Published : 02 Jun 2026, 03:53 PM
তিন মাসের ব্যবধানে দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের হার আবার বেড়েছে। মার্চ প্রান্তিকে মন্দ এই ঋণের হার দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ হয়েছে।
যদিও ডিসেম্বরে আগের প্রান্তিকের চেয়ে খেলাপি ঋণের হার কমে দাঁড়িয়েছিল ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩ হাজার ৭৫৩ কোটি টাকা। মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা।”
তিনি বলেন, “বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি হতাশাজনক। সেজন্য আগের খেলাপি ঋণের সুদ যোগ হয়ে মোট পরিমাণ ও হার দুটোই বেড়েছে।’’
এর আগে ঋণ আদায় ও পুনঃতফসিল সুবিধার কারণে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণ নবায়ন হওয়ায় দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ গত ডিসেম্বেরে হয় ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৬ কোটি টাকা।
এর তিন মাস আগে সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে মোট ঋণের মধ্যে খেলাপির হার ছিল ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ। ওই সময় খেলাপির পরিমাণ ছিল ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা। মোট ঋণ স্থিতি ছিল ১৮ লাখ ৩ হাজার ৮৩৯ কোটি টাকা।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, মার্চে মোট ঋণ স্থিতি দাঁড়ায় ১৮ লাখ ২৪ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা, যা গত ডিসেম্বরে ছিল ১৮ লাখ ২০ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা। এই তিন মাসে নতুন ঋণ বেড়েছে ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা।
দেশের ইতিহাসে ২০১৯ সালের মার্চেই প্রথমবারের মত খেলাপি ঋণ লাখের ঘর পেরিয়ে এক লাখ ১০ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা হয়। এর পর থেকে বাড়তে থাকে খেলাপি ঋণ।
আগের বছররের এই সময়ে অর্থাৎ ২০২৫ সালের মার্চে খেলাপি ঋণের হার ছিল ২৪ দশমিক ১৩ শতাংশ। সে সময়ে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ২০ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা। বিতরণকৃত ঋণ স্থিতি ছিল ১৭ লাখ ৪১ হাজার ৯৯২ কোটি টাকা।
সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে খেলাপি ঋণের হার বেড়েছে ৮ দশমিক ১৩ শতাংশীয় পয়েন্ট।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ শেষে খেলাপির বিপরীতে ব্যাংকগুলোর নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে ৪ লাখ ৬১ হাজার ৭১৪ কোটি টাকা। কিন্তু রাখা হয় ২ লাখ ৫৬ হাজার ৪৮ কোটি টাকা।
প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে ২ লাখ ৫ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা। এর মানে দাঁড়াচ্ছে বিতরণকৃত ঋণের মধ্যে মাত্র ৫৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ ঋণের বিপরীতে প্রয়োজনীয় প্রভিশন রাখতে পেরেছে ব্যাংক খাত।
খেলাপি হওয়া ঋণের মধ্যে আদায় অযোগ্য ঋণ হচ্ছে ৫ লাখ ৫১ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা, যা খেলাপি ঋণের ৯৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ।
তিন মাস আগে খেলাপি ঋণের মধ্যে আদায় অযোগ্য ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ২৩ হাজার ৭১২ কোটি টাকা। আদায় অযোগ্য খেলাপি হার ছিল ৯৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ।
অন্য দিকে এক বছরে আগে আদায় অযোগ্য ঋণের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৪২ হাজার ৬৪ কোটি টাকা। মোট খেলাপির ঋণের মধ্যে সে সময়ে আদায় অযোগ্য ছিল ৮১ দশমিক ৩৮ শতাংশ। মার্চ শেষ আদায় অযোগ্য খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২৭ হাজার ৮৪৩ কোটি টাকা।