আচরণবিধি নিয়ে প্রশ্ন শুনে তেড়ে গেলেন প্রার্থী, চড়াও হল অনুসারীরা

এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে জেলা প্রশাসক বলেছেন, সাংবাদিকরা লিখিত আবেদন করলে তিনি নির্বাচন বিধিমালা অনুসারে ব্যবস্থা নেবেন।

চট্টগ্রাম ব্যুরোবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 30 Nov 2023, 07:49 AM
Updated : 30 Nov 2023, 07:49 AM

মনোনয়ন ফরম জমা দিতে এসে 'আচরণ বিধি ভঙের' বিষয়ে প্রশ্ন করা মাত্র সাংবাদিকের দিকে তেড়ে গেলেন বাঁশখালীর সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী; আর তার অনুসারীরা চড়াও হল সাংবাদিকদের ওপর।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ ঘটনায় সংসদ সদস্য ও তার অনুসারীদের মারমুখী আচরণে পড়ে গিয়ে সামান্য ব্যথা পেয়েছেন কয়েকজন সংবাদকর্মী। ধস্তাধস্তিতে কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলের ক্যামরা ও ট্রাইপড ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

মোস্তাফিজুর রহমান পরে গাড়িতে উঠে গেলে তাকে থেমে কথা বলার অনুরোধ করেছিলেন সাংবাদিকরা। তখন তাদের ধাক্কা দিয়ে গাড়ি চালিয়ে চলে যান ক্ষমতাসীন দলের এই এমপি।

ঘটনার সূত্রপাত চট্টগ্রামের রিটার্নিং কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামানের কার্যালয়ে। চট্টগ্রাম-১৬ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান যখন রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়ন পত্র জমা দিচ্ছিলেন, তার সঙ্গে ঢুকে পড়েন ১৪-১৫ জন নেতাকর্মী। 

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বের হন তারা। এসময় ইনডিপেনডেন্ট টিভির সাংবাদিক রাকিব উদ্দিন প্রশ্ন করেন, “আপনি কি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে মনোনয়ন পত্র জমা দিলেন?"

প্রশ্ন শুনে সঙ্গে সঙ্গে রেগে যান মোস্তাফিজুর রহমান, গালি দিয়ে ওই সাংবাদিককে হাত দিয়ে ধাক্কা দেন এবং হুমকি দিতে থাকেন। তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা এসময় অন্য সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন।

ইনডিপেনডেন্ট টিভির সাংবাদিক রাকিব উদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মোস্তাফিজুর রহমান ৫ জনের বেশি লোক নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে আসেন। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর নির্বাচনী আচরণবিধ ভঙ্গের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আমার দিকে তেড়ে আসেন। মারতে উদ্যত হন। হুমকিও দেন। ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। ওঠার পর পেছন থেকে আবার উনার কর্মীরা ধাক্কা দিতে থাকে।"

এরপর সাংবাদিকরা প্রতিবাদ করলে তাদের ধাক্কা দিতে দিতে দোতলা থেকে নিচে নামিয়ে আনেন এমপির অনুসারীরা। সাংবাদিকরা তখন সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুরের গাড়ি থামিয়ে তার সাথে কথা বলার চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনি গাড়ি চালিয়ে চলে যান। তার অনুসারীরা সাংবাদিকদের ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়। তারপর স্লেগান দিয়ে গাড়ির চারপাশে অবস্থান নিয়ে সেটিকে আদালত ভবন এলাকা পার করিয়ে দেয়।  

সাংবাদিকরা তাৎক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামানের কাছে গিয়ে ঘটনার প্রতিবাদ জানান। 

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি চৌধুরী ফরিদ বলেন, “একজন সংসদ সদস্য এরকম হামলা করলেন, ঘটনার আকস্মিকতায় আমরা সবাই হতবাক হয়ে যাই। তিনি ন্যক্কারজনকভাবে হামলা করেছেন। 

"তার লোকজন আমাদের ধাক্কা দিয়েছে। ক্যামরা ভেঙে ফেলেছে, ট্রাইপড ভেঙে ফেলেছে। নিচে গিয়ে আমরা উনার সাথে কথা বলতে চেয়েছিলাম। তিনি ধাক্কা দিয়ে গাড়ি নিয়ে চলে গেছেন। আমরা কয়েকজন মাটিতে পড়ে যাই। আমরা গাড়ি চাপাও পড়তে পারতাম।" 

চৌধুরী ফরিদ বলেন, গাড়ি ঘিরে প্রতিবাদের চেষ্টা করলে সংসদ সদস্যের অনুসারীরা সাংবাদিকদের মারধর শুরু করে। এ ঘটনায় ইনডিপেনডেন্ট টিভি, চ্যানেল আই, দেশ টিভি, আর টিভি ও মাছরাঙা টিভির ক্যামরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান বলেন, "এ ধরনের একটা ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। আপনারা লিখিত আবেদন করুন। নির্বাচন বিধিমালা অনুসারে ব্যবস্থা নেব। বিষয়টি আমরা এখনই নির্বাচন কমিশনকে জানাচ্ছি।" 

এরপর একই ভবনে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে মনোনয়ন ফরম জমা দিতে আসেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। 

হামলার ঘটনায় তার দৃষ্টি আকর্ষণ করলে নওফেল বলেন, “আমি আপনাদের কাছ থেকে ঘটনা শুনলাম। এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। সাংবাদিকদের কাজ আচরণ বিধি অনুসরণ হচ্ছে কিনা তা দেখা এবং জনগণকে জানানো। আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হিসেবে আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি।"