Published : 08 Dec 2025, 01:37 PM
এনবিআর বিলুপ্ত করে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নামে যে দুটি বিভাগ করা হয়েছে, তা কার্যকর করে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই দুইজন সচিব দেখা যাবে বলে জানিয়েছেন সংস্থার চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খান।
চলতি ডিসেম্বর মাসের মধ্যে কিছু আমলাতান্ত্রিক কাজ শেষ করে এই সরকারের সময়েই দুটি বিভাগের কার্যক্রম শুরু করা যাবে বলে আশা করছেন তিনি।
আব্দুর রহমান খান বলেন, "আপনারা জানেন যে পলিসি (রাজস্ব নীতি) এবং ট্যাক্স ম্যানেজমেন্টের সেপারেশনের সব আইনি প্রক্রিয়া অলমোস্ট শেষ। এখন হচ্ছে ইমপ্লিমেন্টেশন প্রসেস। আমরা সেখানেও খুব দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছি। আমাদের অ্যালোকেশন অফ বিজনেস প্রায় চূড়ান্ত। রুলস অফ বিজনেস প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে।
"এখন অর্গানোগ্রাম এবং অর্গানোগ্রাম রিলেটেড বাকি কাজগুলো, এগুলোর খসড়া চূড়ান্ত হয়ে গেছে। আমরা এগুলোর যে বুরোক্রেটিক প্রসেস আছে, হয়ত এ মাসের মধ্যেই শেষ করে আমরা আশা করি যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলেই আপনারা দুই বিভাগে দুইজন সচিব দেখতে পাবেন।"
সোমবার শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের অর্থনীতি বিষয়ক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন এনবিআর চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, দুই বিভাগ প্রতিষ্ঠার কাজ বাস্তবায়ন হলে ‘স্বাধীনভাবে’ কর নীতি প্রণয়ন করা যাবে। আর সেই নীতি প্রণয়ন করা হবে ‘দেশের স্বার্থে, ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বার্থে, দেশের জনগণের স্বার্থে’।
"আমরা আশা করি যে তাতে করে রেভিনিউও বাড়বে। অ্যাট দ্য সেইম টাইম যে ইনজাস্টিস এবং বৈষম্য যেগুলো আছে, সেগুলো দূর করা সম্ভব হবে।"
গত ১২ মে এনবিআর বিলুপ্ত করে ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করে সরকার। পরদিন থেকে আন্দোলনে নামেন এ সংস্থার কর্মীরা। অবস্থান ধর্মঘট, কলমবিরতিসহ নানা কর্মসূচি পালন করেন তারা।
তাদের দাবি ছিল, এনবিআরের শীর্ষ পদে প্রশাসন ক্যাডার থেকে আসা সচিবদের যেন না বসানো হয়। এর পরিবর্তে বিসিএস (কর) ও বিসিএস (শুল্ক ও আবগারি) ক্যাডারের অভিজ্ঞদেরকেই যেন নিয়োগ দেওয়া হয়।
তাদের দাবির মুখে অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন থেকে সরে আসে সরকার। তখন সরকারের তরফে সংশোধনের কথা বলা হয়।
এ আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ায় এবং যুক্ত থাকায় শতাধিক কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত কিংবা বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। কারো কারো বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। অনেক কর্মকর্তাকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়।
এনবিআরকে বিলুপ্ত করে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ নামে যে দুই ভাগ করা হচ্ছে, সেগুলোর শীর্ষ পদে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ সরকারি কর্মচারীদের দায়িত্ব দেওয়ার বিধান রেখে পরে অধ্যাদেশ সংশোধন করা হয়।
পাশাপাশি ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এর সংশোধনে ১১টি পরিবর্তন আনা হয়।