২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

পদযাত্রা থেকে নৌকার নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা, পাল্টায় বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর

বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মোস্তাফিজুর রহমান।

পদযাত্রা থেকে নৌকার নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা, পাল্টায় বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর

লালখান বাজার এলাকায় বিএনপির পদযাত্রা থেকে চট্টগ্রাম-১০ আসনের উপ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মহিউদ্দিন বাচ্চুর নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয় বেশ কয়েকটি গাড়ি।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 19 Jul 2023, 08:42 PM

Updated : 20 Jul 2023, 02:33 PM

বিএনপির পদযাত্রা কর্মসূচি থেকে চট্টগ্রাম ১০ আসনের উপ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলার পর নুর আহম্মদ সড়কে বিএনপি কার্যালয়ে ভাঙচুর হয়েছে। 

বুধবার সরকার পতনের এক দফা দাবিতে পদযাত্রা শেষে ফেরার পথে বিকালে বিএনপিকর্মীরা নগরীর লালখান বাজার এলাকায় মহিউদ্দিন বাচ্চুর নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা চালায়। 

পরে সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে ছাত্র ও যুবলীগের কর্মীরা নগরীর নাসিমন ভবনে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে এসে পাল্টা হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।   

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নগরীর দেওয়ান হাট মোড়ে পদযাত্রা শেষে বিএনপির ছোট ছোট মিছিলগুলো লালখান বাজার দিয়ে ফিরে যাওয়ার পথে জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ গেইটের বিপরীতে বাচ্চুর নির্বাচনী কার্যালয়ে থাকা আওয়ামী লীগ কর্মীদের লাঠিসোটা দেখিয়ে উস্কানিমূলক স্লোগান দেয়। 

নির্বাচনী কার্যালয়ে থাকা লোকজন ধাওয়া দিলে তারা চলে যায়। এসময় পেছনে থাকা বিএনপিকর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে বাচ্চুর নির্বাচনী কার্যালয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। 

এসময় দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া অন্তত ১০ জন আহত হন। ভাঙচুর করা হয়েছে নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহৃত গাড়ি ও মোটর সাইকেলসহ অন্তত ১০টি যানবাহন।

Image

মহিউদ্দিন বাচ্চুর নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলার পাল্টায় সন্ধ্যায় হামলা হয় বিএনপির কার্যালয়ে। এসময় লাঠি-বাঁশ, ব্যানার-পোস্টারে আগুন দেওয়া হয়। 

খুলশী থানার ওসি সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, “নির্বাচনী কার্যালয়ে ঢিল ছুঁড়ে মারার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”  

হামলার ঘটনা প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম-১০ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মহিউদ্দিন বাচ্চু বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সারাদেশে মানুষ যখন নির্বাচনমুখী হয়েছে তখন বিএনপি বিভিন্ন এলাকায় পরিকল্পনা করে হামলা করছে পরিস্থিতি ভিন্নদিকে ধাবিত করার জন্য। তারই অংশ হিসেবে আমার নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা করেছে।” 

হামলার সময় তার নির্বাচনী কার্যালয়ে ২০ জনের মতো নেতাকর্মী ছিল দাবি করে তিনি বলেন, এসময় কার্যালয়ে থাকা বেশকয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করা হয়েছে এবং তিন-চারজন আহত হয়েছেন। 

পরে সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ কর্মীরা জড়ো হয়ে নাসিমন ভবনে বিএনপি কার্যালয়ে এসে ভাঙচুর চালান। 

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ইদ্রিস আলী বলেন, “আওয়ামী লীগ প্রার্থীর অনুসারী ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে এসে পরিকল্পিতভাবে দলীয় কার্যালয়ে হামলা করেছে।” 

কার্যালয়ের নিচতলার কক্ষ, জানলার কাচ ভাঙচুর করা হয়েছে দাবি করে তিনি দায়ীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। 

পাল্টাপাল্টি হামলার বিষয়ে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “বিএনপির পদযাত্রা শেষে ফিরে যাওয়ার পথে লালখান বাজার এলাকায় ফ্লাইওভারের ওপর থেকে চট্টগ্রাম-১০ আসনের প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয়ে লাঠিসোটা ছুড়ে মারা হয়। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। 

“ওখান থেকে একদল লোক মিছিল করে বিএনপি কার্যালয়ে আসে। তারা বিএনপি অফিসে থাকা লাঠিসোটা-ব্যানার ছিঁড়ে বাইরে এনে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়।” 

বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে জানিয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, বিএনপি কার্যালয় এলাকায় বিপুল পরিমাণ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।