Published : 25 Aug 2022, 09:04 PM
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এস আলম গ্রুপের বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে সংঘর্ষে একজনের মৃত্যুর ঘটনায় গন্ডামারা ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ লেয়াকত আলীসহ ২৭ আসামির বিচার শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের তৃতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ফেরদৌস ওয়াহিদ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। পাশাপাশি আগামী বছর ৮ জানুয়ারি সাক্ষ্য শুরুর তারিখ দিয়েছেন।
চট্টগ্রাম জেলা আদালতের সরকারি কৌঁসুলি শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “অভিযোগপত্র গ্রহণের শুনানি শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।”
এসময় আসামিরা উপস্থিতিত ছিলেন। তাদে পক্ষে অব্যাহতির আবেদন করা হলে তা নামঞ্জুর করে আদালত।
মামলায় বিএনপি নেতা লেয়াকত ছাড়া বাকি আসামিরা হলেন- আবু আহমদ, আলী নবী মেম্বার, জাকের হোসেন, শফিউল আলম, নুর মোহাম্মদ নুরু, নুর মোহাম্মদ, মোহাম্মদ দিদার, আহাদ আলী, আবু তাহের, নুরুল মোস্তফা, আনছার, মো. ফোরকান, আবদুল মোনাফ, নাছির, নুরুল আলম, আবদুল খালেক, আবুল হাসেম, মালেক, কাওসার, বাবুল, ইউনুছ, আবদুর রহমান, ইদ্রিস ওরফে ফকিরা, ওমর আলী, বাদশা ড্রাইভার ও নাছির উদ্দীন।
২০১৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি গণ্ডামারা ইউনিয়নের পশ্চিম বড়ঘোনা এলাকায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এস এস পাওয়ার প্ল্যান্টের অফিসের সামনে মতবিনিময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এস আলম গ্রুপের ওই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিরাপত্তায় যৌথবাহিনীর দায়িত্বে থাকা নৌবাহিনীর গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান কমডোর এম সোহায়েলের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মিলিত হন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তাতে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে শুরু থেকে বিরোধিতাকারী ‘বসতভিটা রক্ষা কমিটির’ নেতা ও স্থানীয় চেয়ারম্যান লেয়াকতের পক্ষ এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল মোস্তফা সংগ্রামের অনুসারী পক্ষ অংশ নেয়।
মতবিনিময় চলাকালে লেয়াকত ও সংগ্রামের অনুসারীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এতে মোট ছয়জন আহত হয়েছিল।
সেদিন দুপুরে গুরুতর আহত মোহাম্মদ আলীকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সন্ধ্যায় মারা যান। তিনি বাঁশখালী উপজেলার গণ্ডামারা ইউনিয়নের মৃত খলিলুর রহমানের ছেলে।

এ ঘটনায় মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী মামলা করতে চাইলে পুলিশ তা গ্রহণ করেনি। পরে ২০১৭ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি বাঁশখালী থানার এসআই কামরুল হাসান কায়কোবাদ বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
তদন্ত শেষে পুলিশ ২৭ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।
এর আগে ২০১৬ সালের এপ্রিলে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে চারজন নিহত হন। ওই ঘটনার পর আলোচনায় আসেন বিদ্যুৎ কেন্দ্রবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া বিএনপি নেতা লেয়াকত।
পরে গন্ডামারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন লেয়াকত আলী। তিনি দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তার বিরুদ্ধে বাঁশখালী থানায় অন্তত ২০টি মামলা আছে।
সবশেষ গত বছরের ১৭ এপ্রিল রোজায় সময়সূচি পরিবর্তন ও বকেয়া পরিশোধের দাবিতে এস এস পাওয়ার প্ল্যান্টে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়।
সেদিন পুলিশের গুলিতে পাঁচজন ও পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুই শ্রমিক মারা যান। এ নিয়ে ওই কেন্দ্র ঘিরে তিন দফায় সংঘর্ষে মোট ১২ জন নিহত হয়েছেন।