Published : 07 Jun 2026, 05:39 PM
ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের মাসিক মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাটের যে বিবরণী বা রিটার্ন কাগজে দিয়ে আসছিল, সেসব রিটার্ন অনলাইনে দেওয়ার সুযোগ আরও বাড়ল।
আগে দাখিল করা সব রিটার্নের হার্ডকপি গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত জরিমানা বা সুদ ছাড়াই ‘সিস্টেমে এন্ট্রি’ করার সুযোগ দিয়েছিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
তবে এখনো ‘উল্লেখযোগ্য সংখ্যক’ হার্ডকপি সিস্টেমে জমা না হওয়ায় এর জন্য সময় বাড়িয়ে ৩০ জুন করা হয়েছে।
রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এনবিআর বলছে, জুলাই থেকে অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল ‘বাধ্যতামূলক’ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এ কারণে যেসব প্রতিষ্ঠান হার্ডকপি রিটার্ন দাখিল করেছে কিন্তু অনলাইন সিস্টেমে এন্ট্রি করেনি তাদের ক্ষেত্রে ৩০ জুন পর্যন্ত সময়সীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে যেসব প্রতিষ্ঠান হার্ডকপি রিটার্ন ‘ই-ভ্যাট সিস্টেমে’ এন্ট্রি করবে না, তাদের ‘ক্লোজিং ব্যালেন্স’ মে মাস থেকে ‘ফ্রিজ’ বা ‘অপরিচলনযোগ্য’ করা হবে।
অর্থাৎ ওই হিসাবের স্থিতির বিপরীতে কোন সমন্বয় করা যাবে না।
এছাড়াও রিফান্ড আবেদন বিবেচনার ক্ষেত্রে যেহেতু শতভাগ রিটার্ন অনলাইনে থাকা বাধ্যতামূলক, তাই আগের সব ভ্যাট রিটার্ন অনলাইন সিস্টেমে এন্ট্রি না করলে প্রতিষ্ঠান কোন রিফান্ডের আবেদন দাখিল করতে পারবে না বলেও এনবিআর সতর্ক করেছে।
কাগুজে রিটার্ন জমার পর এতদিন এ কাজটি অনলাইনে এন্ট্রি করতেন ভ্যাটের কর্মীরা। তারা যথাসময়ে তা অনলাইনে সংযুক্ত করতে না পারলে এর মাশুল গুনতে হত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকেই।
এ সুবিধা দেওয়ার ফলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো পুরনো রিটার্ন নিজেরাই অনলাইনে সংযুক্ত করতে পারবে।
আগের সব কাগুজে রিটার্ন একবার অনলাইনে এন্ট্রির পর পরবর্তীতে মাসিক রিটার্ন অনলাইনে দেওয়া সহজ হবে বলে এমন উদ্যোগ নেওয়ার কথা আগে বলেছিল এনবিআর।
গত ৫ জানুয়ারি এ বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করে সংস্থাটি। ওইদিন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এনবিআর বলে, এ যাবৎকালে ‘হার্ড কপি’ আকারে দাখিল করা সব মাসিক রিটার্ন অনলাইন সিস্টেমে এন্ট্রির জন্য ‘ই-ভ্যাট সিস্টেমে’ এ ‘হার্ড কপিরিটার্ন এন্ট্রি’ নামে একটি নতুন সাব-মডিউলসংযোজন করা হয়েছে।
এ সাব-মডিউলটির কর্মপদ্ধতি নিয়ে এনবিআর একটি পরিপত্রও জারি করে। সেখানে বলা হয়েছে, পরিপত্রটি যথাযথভাবে অনুসরণ করে করদাতারা নিজেরাই তাদের আগের দাখিলকৃত রিটার্নের হার্ডকপি সিস্টেমে এন্ট্রি করতে পারবেন।
এনবিআর বলছে, ভ্যাট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ডেটা এন্ট্রি করা হলে, তাতে কোনো ভুল হলে এর দায়-দায়িত্ব নির্ধারণে জটিলতা তৈরি হয়। তাছাড়া, ভ্যাট অফিসে বিপুল পরিমাণ কাগজ রিটার্ন সিস্টেমে এন্ট্রি দেওয়া যথেষ্ট সময়সাপেক্ষ কাজ।
নতুন এ সুযোগের ফলে কোনো ধরনের সুদ ও জরিমানা ছাড়াই অনলাইনে রিটার্ন সংযুক্তির সুযোগ থাকছে।