Published : 20 May 2026, 11:13 PM
বছরের শেষ দিকে এসে আদায়ের পরিমাণ বাড়লেও চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা থেকে রাজস্ব আহরণের ঘাটতি এখনও ব্যাপক। লক্ষ্য ছুঁতে শেষ দুই মাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) ১ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকা আদায় করতে হবে।
এ হিসাবে মে ও জুনে প্রতি মাসে আদায় করতে হবে গড়ে ৮৮ হাজার কোটি টাকা করে; যেখানে এনবিআর গত ১০ মাসে গড়ে প্রতি মাসে আদায় করেছে ৩২ হাজার কোটি টাকা করে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজস্ব আহরণের ধারা বিশ্লেষণ করে এনবিআরের কর্মকর্তা ও অর্থনীতির বিশ্লেষকরা বলছেন, শেষ দুই মাসে এত বিপুল রাজস্ব আদায় কোনোভাবেই সম্ভব নয়। যে কারণে অন্তর্বর্তী সরকারের বেঁধে দেওয়া লক্ষ্যমাত্রা থেকে এবারও অনেক দূরে অর্থবছর শেষ করবে এনবিআর।
বুধবার প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, লক্ষ্যমাত্রা থেকে ঘাটতি বিশাল হলেও দেশের রাজস্ব আদায়কারী সংস্থাটি চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে ১০ দশমিক ৬০ শতাংশ প্রবৃদ্ধির মুখ দেখেছে। সাধারণত এটি ১৫ শতাংশের আশপাশে থাকতে দেখা যায়। এ সময়ে মোট ৩ লাখ ২৬ হাজার ৯২৮ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে।
গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ২ লাখ ৯৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।
অপরদিকে চলতি অর্থবছরের বাজেটে অন্তর্বর্তী সরকারের দেওয়া সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী এনবিআরের মাধ্যমে ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা আহরণ করতে হবে। বাজেটে যা ধরা হয়েছিল ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা।
এ হিসাবে জুলাই থেকে এপ্রিল সময়ের মোট রাজস্ব আহরণ মোট সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা থেকে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৭২ কোটি টাকা পিছিয়ে রয়েছে।

রাজস্ব আদায়ে ধীর গতির কারণ হিসেবে এনবিআরের কর্মকর্তা ও অর্থনীতির বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগ সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় থেকে শুরু হওয়া অর্থনীতির স্থবিরতায় ব্যবসা-বাণিজ্যে ধীর গতি দেখা দেয়। বিনিয়োগেও খরা দেয়। এসব কারণে রাজস্ব আদায়ে তৈরি হওয়া ধীর গতি চলতি অর্থবছরের শুরুতে অব্যাহত ছিল।
অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে সব মিলিয়ে আগের অর্থবছরের একই সময়ের রাজস্ব আদায় বাড়ে ২০ দশমিক ৮০ শতাংশ।
এরপরেই ধাক্কা আসে অক্টোবরে; প্রবৃদ্ধি হয় কেবল ৩ দশমিক ৩১ শতাংশ। পরের দুই মাস নভেম্বর ও ডিসেম্বরে প্রবৃদ্ধি কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও শেষ ধাক্কা এসে লাগে তৃতীয় প্রান্তিকের শুরুতে জানুয়ারিতে। পরের মাস ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের পর নতুন সরকার এলেও রাজস্ব আদায় পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়। ফেব্রুয়ারিতে এক অঙ্কের ঘরেই ছিল প্রবৃদ্ধি। পরের মাস মার্চেও রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয় ২ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
ইরান যুদ্ধের কারণে আবার নতুন করে শুরু হওয়া অনিশ্চয়তায় এপ্রিলেও প্রবৃদ্ধি খুব বেশি বাড়েনি। প্রবৃদ্ধির হার একক অঙ্কেই সীমাবদ্ধ ছিল; আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে বেড়েছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ।