বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের ‘ইতিবাচক গল্প’ শোনাল ব্লুমবার্গ

বাংলাদেশে বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্যাম্পেইনে সহযোগী হিসাবে যুক্ত হয়েছে ব্লুমবার্গ।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 25 July 2022, 07:45 PM
Updated : 25 July 2022, 07:45 PM

পাঁচটি দেশের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের পাঁচশ নেতৃস্থানীয় ব্যক্তির উপর চালানো জরিপের সূত্র ধরে খ্যাতিমান সংবাদ মাধ্যম ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, তাদের এক-পঞ্চমাংশ আগামী তিন বছরে বাংলাদেশে বিনিয়োগের লক্ষ্য হিসাবে বিবেচনা করেছে।

সোমবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে ওই জরিপের ফলাফল তুলে ধরে ব্লুমবার্গের রিজিওনাল স্ট্র্যাটেজি প্রধান অ্যান্ড্রু বগস বলেন, “পাঁচটি বাজারে আমরা জরিপ করেছি, যেখানে ব্যবসায় সিদ্ধান্তগ্রহণকারী ৫০০ জনের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি।

“তাদের পাঁচজনে একজন আগামী তিন বছরে বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় হিসাবে উল্লেখ করেছেন। বাংলাদেশকে এফডিআইয়ের জন্য বিবেচনা করার কথা বলেছেন ৫৫ শতাংশ। এটা খুবই ইতিবাচক গল্প।”

বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং নিয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড একচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও ব্লুমবার্গ এলপি আয়োজিত সেমিনারে ওই গবেষণা জরিপ তুলে ধরা হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ওই অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য ছিল ‘নেশন বিল্ডিং: অ্যাট্রাক্টিং নিউ ট্যালেন্ট অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ওয়ার্ল্ডওয়াইড’।

বাংলাদেশে বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য ’দ্য রাইজ অব বেঙ্গল টাইগার’ শিরোনামে এসইসি ২০২১ সালে ১৬ মাসের যে ক্যাম্পেইন শুরু করে, তাতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সহযোগী হিসাবে যুক্ত হয় নিউ ইয়র্কভিত্তিক ব্লুমবার্গ।

এই সময়ে গণমাধ্যমটির বিভিন্ন মাধ্যমে এদেশে বিনিয়োগের সুযোগ ও উন্নয়নযাত্রার গল্প তুলে ধরা হয়। প্রায় এক বছরের মাথায় ঢাকায় সোমবারের অনুষ্ঠানে ওই ক্যাম্পেইনের নানা দিক উঠে আসে।

অনুষ্ঠানে ব্লুমবার্গের এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের মিডিয়া সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং বিষয়ক ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুনিতা রাজন বলেন, ব্লুমবার্গের ৭৫% পাঠক-দর্শক ক্যাম্পেইনের যে কোনো একটি কনটেন্ট দেখেছেন।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ গন্তব্য হওয়ার বিষয়ে বৈশ্বিক মনোভাবের পরিবর্তন হওয়ার কথা তুলে ধরে অ্যান্ড্রু বগস বলেন, “বৈশ্বিক খবর প্রকাশের ক্ষেত্রে ব্যবসায় সুযোগের দিকে ধাবিত হওয়ার ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।”

২০২১ সালের শেষার্ধ ও ২০২২ সালের প্রথমার্ধের তুলনা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ব্যবসায় সুযোগের ক্ষেত্রে যেসব বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে, তাতেও পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।

“ই-কমার্স ও আইসিটি খাতে ব্যবসায় সুযোগ এবং এর সাথে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) সংযোগ বৃদ্ধি করে এগোনোর সুযোগ রয়েছে।”

স্থানীয় জনশক্তিকে তৈরি, সরকারি নিয়ন্ত্রক সংস্থা, কার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থা, মেধাস্বত্ত্ব, মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল রাখা, কর আহরণের আধুনিকায়ন, মানবাধিকার, স্বচ্ছতা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প নিয়ে কাজ করার সুযোগ থাকার কথা উল্লেখ করেন অ্যান্ড্রু বগস।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ নিজেকে বদলে দিয়েছে। এটা এখন আর মুখে বলতে হয় না, পরিসংখ্যানই তুলে ধরছে।”

তিনি বলেন, “আমাদের এখন গভীর সমুদ্রবন্দর নাই। আগামী ৩-৪ বছরের মধ্যে মাতারবাড়িতে গভীর সমুদ্রবন্দর চালু হয়ে গেলে তা অর্থনীতির গেমচেঞ্জার হয়ে উঠবে।

”সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের উদ্বোধন করা পদ্মা সেতুও হয়ে উঠবে গেমচেঞ্জার। দুই প্রান্তের অর্থনীতিকে এটা একীভূত করবে। এটা আমাদের অর্থনৈতিক যে অগ্রগতি তাতে নতুন পালক হিসাবে যুক্ত হলো।”

দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকার কথা তুলে ধরে সালমান রহমান বলেন, “আমাদের ইভিএম বহু দেশের চেয়ে উন্নত, যা ২০১৪ সাল থেকে অল্প পরিসরে ব্যবহার হয়ে আসছে। স্থানীয় নির্বাচনে বড় পরিসরে ব্যবহার হয়েছে। কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে প্রমাণ হয়েছে এটার সক্ষমতা। এই বিষয়গুলো আমাদের তুলে ধরা উচিত।”

তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি খাত ও কৃষি পণ্য প্রক্রিয়াকরণের খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।

এসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, ঢাকায় ব্রিটিশ হাই কমিশনার রবার্ট ডিকসন বক্তব্য দেন।

অর্থনীতি বিশ্লেষক মাসরুর রিয়াজের সঞ্চালনায় প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, বালাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাসের এজাজ বিজয়, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহীম, এফবিসিআইয়ের পরিচালক আবুল কাশেম খান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক সৈয়দ মুনতাসির মামুন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক