Published : 07 Jan 2026, 12:41 PM
ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোয় যেন মূল্য সংযোজন কর-মূসক বা ভ্যাট রিফান্ড প্রাপ্তিতে ভোগান্তি দূর হয় সেজন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর অনলাইনে এর প্রক্রিয়া চালু করেছে।
বুধবার স্বয়ংক্রিয় এ পদ্ধতি চালুর সময় তিনটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান তাৎক্ষণিক তাদের ভ্যাট রিফান্ড পেয়েছে।
অপর প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও তাদের ব্যাংকের তথ্য ঠিক না থাকায় তারা তখন রিফান্ডের অর্থ পায়নি।
এদিন রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনে অনলাইনে ভ্যাট রিফান্ড চালু কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন এনবিআরের চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান।
তিনি বলেন, "বর্তমানে ম্যানুয়াল প্রসেসে রিফান্ড দেওয়ার জন্য যে পদ্ধতিটা আছে হুবহু সেটাকে ফলো করেই আমরা এটাকে ইলেকট্রনিক সিস্টেমে নিয়ে গেছি।
“আমরা ইলেকট্রনিক সিস্টেমটা চালু করে দিই, তারপর আমরা দেখব যদি প্রসেসটা আরও সহজ করা লাগে আমরা আইন সংশোধন করব।"
১২৪টি আগের আবেদনের মধ্যে চারটি আবেদনের পর এর সকল প্রক্রিয়া আগেই সম্পন্ন করে রাখা হয়েছিল। এ সময় কেবল ই-ভ্যাট সিস্টেমের মাধ্যমে তাদের রিফান্ড সম্পন্ন হয়।
এর জন্য ই-ভ্যাট সিস্টেমে একটি নতুন রিফান্ড মডিউল সংযোজন করা হয়েছে। এ ব্যবস্থায় অর্থ বিভাগের আইব্যাস++ এর সঙ্গে সংযোগ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিইএফটিএনের মাধ্যমে করদাতাদের নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে প্রাপ্য রিফান্ডের অর্থ সরাসরি স্থানান্তর করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
অনলাইন রিফান্ড সিস্টেমে করদাতা অনলাইনে তার মাসিক মুসক রিটার্নের মাধ্যমে প্রাপ্য রিফান্ডের জন্য আবেদন করার পর সংশ্লিষ্ট মুসক কমিশনারেট আবেদনটি প্রক্রিয়াকরণের পর তার ব্যাংকের তথ্য ভেরিফাই হবে।
পরবর্তীতে প্রাপ্য অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে করদাতার ব্যংক হিসাবে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হবে এ মাধ্যমে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংক মিলে এর ভেরিফিকেশনের সকল প্রক্রিয়া সারতে কেবল ৩০ মিনিটের মত সময় লাগছে বলে তুলে ধরা হয় অনুষ্ঠানে। আরও বলা হয় এই কাজটিও হবে হবে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে।
এদিন অনলাইন সিস্টেমের মাধ্যমে ঢাকার তিনটি ভ্যাট কমিশনারেটের তিনজন করদাতার ব্যাংক হিসাবে সরাসরি ৪৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ভ্যাট ফেরত প্রদান করা হয়।
ভ্যাটের রিফান্ড পেয়ে আম্বার গ্রুপের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার মো. ইমরান হোসেন অনুষ্ঠানে বলেন, "এটা আসলে একটি প্রশংসনীয় এবং যুগান্তকারী উদ্যোগ। আমরা যারা টেক্সটাইল বিজনেস করি, আমাদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এতদিন আসলে এটা ছিল সময়সাপেক্ষ এবং জটিল প্রক্রিয়া।

"আজকে সেই প্রক্রিয়া যে প্রক্রিয়া উদ্বোধন হল এটা অনেক স্বচ্ছ, সহজ এবং আমরা সহজেই পাবো। আমরা আশা করব ভবিষ্যতেও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এরকম শিল্পবান্ধব এবং করবান্ধব পদক্ষেপ নেবে যাতে আমরা ব্যবসায়ীরা আরও সহজে এবং মানে স্মুদলি বিজনেস করতে পারি।"
বর্তমানে কত পরিমাণ অর্থ ভ্যাট ও আয়করে রিফান্ডের জন্য বাকি রয়েছে এমন প্রশ্নে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, “এটি সাকুল্যে ৪ হাজার কোটি টাকার মত হবে। ভ্যাটে কম। এটি ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার মত হবে।
"কোনো রকমের কোনো ভোগান্তিতে জড়িত না থাকে, তাহলে কেবলমাত্র আমার কালেকশন কমে যাবে সেজন্য আমি রিফান্ড দিব না—এরকম না। আমরা এটাকে কমপ্লিটলি স্বচ্ছ করতে চাই যে এখানে কেউ কোনো রকমের কোনো অনিয়মের আশ্রয় নেয় নাই।”
তিনি বলেন, “কারণ দেখেন, ট্যাক্সপেয়ারের এটা ন্যায্য পাওনা। ট্যাক্সপেয়ার ব্যাংক থেকে চড়া হারে ঋণ নিয়ে এই টাকাটা আমাকে দিয়েছে। দীর্ঘদিন সরকারের কাছে পড়ে আছে। আমি তাকে কোনো সুদও দিচ্ছি না। আবার তাকে যদি এই রিফান্ড নেওয়ার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়, এটা কিন্তু আমি মনে করি যে তাহলে আমরা আমাদের ট্যাক্সপেয়ারদের প্রতি আমরা ন্যায্য আচরণ করছি না।"
অর্থবছরে এনবিআর ৪ লাখ কোটি টাকা আয় করলে এমন চার হাজার কোটি টাকা দেওয়া অসুবিধা হবে না বলে সংস্থাটির চেয়ারম্যান জানান।