Published : 03 May 2026, 09:00 PM
ইরান যুদ্ধের মধ্যেও প্রবাসী আয়ের ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। সদ্য শেষ হওয়া এপ্রিলে প্রায় ৩১৩ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী প্রবাসীরা। আগের বছরের একই মাসের চেয়ে তা ১৩ দশমিক ৬২ শতাংশ বেশি।
এ নিয়ে টানা পাঁচ মাস তিন বিলিয়নের বেশি রেমিটেন্স এল দেশে। আগের অর্থবছরের এপ্রিলে ২৭৫ কোটি ২৩ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।
রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দশম মাস এপ্রিলের ৩১২ কোটি ৭০ লাখ (৩.১২ বিলিয়ন) ডলারসহ ১০ মাসে মোট রেমিটেন্স এসেছে ২৯ দশমিক ৩২ বিলিয়ন (২ হাজার ৯৩৩ কোটি) ডলার। আগের অর্থবছরের চেয়ে একই সময়ের চেয়ে তা ১৯ দশমিক ৫৪ শতাংশ বেশি।
২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে ২৪ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।
রেমিটেন্সে প্রতি ডলারে এখন ১২৩ টাকা দিচ্ছে ব্যাংকগুলো। সে হিসাবে এপ্রিলে ৩৮ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। প্রতিদিন গড়ে এসেছে ১০ কোটি ৪২ লাখ ডলার; টাকায় ১ হজার ২৮২ কোটি টাকা।
ব্যাংকাররা বলছেন, বছরের বাকি দুই মাসে এ হারে রেমিটেন্স এলে তা গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের রেকর্ড ছাপিয়ে ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। গত অর্থবছরে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৩৩ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলার দেশে পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা, যা ছিল আগের অর্থবছরের (২০২৩-২৪) চেয়ে ২৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ বেশি।
অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ সূচক রেমিটেন্সের ঊর্ধ্বগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, রোজার ঈদের পরও রেমিটেন্সের ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত ছিল। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখেও বেশি আসবে। আশঙ্কা করা হচ্ছিল ইরান যুদ্ধের কারণে পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিরতার কারণে রেমিটেন্স প্রবাহ কমে যাবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো প্রভাব পড়েনি।
রেমিটেন্সের হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি–টানা তিন মাস ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিটেন্স আসে। মার্চে আসে আরও বেশি একক মাসের রেকর্ড পৌনে ৪ বিলিয়ন ডলার।
এর আগে এক মাসে সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স এসেছিল ২০২৫ সালের মার্চে; ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার। ওই মাসেও রোজা ও ঈদ সামনে রেখে রেকর্ড হয়েছিল প্রবাসী আয়ে।
রেমিটেন্সের এ ইতিবাচক ধারায় ভর করে যুদ্ধের ধাক্কায় ওলোটপালট হয়ে যাওয়া বিশ্ব পরিস্থিতির মধ্যেও বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে।
রোববার দিন শেষে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতি হিসাবে বাংলাদেশের রিজার্ভ ছিল ৩০ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার। গ্রস বা মোট হিসাবে তা দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার।
গত সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ছিল ৩০ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার। গ্রস হিসাবে যা ছিল ৩৫ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলার।
প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সে উল্লম্ফনের পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ডলার কেনার কারণে রিজার্ভ এ অবস্থায় পৌঁছেছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে মোট ৫৭১ কোটি ৩৫ লাখ ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বর্তমানের এই রিজার্ভ দিয়ে সাড়ে চার মাসের বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো যাবে।
বাংলাদেশের রিজার্ভের প্রধান দুই উৎস রপ্তানি আয় ও রেমিটেন্স। গত আট মাস ধরে রপ্তানি আয় টানা কমলেও রেমিটেন্সের উল্লম্ফন অব্যাহত থাকায় রিজার্ভ একটা পর্যায়ে রয়েছে। আমদানি ব্যয় পরিশোধের পরও খুব বেশি কমেনি রিজার্ভ।
গত ৮ মার্চ রিজার্ভ থেকে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মেয়াদের ১৩৫ কোটি ৮৭ ডলার আমদানি বিল পরিশোধ করা হয়। তখন বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ কমে ২৯ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার হয়েছিল।
চলতি সপ্তাহে আবার আকুর মার্চ-এপ্রিল মেয়াদের আমদানি বিল পরিশোধ করতে হবে।