Published : 24 Dec 2025, 09:49 PM
অর্থবছরের মাঝামাঝিতে এসে বাজেটের আকার দুই হাজার কোটি টাকা কমিয়ে সংশোধিত বাজেট অনুমোদন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। তবে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়েছে ২৪ হাজার কোটি টাকা।
বুধবার উপদেষ্টা পরিষদের সভায় ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকার সংশোধিত বাজেট অনুমোদন করা হয়েছে। বাজেটে ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি ব্যয়ের লক্ষ্য ধরে ২০২৫-২৬ অর্থবছর শুরু করেছিল সরকার।
এদিন তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে এ সভার বিষয়বস্তু পরে ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে ব্রিফিংয়ে তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
সভায় রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য বাড়ানোর তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আহরণের গতি বেড়েছে। জুলাই-অক্টোবর সময়ে গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি ছিল ২৪ দশমিক ১ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে তা বেড়ে হয়েছে ২৬ দশমিক ৪ শতাংশ। এমন প্রেক্ষাপটে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৫ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা থেকে ২৪ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে চলতি অর্থবছরের জন্য মোট রাজস্ব আদায়ের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ৫ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে।
এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে তুলে ধরেন প্রেস সচিব। আর কর বহির্ভূত রাজস্ব আহরিত হবে ৬৫ হাজার কোটি টাকা এবং এনবিআর বহির্ভূত সূত্র থেকে আহরিত হবে ২০ হাজার কোটি টাকা।
বাজেট ব্যয়ের পাশাপাশি সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকারও ৩ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে ২ লাখ কোটি টাকা প্রাক্কলনের তথ্য দেন তিনি, যা জিডিপির ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। মূল বাজেটে এডিপির আকার ধরা হয়েছিল ২ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা, যা ছিল ৩ দশমিক ৭ শতাংশ।
তিনি জানান, সংশোধিত বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ ২ লাখ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। এর মধ্যে বৈদেশিক উৎস থেকে সংগৃহীত হবে ৬৩ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে আসবে ১ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকা।

‘মূল্যস্ফীতি কমবে অর্থবছরের শেষ দিকে‘
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ দিকে মূল্যস্ফীতি কমবে আশা প্রকাশ করে প্রেস সচিব ব্রিফিংয়ে বলেন, “নতুন সংশোধিত বাজেটে ধরা হয়েছে যে মূল্যস্ফীতি আমরা আশা করছি, এটা এখন যেহেতু শীতকালের সবজি উঠে গেছে, এটা আরও কমবে। আপনারা জানেন, গত বছর শেষের দিকে মূল্যস্ফীতি বিশেষ করে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১৪ শতাংশ পর্যন্ত উঠেছিল। এখন খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে ৭ শতাংশের কাছাকাছি এসেছে।
“চলতি অর্থবছরের শেষ নাগাদ মূল্যস্ফীতি ৭ এ নেমে আসবে এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৫ শতাংশ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে, এটা আজকে জানানো হয়েছে।”
বাজেট নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনা
বাজেটের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন তুলে ধরে প্রেস সচিব বলেন, “বাজেটে যাতে আমাদের নিজেদের ওপর নির্ভরতা আমরা যাতে আরও বেশি বাড়াতে পারি। আমরা অনেক ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় বৈদেশিক ঋণ নিয়ে আমরা অনেক প্রকল্প করি, সেগুলো থেকে আস্তে আস্তে সরে এসে–কত বেশি নিজস্ব অর্থায়নে কত বেশি প্রকল্প নেওয়া যায়, সে বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা নির্দেশনা দিয়েছেন।
“তিনি বলেছেন, শিক্ষা, বিশেষ করে মান সম্পন্ন শিক্ষার কথা উনি খুব বলেছেন যে, এটা সবচাইতে বেশি প্রাধান্য দিতে হবে।“
তিনি বলেন, “আরেকটা হচ্ছে পল্লী উন্নয়ন, বাংলাদেশের কৃষকরা এ বছর রেকর্ড পরিমাণ খাদ্যশস্য উৎপন্ন করছে, তাদেরকে যাতে ফোকাস করে। তারা যাতে এই বাজেটের সুবিধাটা পান বা তাদের জীবনযাত্রাকে যাতে আরও ভালো করা যায়, পল্লী উন্নয়ন যত ফোকাস দেওয়া যায়, সেই বিষয়ে উনি বলেছেন।
“উনি তরুণদের উপর ফোকাস দিতে বলেছেন- বাংলাদেশ একটা তারুণ্যের খনি। আমাদের এই তরুণদের যেভাবেই হোক, তাদের প্রতি ফোকাস দিতে হবে। নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারীদের ওপরে বাজেটের আরও ফোকাস বাড়াতে বলেছেন।”
একই সঙ্গে স্থানীয় উৎপাদন ও স্বাস্থ্যখাতেও প্রধান উপদেষ্টা জোর দিয়েছেন বলে তুলে ধরেন প্রেস সচিব।