১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রথম প্রান্তিকে বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে ১১৪%

“ট্রাম্পের শুল্ক বিনিয়োগ বাড়ার একটা কারণ হতে পারে। যিনি আগে চীনে বিনিয়োগ করতেন, তিনি হয়ত এখন বাংলাদেশে করবেন,” মনে করেন অর্থনীতিবিদ মাজেদুল হক।

প্রথম প্রান্তিকে বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে ১১৪%
ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 13 Jul 2025, 04:51 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:22 PM

চলতি ২০২৫ সালের প্রথম তিন মাসে আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) ১১৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেড়েছে। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি বছর প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) দেশে বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে ১৫৮ কোটি ডলারের মতো। সুদ-আসলসহ একই সময়ে বিনিয়োগকারীরা নিয়ে গেছেন ৭১ কোটি ১০ লাখ ডলার।  সেই হিসাবে নিট বিদেশি বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার। 

মূলত বিদেশ থেকে যত বিনিয়োগ আসে এবং সেই সময়ে বিনিয়োগের যে পরিমাণ অর্থ দেশের বাইরে যায়, সেটা যোগবিয়োগের পর যা থাকে, সেটাই নিট বিদেশি বিনিয়োগ ধরা হয়।

গত বছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশে বিদেশি বিনিয়োগ আসে ১০৫ কোটি ডলার। আর সে সময় দেশ থেকে বেরিয়ে যায় ৬৫ কোটি ১০ লাখ ডলার। সেই হিসাবে বিদেশি বিনিয়োগ এসেছিল প্রায় ৪০ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

সেন্টার ফর ইস্ট এশিয়ান ফাউন্ডেশনের রিসার্চ বিভাগের পরিচালক ও অর্থনীতিবিদ মাজেদুল হক মনে করেন, বেশ কয়েকটি কারণে বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে। 

তিনি বলেন, “বাংলাদেশে যে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ে, তার মধ্যে বড় একটা অংশ পুনর্বিনিয়োগ হয়।  সামাজিক ও অর্থনীতির নানা অস্থিরতার মধ্যে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ার কথা নয়। তবে প্রথম প্রান্তিকে বেড়েছে। 

“বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ার কারণ হচ্ছে ট্রাম্পের শুল্ক যুদ্ধ। যে বিদেশি ব্যবসায়ী আগে চীনে বিনিয়োগ করত, সে এখন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করবে।” 

তিনি বলেন, “ভিয়েতনামে শুল্ক আরও কম। তাই আবার দেখা যাবে যে বাংলাদেশ থেকে বিদেশি বিনিয়োগ ভিয়েতনামে চলে যাবে।”

এতদিন বাংলাদেশের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কহার ছিল গড়ে ১৫ শতাংশ, এখন নতুন করে আরও ৩৫ শতাংশ শুল্ক বাড়ায় এটি দাঁড়াবে ৫০ শতাংশে। ১ অগাস্ট থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

৫ অগাস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে মুহাম্মদ ইউনূসকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। 

মাজেদুল হক মনে করেন, অনির্বাচিত সরকারের সময় বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ার পেছনে ‘ব্যক্তি সম্পর্কের’ প্রভাবও থাকতে পারে। 

তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার যেটা অনির্বাচিত; এ সময় বিনিয়োগ বাড়ার কোনো কারণ নেই। তবে ব্যক্তিগত কিছু সম্পর্কের জন্য বিদেশি বিনিয়োগ বেড়ে থাকে। তাই কিছু ভূরাজনৈতিক কারণে বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে।”  

২০২৪ সালে বাংলাদেশের ঋণমান সূচক কমিয়ে দেয় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক রেটিং সংস্থা ফিচ। রেটিং নেতিবাচক করার কারণ হিসেবে বলা হয়, রিজার্ভ কমে যাওয়া এবং ডলারের সরবরাহ সংকট বাংলাদেশের বিদেশি ঋণ পরিশোধের মত বাহ্যিক বিষয়গুলোকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

গত দুই বছরে যুক্তরাষ্ট্রের আরেক রেটিং এজেন্সি মুডিস, এসঅ্যান্ডপি (স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওরস) ঋণমানের অবনমন করেছে।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশের সার্বভৌম ক্রেডিট রেটিং বা ঋণমান সূচক অবনমন করে ‘বি প্লাস’ করে আন্তর্জাতিক ঋণমান সংস্থা এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল। 

সংস্থাটি ঋণমান কমার প্রধান কারণ হিসেবে বলছে, বাংলাদেশে বিদেশি অর্থায়নে চাহিদার চেয়ে জোগান কম; বিদেশি লেনদেন স্থিতিশীল নয়। এতে বিদেশি লেনদেনে ভারসাম্যহীনতা দেখা দিয়েছে।