Published : 23 May 2026, 04:45 PM
বন্ধ কারখানা চালু ও অর্থনীতি ‘সক্রিয় করতে’ ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ঋণ প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।
এই ঋণ প্যাকেজের মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকার ‘রিফাইন্যান্স’ (পুনঃঅর্থায়ন) তহবিল গঠন করা হবে বাণিজ্যিক ব্যাংকে থাকা অতিরিক্ত তারল্য থেকে। বাকি ১৯ হাজার কোটি টাকার তহবিল দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
শনিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম মিলনায়তনে ঋণ প্যাকেজের নানা দিক তুলে ধরেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।
তিনি বলেন, “৬০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ৪০ হাজার কোটি টাকা অর্থনীতি ‘সক্রিয় করতে’ ব্যয় হবে। ২০ হাজার কোটি টাকা থাকবে বন্ধ কারখানার জন্য।”
ঋণের ৪১ হাজার কোটি টাকার ‘গ্যারান্টার’ থাকবে সরকার। ঋণ প্যাকেজ বাস্তবায়ন হলে সারাদেশে ২৫ লাখের বেশি কর্মসংস্থান হবে বলে আশা গভর্নরের।
ঋণের সুদহার, বিস্তারিত বর্ণনা ও শর্ত তুলে ধরে শনিবারই সার্কুলার দেওয়া হবে জানিয়েছেন গভর্নর।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দেওয়া লিখিত সার সংক্ষেপের তথ্য অনুযায়ী, ঋণের ৬০ হাজার কোটি টাকা বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ দিতে হবে ব্যাংকগুলোকে।
পুণঃঅর্থায়ন তহবিলের ৪১ হাজার কোটি টাকার তহবিলের ঋণ যাবে বন্ধ কারখানা ও সেবা খাতে ২০ হাজার কোটি টাকা, সিএমএসএমইতে ৫ হাজার কোটি টাকা, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে ১০ হাজার কোটি টাকা, রপ্তানি বৈচিত্রকরণে ৩ হাজার কোটি টাকা ও উত্তর বঙ্গে কৃষি অর্থায়নে।
অন্যদিকে ১৯ হাজার কোটি টাকার বাংলাদেশ ব্যাংকের তহবিল থেকে ঋণ যাবে প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট রিফাইন্যন্স খাতে ৫ হাজার কোটি টাকা, কটেজ ও মাইক্রো ইন্ডাস্ট্রি খাতে ৫ হাজার কোটি টাকা, চামড়াজাত পণ্য ও জুতা রপ্তানি খাতে ২ হাজার কোটি টাকা, যুব কর্মসংস্থানে ১ হাজার কোটি টাকা, গ্রামীণ অর্থনীতি খাতে ১ হাজার কোটি টাকা, হিমায়িত চিংড়ি ও মাছ রপ্তানি খাতে ২ হাজার কোটি টাকা, সবুজ অর্থায়নে ১ হাজার কোটি টাকা, বৈদেশিক কর্মসংস্থানে ১ হাজার কোটি টাকা, স্টার্টআপ ৫০০ কোটি টাকা ও উদ্ভাবনি অর্থনীতিতে ৫০০ কোটি টাকার ঋণ বরাদ্দ দেওয়া হবে।
গত ফেব্রুয়ারিতে গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে প্রথমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেন মোস্তাকুর রহমান।
এর আগে গত ২৯ মার্চ মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে পত্রিকা, অনলাইন ও টিভি চ্যানেলের বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন গভর্নর।