রিজার্ভ কোন খাতে খরচ হচ্ছে, হিসাব দিলেন প্রধানমন্ত্রী

“টাকা কেউ চিবিয়েও খায়নি, গিলেও খায়নি, নিয়েও যায়নি।”

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 12 Nov 2022, 07:10 AM
Updated : 12 Nov 2022, 07:10 AM

রিজার্ভ নিয়ে আলোচনার মধ্যে এই অর্থ কোন কোন খাতে খরচ হচ্ছে, তার হিসাব দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা; বললেন, অর্থ অপচয় তার সরকার করে না।

“টাকা কেউ চিবিয়েও খায়নি, গিলেও খায়নি, নিয়েও যায়নি”- এ মন্তব্য করে তিনি বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে দুর্নীতি করেছিল বলেই তারা দুর্নীতির সন্দেহ করছে।

শনিবার ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের নির্মাণ কাজ উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে রিজার্ভ নিয়ে কথা বলেন সরকার প্রধান। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই কাজ উদ্বোধন করেন তিনি।

কোভিড মহামারীর মধ্যে ইউক্রেইন যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্বের অর্থনীতিতে যে ধাক্কা লেগেছে, তার ধকল বাংলাদেশকেও সইতে হচ্ছে। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয়ন ৪৮ বিলিয়ন ডলার থেকে ৩৪ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।

রিজার্ভ কমে যাওয়া নিয়ে বিএনপি নেতারা অভিযোগ করছেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বিদেশে অর্থ পাচার করছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, “আমাদের বিরোধী দল থেকে প্রায়ই রিজার্ভের টাকা গেল কোথায়, এই নিয়ে প্রশ্নও করে এবং সেই সাথে সাথে সারা বাংলাদেশে এটা একটা অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা করে।”

বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে রিজার্ভের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, “তাদেরকে আমি বলতে চাই, বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন রিজার্ভ ছিল মাত্র ২.৯ বিলিয়ন ইউএস ডলার। আর ২০০১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত এটা বৃদ্ধি পেয়েছিল মাত্র ৫ বিলিয়নের মতো। সেই জায়গা থেকে আমরা এই রিজার্ভ প্রায় ৪৮ বিলিয়নের কাছাকাছি বৃদ্ধি করতে সক্ষম হই।”

মহামারী ও যুদ্ধের কারণে এখন আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারাবিশ্বে পরিবহন খরচ, জ্বালানি তেল, ভোজ্য তেল, গম, ভুট্টাসহ যে সমস্ত পণ্য আমদানি করতে হয়, সে সব জিনিসেরই সব দাম বেড়ে গেছে।

অর্থ খরচের খতিয়ান দিয়ে তিনি বলেন, “কাজেই আমরা যেটুকু খরচ করেছি, সেটা হল জনগণের স্বার্থে, জনগণের কল্যাণে। জনগণের খাদ্য কেনা, ক্যানসারের ওষুধ কেনা, জনগণের মঙ্গলের জন্য আমাদের করতে হয়েছে। সার, জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ আমাদের কিন্তু ক্রয় করতে হচ্ছে। নগদ টাকা দিয়ে আমরা কিনছি।”

রিজার্ভের অর্থ দিয়ে উড়োজাহাজ কেনা এবং নদী ড্রেজিংও করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কিছু কিছু আমরা বিনিয়োগ করছি এই কারণে সেটা হলো আমরা যদি অন্য দেশের এক্সিম ব্যাংক থেকে লোন নিই, আমাকে সুদসহ সেই ডলার পরিশোধ করতে হয়। কাজেই আমাদের ডলার যদি আমরা খরচ করি, তাতে করে ওই সুদসহ টাকাটা আমাদের দেশের টাকা দেশেই থেকে যায়। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই প্রায় ৮ বিলিয়নের মতো টাকা খরচ করা হচ্ছে।”

প্রতিবেশী দেশ শ্রীলঙ্কাকে ধার দেওয়ার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যখন শ্রীলঙ্কা খুব অর্থনৈতিক সমস্যায় পড়ে, তাদেরও কিছু টাকা বাংলাদেশ ধার দিয়েছে।

“কাজেই এভাবেই কিন্তু আমরা দিচ্ছি। এখানে কিন্তু কোন পয়সা কেউ তুলে নিয়ে চলে যায়নি। টাকা কেউ চিবিয়েও খায়নি, গিলেও খায়নি, নিয়েও যায়নি।”

Also Read: রিজার্ভ ‘গিলে’ ফেলেছেন: সরকারকে ফখরুল

“আওয়ামী লীগ সরকার এদেশের একটা অর্থও অপচয় করে না। প্রতিটি অর্থ ব্যয় করে বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ-কল্যাণে এবং তাদের ভালোমন্দ দেখে,” বলেন তিনি।

বিএনপির সমালোচনার জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, “বিএনপি বলবেই। কারণ বিএনপির তো অভ্যাসই। তাদের মনে সব সময় ওই রকম ভয় থাকে।

“বলার কারণটা হচ্ছে, তাদের নেতা তারেক জিয়া মানি লন্ডারিং কেসে ৭ বছরের কারাদণ্ড পেয়েছে এবং ২০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড পেয়েছে। কাজেই মানি লন্ডারিং যাদের অভ্যাস, তারা খালি ওইটাই জানে যে টাকা বোধহয় সব নিয়েই যেতে হয়।”

তিনি বলেন, “কাজেই তারা নিজেরা চুরি করে অর্থ সম্পদ বানিয়েছে। কারণ তাদের তো কিছুই ছিল না। জিয়াউর রহমান যখন মারা যায়, তখন আমরা ৪০ দিন টেলিভিশনে দেখেছি ভাঙা স্যুটকেস, ছেঁড়া গেঞ্জি ছাড়া কিচ্ছু রেখে যায়নি। কিন্তু পরবর্তীতে গিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক তারা। জনগণের অর্থ আত্মসাৎ করেই এটা হয়েছে।”

আওয়ামী লীগ দেশের উন্নয়নে কাজ করছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব এদেশ স্বাধীন করেছেন। আমরা আওয়ামী লীগ, আমাদের একটা দায়বদ্ধতা আছে বাংলাদেশের জনগণের প্রতি।

“কারণ জাতির পিতা যে আদর্শ নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছেন, আমরা সেটাই পূর্ণ করতে চাই। সেই লক্ষ্য নিয়ে রাষ্ট্র চালাচ্ছি বলেই গত ১৩ বছরের মধ্যে এই বাংলাদেশ বদলে গেছে।”

অনুষ্ঠানে গণভবন প্রান্ত থেকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, বাংলাদেশে চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং বক্তব্য রাখেন। সাভারের আশুলিয়া বাজার সংলগ্ন কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড প্রান্তে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক