্রমেই কমছে।
সেপ্টেম্বরে এ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ৪ দশমিক ১৭ শতাংশে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ম।
আগের মাস অগাস্টে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ। জুলাইয়ে ছিল ৪ দশমিক ৬২ শতাংশ।
ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্পকারখানা ও বিনিয়োগের প্রয়োজনে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় কতটা বাড়ছে বা কমছে, তা বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি দিয়ে বোঝা যায়।
এই প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়াকে বিনিয়োগে দুর্বল চাহিদার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়। এর প্রভাব নতুন শিল্প স্থাপন, কারখানা সম্প্রসারণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও পড়তে পারে।
অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের অস্থিরতার পর গত ফেব্রুয়ারিতে নতুন রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ায় ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত হওয়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সরকারের মেয়াদের সাড়ে আট মাস পার হলেও সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।
দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাকশিল্পে মজুরি বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ, সহিংসতা ও কারখানা বন্ধের ঘটনাও ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করছেন অর্থনীতিবিদরা।
এমনিতেই বেশ কিছুদিন ধরে দেশে বিনিয়োগে মন্দা চলছে। এর মধ্যে পোশাকশিল্পে অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
ঋণ প্রবৃদ্ধির হালনাগাদ তথ্য জানিয়ে মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমেছে। গত সেপ্টেম্বরে এ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ১৭ শতাংশ।”
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বেসরকারি খাতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এ খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ায় বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের গতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। টানা সাত মাস ধরে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের নিচে রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এ প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ০৩ শতাংশ। মার্চে তা কমে ৪ দশমিক ৭২ শতাংশে নেমে আসে। এপ্রিল ও মে মাসে প্রবৃদ্ধি ছিল যথাক্রমে ৪ দশমিক ৭৫ ও ৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ মাস জুনে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি আরও কমে ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশে দাঁড়ায়। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে তা কিছুটা বেড়ে ৪ দশমিক ৬২ শতাংশ হয়। অগাস্টে প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে তা কমে ৪ দশমিক ১৭ শতাংশে নেমেছে।
অথচ চার বছর আগে, ২০২২ সালের অগাস্টে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল ১৪ দশমিক ০৭ শতাংশ, যা বর্তমান প্রবৃদ্ধির তিন গুণেরও বেশি।
ঋণ প্রবৃদ্ধির এই নিম্নমুখী প্রবণতা দেখাচ্ছে, বেসরকারি খাতে ব্যাংক ঋণের চাহিদা আগের তুলনায় কমেছে। তাতে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের গতি নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
অর্থনীতিকে সক্রিয় করা এবং বন্ধ কলকারখানা চালু করতে সরকার ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সুদহার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ৯ শতাংশ করেছে। তবে এসব উদ্যোগের পরও বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি বাড়েনি; বরং সেপ্টেম্বরে তা আরও কমেছে।
গত বছরের ডিসেম্বরে ঘোষিত মুদ্রানীতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রত্যাশা ছিল, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ মাস জুনে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৫ শতাংশের কাছাকাছি থাকবে। কিন্তু বাস্তবে তা ওই লক্ষ্যের চেয়ে ১ দশমিক ০৩ শতাংশীয় পয়েন্ট কমে ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশে দাঁড়ায়।
এই পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশ ব্যাংক গত জুনে পরবর্তী ছয় মাসের মুদ্রানীতিতে (জুলাই-ডিসেম্বর) বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে নির্ধারণ করে। বর্তমান মুদ্রানীতিতে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এ প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৮ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
কোভিড মহামারীর পর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগের মধ্যে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ বাড়ছিল। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানিসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়ে গেলে তার প্রভাব পড়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও। বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারে টাকার মান কমে যায়। দুই বছরের মধ্যে ডলারের দাম ১২১ টাকায় ওঠে; এখন তা বেড়ে প্রায় ১২৪ টাকা ৫০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।
কোভিডের পর আমদানি বেড়ে যাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ তৈরি হয়। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে তখনকার আওয়ামী লীগ সরকার আমদানিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে।
২০২৪ সালের অগাস্টে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কয়েক মাসের মধ্যে নীতি সুদহার বাড়িয়ে ১০ শতাংশে উন্নীত করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে ঋণের সুদহার বাড়ে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির গতিও কমতে থাকে।
বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, “এই অবস্থা চলতে থাকলে অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।”
তিনি বলেন, “রেমিটেন্স, রপ্তানি আয় ও রিজার্ভ বেড়েছে, এটা ভালো। কিন্তু এই সূচকগুলো ভালো হলেই অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরবে না।
“যে করেই হোক বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। আমি মনে করি, এখন বিনিয়োগ বাড়ানোর দিকেই সরকারের সবচেয়ে বেশি জোর দিতে হবে।”
অংক কী দেখাচ্ছে
রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে কমতে কমতে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৮২ শতাংশে নেমে এসেছিল।
পরের দুই মাসে তা কিছুটা বেড়ে ৭ শতাংশের ওপরে ওঠে। মার্চে প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ৫৭ শতাংশ, এপ্রিলে ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ। মে মাসে আবার কমে ৬ দশমিক ৯৫ শতাংশে নেমে আসে।
বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির নিম্নমুখী ধারা শুরু হয় আওয়ামী লীগ সরকারের সময়, ২০২২ সালের নভেম্বরে। তখন করোনা মহামারীর পর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া চলছিল। এর মধ্যে রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধ শুরু হলে ডলারের দাম বাড়তে থাকে।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে ঋণ প্রবৃদ্ধি আরও কমতে থাকে।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এ প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ১৫ শতাংশ। এর আগের বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে ছিল ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ। ২০২৪ সালের নভেম্বরে ৭ দশমিক ৬৬, অক্টোবরে ৮ দশমিক ৩০, সেপ্টেম্বরে ৯ দশমিক ২০, অগাস্টে ৯ দশমিক ৮৬, জুলাইয়ে ১০ দশমিক ১৩ এবং জুনে ৯ দশমিক ৮৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে ১৯৯৩-৯৪ অর্থবছর থেকে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির তথ্য রয়েছে। ওই তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোর মত এত কম প্রবৃদ্ধি আগে দেখা যায়নি। করোনাভাইরাসের প্রভাব শুরুর আগে শুধু ১৯৯৩-৯৪ অর্থবছরে একবার ঋণ প্রবৃদ্ধি এক অঙ্কে, ৮ দশমিক ৫৭ শতাংশে নেমেছিল।
পরের অর্থবছরে তা প্রবৃদ্ধি বেড়ে রেকর্ড ২৬ দশমিক ৬৬ শতাংশে ওঠে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধির রেকর্ড হয় ২০০৭-০৮ অর্থবছরে, ২৫ দশমিক ১৫ শতাংশ।
এরপর করোনাভাইরাসের প্রভাবের মধ্যে ২০১৯-২০ অর্থবছর শেষে ঋণ প্রবৃদ্ধি আবার এক অংকে নেমে আসে। ওই বছর প্রবৃদ্ধি ছিল ৮ দশমিক ৬১ শতাংশ। পরের অর্থবছরে তা আরও কমে ৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ হয়।
২০২১-২২ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি আবার বেড়ে ১৩ দশমিক ৬৬ শতাংশে ওঠে। এরপর থেকে প্রতি অর্থবছরই তা কমেছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ছিল ১০ দশমিক ৫৭ শতাংশ। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা কমে ৯ দশমিক ৮৪ শতাংশে দাঁড়ায়।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে ঋণ প্রবৃদ্ধি আরও কমে ৬ দশমিক ৪৯ শতাংশ হয়। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা নেমে আসে ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ওয়েবসাইটে ১৯৯৩-৯৪ অর্থবছর থেকে তথ্য থাকলেও এর আগের বছরগুলোতেও বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ১৭ শতাংশের বেশি ছিল।
এমন হল কেন
ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের মতে, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার পেছনে বিনিয়োগে অনীহা, উচ্চ সুদহার, ডলারের দাম বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কাজ করছে।
ব্যাংক ঋণের খরচ বেড়ে যাওয়ায় এক দিকে নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ কমেছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির চাপে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমায় বাজারে পণ্যের চাহিদাও দুর্বল হয়েছে।
রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে বিনিয়োগের ঝুঁকি ও ব্যয়—দুটিই বেড়েছে। একদিকে ডলারের দাম বেশি, অন্যদিকে ব্যাংকঋণের সুদহারও চড়া। ফলে নতুন বিনিয়োগ বা কারখানা সম্প্রসারণে আগের তুলনায় বেশি অর্থের প্রয়োজন হচ্ছে।
বাংলাদেশ চেম্বারের সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “দেশে অনিশ্চয়তা-অস্থিরতা; স্বস্তি নেই। আমরা ভেবেছিলাম নতুন সরকার আসলে সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু তেমনটা দেখা যাচ্ছে না; উল্টো নতুন নতুন সংকট দেখা যাচ্ছে। গত কয়েক দিনের পোশাকশিল্পে অস্থিরতায় আমরা উদ্বিগ্ন। এ অবস্থায় বিনিয়োগ করবে কে? ঋণ নেবে কে?”
তিনি বলেন, “করোনা মহামারী, রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধ, ডলারের দর বৃদ্ধি, মধ্যপ্রাচ্যের (পশ্চিম এশিয়ার) যুদ্ধ—একের পর এক ধাক্কায় আমাদের অর্থনীতি চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ঋণের সুদের হার বেশি। মূল্যস্ফীতি বাড়ায় মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে।
“সত্যি কথা বলতে কি, দেশে এখন বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ নেই। কবে স্বাভাবিক পরিবেশ আসবে, তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই।”
এনসিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামসুল আরেফিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বিশ্ব অর্থনীতি এখনও এক ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। তার প্রভাব আমাদের অর্থনীতিতেও পড়ছে। এই সময়ে খুব বেশি ঋণ বাড়বে না।”
বাংলাদেশ বাংক গত ১ নভেম্বর রপ্তানি আয় ও রেমিটেন্সের হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করে। তাতে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) রেমিটেন্স বেড়েছে ১২ দশমিক ১০ শতাংশ। আর রপ্তানি আয় বেড়েছে প্রায় ৬ শতাংশ।
এই দুই সূচকে ভর করে রিজার্ভও মোটামুটি স্বস্তির জায়গায় রয়েছে। মঙ্গলবার দিন শেষে বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ছিল ৩১ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার। গ্রস বা মোট হিসাবে ছিল ৩৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
রেমিটেন্স, রপ্তানি আয় ও রিজার্ভে ইতিবাচক প্রবণতা থাকলেও বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির নিম্নগতি অর্থনীতিতে বিনিয়োগের দুর্বল চাহিদার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার হিসাবের স্বস্তি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে কতটা প্রতিফলিত হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
