এনবিআর দুই ভাগ: অধ্যাদেশ বাতিলের দাবিতে রোববারও কলম বিরতি
আগের মতই আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবা, রপ্তানি কার্যক্রম এবং জাতীয় বাজেট প্রণয়ন কার্যক্রম এর আওতামুক্ত থাকবে।
দাবি আদায়ে সরকারের তরফে কোনো পদক্ষেপ না আসায় আবার একদিনের জন্য কলম বিরতির ঘোষণা দিয়েছে ‘এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ’।
রোববার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের এ সংগঠন।
এর আগে বুধবার থেকে তিন দিনের কলম বিরতি কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটি যা শেষ হয় শনিবার।
এদিন সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নতুন এ কর্মসূচির কথা জানিয়েছে সংগঠনটি, যাতে বলা হয়েছে– আগের মতই আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবা, রপ্তানি কার্যক্রম এবং জাতীয় বাজেট প্রণয়ন কার্যক্রম এর আওতামুক্ত থাকবে।
এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ বলছে, দেশের সব কর অঞ্চল, ভ্যাট কমিশনারেট ও শুল্ক স্টেশনসহ এনবিআরের সব দপ্তরে এ কর্মসূচি পালন করা হবে।
এনবিআরকে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নামে আলাদা করতে গত ১৭ এপ্রিল খসড়া অধ্যাদেশে অনুমোদন দেয় উপদেষ্টা পরিষদ। এরপর ১২ মে অধ্যাদেশ জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার।
তবে অধ্যাদেশের খসড়া সামনে আসার পর থেকে এই দুই ক্যাডারদের কর্মীরা এটি বাতিলের দাবি তোলেন।
অধ্যাদেশ জারির পর বিভিন্ন অনুচ্ছেদে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও নীতির বিষয়ে ‘অভিজ্ঞতাকে’ আমলে না নিয়ে অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পদায়নের সুযোগ রাখায় শুল্ক ও কর ক্যাডার ও এনবিআরের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।
শনিবার নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে বিজ্ঞপ্তিতে পরিষদ বলেছে, “আমরা আরও জানাতে চাই, আমাদের এই আন্দোলন বরাবরই একটি নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন। গতকাল কতিপয় বহিরাগত অনুপ্রবেশ করানোর মাধ্যমে আমাদের আন্দোলনে বিশৃংখলা সৃষ্টির অপচেষ্টাকে আমরা তীব্র নিন্দা জানাই।
“আপনারা জানেন, সাধারণ সদস্যগণের মতামতের ভিত্তিতে বিসিএস (ট্যাক্সেশন) এসোসিয়েশন এর অনির্বাচিত নির্বাহী কমিটিকে অবৈধ ও বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। অপরদিকে, বিসিএস কাস্টমস অ্যান্ড ভ্যাট অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী কমিটির প্রায় সকল সদস্য পদত্যাগ করায় এটিও অকার্যকর হয়ে পড়েছে। সুতরাং, এই দুই অ্যাসোসিয়েশন এখন আর এই দুই ক্যাডার সার্ভিসের কর্মকর্তাগণের প্রতিনিধিত্ব করে না। এমতাবস্থায়, বিলুপ্ত ও অকার্যকর এই দুই কমিটির নামে যে কোনো বক্তৃতা, বিবৃতি ব্যক্তিগত বলে গণ্য হবে।”
