চট্টগ্রামে অশুভের বিনাশ ও শান্তি কামনায় দেবীকে বিসর্জন

বৈরী আবহাওয়ার কারণে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে না গিয়ে অনেকে কর্ণফুলী নদীতেই দেবী বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা সারেন।

চট্টগ্রাম ব্যুরোবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 24 Oct 2023, 11:27 AM
Updated : 24 Oct 2023, 11:27 AM

অশুভ শক্তির বিনাশ করে বিশ্ব সংসারের মঙ্গল কামনার প্রার্থনার মধ্য দিয়ে ‘অন্নদাত্রী’কে বিদায় জানিয়েছেন চট্টগ্রামের হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা।

বেলতলায় দেবীর নিদ্রাভঙ্গের বন্দনায় হিন্দুদের যে উৎসবের সূচনা হয়েছিল, বিজয়া দশমীতে তার সাঙ্গ হল বিসর্জনের মধ্য দিয়ে। ফের দেবীকে মর্ত্যে আমন্ত্রণ জানাতে অপেক্ষা করতে হবে এক বছর।

চট্টগ্রামে মঙ্গলবার দশমীর সকালে বিহিত পূজা সম্পন্ন করে ভক্তদের পুষ্পাঞ্জলি ও শান্তির জল ছিঁটানোর পর দর্পণ-বিসর্জেনর আয়োজন সম্পন্ন হয়। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হল হিন্দুদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।

বন্দর নগরীর পূজামণ্ডপের প্রতিমাগুলো ট্রাকে কিংবা ভ্যানে করে প্রতিমা নিরঞ্জনের জন্য নেওয়া হয় পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত ও কর্ণফুলী নদীর তীরে। ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির কারণে প্রতিমা বিসর্জনে ভোগান্তিও পোহাতে হয়েছে। পলিথিন বা ত্রিপলে মুড়ে প্রতিমা তোলা হয় ট্রাকে।

প্রতি বছরের মত এবারও বিসর্জনের প্রধান স্থান ছিল পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত। পাশাপাশি কর্ণফুলী নদীর কালুরঘাট, অভয়মিত্র ঘাট এবং বিভিন্ন এলাকার পুকুরেও দেওয়া হয়েছে বিসর্জন। বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেকে পতেঙ্গা সৈকতে না গিয়ে কর্ণফুলী নদীতেই  বিসর্জন দেন।

চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হিল্লোল সেন উজ্জ্বল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বৈরী আবহাওয়ার জন্য বিভিন্ন পূজা কমিটিকে পতেঙ্গা সৈকতে না গিয়ে নিজ নিজ এলাকায় বিসর্জনের জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়। পতেঙ্গায় যারা বিসর্জনে যাচ্ছেন, তাদের নির্দেশনা দেওয়া আছে যাতে বেশি সময় তারা অপেক্ষা না করেন। তাছাড়া এবার সাগরে নেমে কাউকে প্রতিমা বিসর্জন দিতে দেওয়া হচ্ছে না।

“স্থানীয় পূজা কমিটির সহায়তায় ১০০ সদস্য বিশিষ্ট একটি স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করা হয়েছে। বাইরে থাকা যারা প্রতিমা নিয়ে পতেঙ্গা যাচ্ছে, তারা সৈকতে স্বেচ্ছাসেবকদের হাতে প্রতিমা দিয়ে দিবে। স্বেচ্ছাসেবকরাই বিসর্জনের কাজ সম্পন্ন করছে।”

পতেঙ্গা থানার ওসি আফতাব হোসাইন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বেলা ১১টার পর বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিমা নিয়ে আসা হয় সৈকতে। তবে এবার বৈরী আবহাওয়ার জন্য অনেক প্রতিমা পতেঙ্গা সৈকতে না এনে স্থানীয়ভাবে বিসর্জন দেওয়া হচ্ছে।”

ওসি জানান, বিসর্জন ঘিরে সৈকত ও আশেপাশে এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস, মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়।

কোতোয়ালি থানার ওসি জাহিদুল কবির জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেকেই এবার নদীতে বিসর্জন দিচ্ছেন। যার কারণে অন্যান্য বারের তুলনায় এবছর ফিরিঙ্গি বাজারে অনেকেই প্রতিমা বিসর্জনে আসছেন।

চট্টগ্রাম মহানগর পূজা কমিটির হিসেবে, বন্দরনগরীতে এ বছর ব্যক্তিগত, সার্বজনীনসহ ২৯৩টি পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আর উপজেলায় প্রতিমা ও ঘট পূজাসহ ২ হাজার ৭৫টি পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া নগরীর বাইরে উপজেলায় হওয়া পূজোগুলোর প্রতিমা বিসর্জন স্থানীয়ভাবে হয়েছে।

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, নবমীর পূজা সম্পন্নের পর মর্ত্য ছেড়ে নিজালয়ে যাত্রা করেন দেবী দুর্গা। বিজয়া দশমীতে দর্পণ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয় ত্রিনয়নীর পূজা।

হিন্দুদের মতে, দেবী দুর্গা প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের দেবী। একইসঙ্গে তিনি ‘মাতৃরূপেণ’, ‘শক্তিরূপেণ’। ১৪ অক্টোবর মহালয়ার দিন সূচনা হয়েছে দেবীপক্ষের, আগামী ২৮ অক্টোবর কোজাগিরী পূর্ণিমার মধ্যে দিয়ে শেষ হবে দেবী পক্ষ।

সনাতন ধরর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস মহালয়ার দিনে দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গা সন্তানদের নিয়ে কৈলাশের স্বামীর ঘর থেকে মর্ত্যে যাত্রা শুরু করেন। আর বিজয়া দশমীতে ফিরে যান। শাস্ত্রীয় মতে এবার দেবী দুর্গা কৈলাশ থেকে স্ব-পরিবারে মর্ত্য লোকে এসেছেন ঘোড়ায় চড়ে। আবার ফিরেও যাচ্ছেন ঘোড়ায়।