০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা নিরসনের বাকি কাজ নতুন প্রকল্পে: অর্থমন্ত্রী

“ছোট ছোট বিচ্ছিন্ন প্রকল্পের পরিবর্তে সামগ্রিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে,” বলেন তিনি।

চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা নিরসনের বাকি কাজ নতুন প্রকল্পে: অর্থমন্ত্রী

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সম্মেলন কক্ষে শুক্রবার বিকালে জলাবদ্ধতা নিরসন বিষয়ক সভায় কথা বলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 09 Oct 2026, 09:30 PM

Updated : 09 Oct 2026, 09:30 PM

চট্টগ্রাম নগরীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে ‘বিচ্ছিন্ন প্রকল্পের’ পরিবর্তে সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

এজন্য চলমান প্রকল্পগুলোর কাজ পর্যালোচনার পাশাপাশি অবশিষ্ট কাজ নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, “একইসঙ্গে নগরীর বড় খালগুলোতে জলযান চলাচলের সুযোগ সৃষ্টি, খালের দুই পাড়ে ওয়াকওয়ে (হাঁটার রাস্তা) ও সম্ভাব্য স্থানে সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণ এবং বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।”

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সম্মেলন কক্ষে শুক্রবার বিকালে জলাবদ্ধতা নিরসন বিষয়ক সভায় এসব কথা বলেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

জলাবদ্ধতা সমস্যার বিভিন্ন দিক এবং এলাকাভিত্তিক সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “ইতোমধ্যে সম্পন্ন হওয়া কাজগুলো মূল্যায়ন করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট কাজগুলো আগামী দিনে প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ছোট ছোট বিচ্ছিন্ন প্রকল্পের পরিবর্তে সামগ্রিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে একটি প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার আগেই অন্য এলাকায় নতুন করে সমস্যা তৈরি না হয়।

“সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে নিয়ে প্রতি মাসে নিয়মিত অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে। পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে অর্থের অপচয় বন্ধ হবে, কাজের গতি বাড়বে এবং নগরবাসীর দৈনন্দিন দুর্ভোগ কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।”

সভায় এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, “সামগ্রিক সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় প্রকল্পগুলো প্রণয়ন ও উপস্থাপনের পর বরাদ্দের বিষয়টি আসবে। নগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে প্রয়োজনীয় প্রকল্পগুলোকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

“চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ মহানগরী ও বাণিজ্যিক রাজধানী। ভবিষ্যতে বাংলাদেশসহ এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও লজিস্টিক হাব হিসেবে চট্টগ্রামকে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। বিমানবন্দর ও বন্দরগুলোর উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের সঙ্গে নগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানও ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। তাই নগরীর সামগ্রিক উন্নয়নের স্বার্থে এ সমস্যার কার্যকর সমাধান জরুরি।”

সভায় সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, “যেসব খালের উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হয়েছে, সেগুলো চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তরের পর প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম সমন্বিতভাবে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

“চট্টগ্রাম মহানগরীতে মোট ১৩০টি খাল চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি খালের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং আরও ৪১টি খাল উন্নয়নের জন্য প্রকল্প প্রণয়নের কাজ চলছে। প্রয়োজন অনুযায়ী অবশিষ্ট খালগুলোর উন্নয়নেও উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, “নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে বিচ্ছিন্ন প্রকল্পের পরিবর্তে সমন্বিত ও সামষ্টিক সমাধান নিশ্চিত করা জরুরি। চট্টগ্রাম মহানগরীর ১৩০টি খালের মধ্যে ৩৭টি সংস্কার করা হয়েছে।

“পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে অবশিষ্ট খালগুলোতেও প্রয়োজন অনুযায়ী সংস্কারকাজ করতে হবে। নগরীতে স্থাপিত স্লুইসগেট ও রেগুলেটরগুলোর কার্যকর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে দক্ষ প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানকে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা যেতে পারে।”

সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী ও সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কন্সট্রাকশন বিগ্রেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামছুল আলম শামস উপস্থিত ছিলেন।