অপরিশোধিত চিনি গলে আগুন হয়েছে ভয়ঙ্কর: ফায়ার সার্ভিস

চিনি কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের একটি যৌগ। কার্বন ও অক্সিজেন দুটোই আগুন জ্বলতে সহায়তা করে।

চট্টগ্রাম ব্যুরোবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 5 March 2024, 07:42 AM
Updated : 5 March 2024, 07:42 AM

অপরিশোধিত চিনিতে থাকা কার্বন ও অক্সিজেনের কারণে চট্টগ্রামে এস আলম গ্রুপের গুদামের আগুন পুরোপুরি নেভাতে সময় লাগছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

কর্ণফুলী উপজেলার ইছাপুরের ওই গুদামে লাগা আগুন ২০ ঘণ্টা পরও জ্বলছে। ছয় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও পুরোপুরি নেভাতে এখনো কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট।

ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ হারুন পাশা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এখানে সব ছিল অপরিশোধিত চিনি। অপরিশোধিত চিনি মূলত কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের একটি যৌগ। কার্বন ও অক্সিজেন দুটোই আগুন জ্বলতে সহায়তা করে। ৩৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রায় অপরিশোধিত চিনি গলে গিয়ে ভোলাটাইল কেমিকেলে (ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক) পরিণত হয়।

“এখন এই আগুন নেভাতে আমরা পানি দিয়ে চেষ্টা করছি। এখন ১০টি ইউনিট কাজ করছে।”

সোমবার বিকেল ৪টার দিকে এস আলম সুগার রিফাইনারি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের পরিশোধনাগারের ১ নম্বর গুদামে আগুন লাগে। গভীর রাত পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। পরে যোগ দেয় নৌ, বিমান ও সেনাবাহিনীর দল। মঙ্গলবার সকাল থেকে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট আগুন নিভানোর কাজ করছে।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কারখানায় ঢুকে দেখা যায়, মূল ফটক থেকে প্রায় চারশ ফুট দূরে এক নম্বর গুদাম জ্বলছে। এস আলমের কর্মকর্তারা জানান, এক নম্বর গুদামটি ৬৫ হাজার ৭০০ বর্গফুটের। মূল ফটক থেকে গুদাম পর্যন্ত পুরো রাস্তায় অপরিশোধিত চিনি গলে লালচে কালো কাদার মত তরল ছড়িয়ে আছে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পানি ছিটাচ্ছেন। আগুনের বিস্তার ঠেকাতে গুদামের মুখে দেওয়া হয়েছে বালি। গুদামের ছাদের বেশিরভাগ টিন কালো হয়ে বেঁকে গেছে। ভেতবে আগুন জ্বলছে পুরোদমে৷ ধোঁয়া ছড়াচ্ছে আশেপাশে।

কারখানা এলাকার ভেতরের রাস্তায় জমা চিনি গলা আস্তরণ এস্কেভেটর দিয়ে সরানো হচ্ছে। অপরিশোধিত চিনির ধোঁয়ার তীব্রতায় উপস্থিত লোকজনের চোখ জ্বলছে। চিনি গলে যাওয়ার গন্ধও ছড়িয়েছে।

এস আলম গ্রুপের প্রধান ভূ-সম্পদ কর্মকর্তা মো. মোস্তাইন বিল্লাহ আদিল ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা এখন আগুন নেভানোর চেষ্টা করছি, যাতে চিনি কল ও অন্য গুদামগুলোতে আগুন ছড়িয়ে না পড়ে।”

আগুন লাগার পেছনে নাশকতার আশঙ্কা করছেন কিনা, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “সরকার তদন্ত কমিটি করেছে। ফায়ার সার্ভিসসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে। তদন্ত কমিটি তদন্ত করবে। তখন আপনারা জানতে পারবেন। এখন আমরা শুধু কারখানা রক্ষার বিষয়টি ভাবছি।”

আগুন লাগা গুদামে চিনির পরিমাণ ও ক্ষতির হিসাব জানতে চাইলে তিনি বলেন, “প্রায় দেড় লাখ টনের মত অপরিশোধিত চিনি ছিল। ক্ষতির পরিমাণ এক হাজার কোটি টাকার বেশি হতে পারে। এখনই নিশ্চিত করে ক্ষতির অংক বলতে পারছি না।”

এর আগে ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ হারুণ পাশা বলেন, “পাঁচতলা ভবনের সমান উঁচু ছিল গুদামটি। সেটি ভর্তি ছিল র-সুগারে (অপরিশোধিত চিনি) । আগুনে কেউ হতাহত হয়নি। আশেপাশের স্থাপনাগুলোতে আগুন ছড়ানো ঠেকানো গেছে।”