ভারত থেকে সার্ভার পরিচালনা: এনপিএসবি থেকে বাদ ডিজিইপে
অভিযোগের তদন্ত শেষ হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক বলে জানান মুখপাত্র।
ভারত থেকে সার্ভার পরিচালনার অভিযোগ পেয়ে ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি) থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে বেসরকারি পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর ডিজিইপেকে।
প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ভারত থেকে এটির সার্ভার পরিচালনার তথ্য পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরীক্ষা দল।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘‘বাইরের একটি দেশ থেকে বাংলাদেশে ব্যবসা করা প্রতিষ্ঠানের লেনেদেনে সফটওয়্যার ও সার্ভারের এক্সেস থাকাটা ঝুঁকিপূর্ণ। অডিট টিম এরকম কিছুটা শনাক্ত করেছে, তাই এনপিএসবি থেকে তাদের ডিসকানেক্ট করা হয়।’’
অভিযোগের তদন্ত শেষ হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে থেকে পরিচালিত এনপিএসবি এর মাধ্যমে অন্তঃব্যাংক লেনদেন নিষ্পত্তি হয়। এটি ডিজিটাল পেমেন্ট নেটওয়ার্ক। এটির মাধ্যমে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে তাৎক্ষণিক ইলেকট্রনিক লেনদেন হয়।
ডিজিইপপ সার্ভিসেস পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর (পিএসও) লাইসেন্সের আওতায় পেমেন্ট প্রসেসিং সেবা দেয়। এটি পিওএস, কিউআর কোড ও ই-কমার্স লেনদেনের সেবা দেয়।
সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সেবা ফি পরিশোধেও মধ্যস্ততাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রযুক্তি সুবিধা দেয় ডিজিইপে। এ সেবা দিতে এনপিএসবি সার্ভার ব্যবহার করে আসছে ডিজিইপে।
প্রতিবেশী ভারতের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ডিজিইপের সফটওয়্যার ও অ্যাপ ডেভেলপ করার চুক্তি থাকার কথা বলেছেন প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাফকাত মতিন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, ‘‘আমাদের দেশেতো এত ডেভেলপার নেই। তাই ভারতে আমাদের ডেভেলপার টিম আছে। সিস্টেমেতো প্রতিনিয়ত নানা সেবা ও প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করতে হয়। তাই তাদের এক্সেস আছে, কিন্তু ফুল কন্ট্রোল নাই।’’
তিনি বলেন, ‘‘আমরা বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সামনেও তুলে ধরেছি। এখন তারা দেখছেন, আমরাও বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি।’’
এনপিএসবি থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় দৈনিক ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকার লেনদেনকারী গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে তথ্য দেন তিনি।
