১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘বাবুলের নির্দেশে মিতু হত্যা, স্ত্রীকে বলেছিলেন মুছা’

“সে যদি অপরাধ করে, তাহলে বিচারে তার ফাঁসি, সাজা, যা বিচার হয় আমরা হাসিমুখে মেনে নেব। আর যদি মেরে ফেলে, তার লাশটা আমাদের বুঝিয়ে দেয়া হোক”, মুছার সন্ধান চেয়ে আদালতে স্ত্রী।

‘বাবুলের নির্দেশে মিতু হত্যা, স্ত্রীকে বলেছিলেন মুছা’

পান্না আক্তার।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Jul 2023, 05:16 PM

Updated : 17 Jul 2023, 05:17 PM

আদালতে সাক্ষ্য দিতে এসে মিতু হত্যা মামলার আসামি কামরুল ইসলাম শিকদার মুছার সন্ধান চাইলেন তার স্ত্রী পান্না আক্তার।

পান্না জানান, স্বামীর কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, মুসা এই ঘটনায় ‘জড়িত ছিলেন’। তবে নিজের ইচ্ছায় নয়, মিতুর স্বামী সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের ‘নির্দেশে’ এই কাজ করেছেন মুছা।

৩৭ বছর বয়সী এই নারী যখন সাক্ষ্য দিচ্ছিলেন, তখন কাঠগড়ায় ছিলেন বাবুল আক্তারও।

সোমবার চট্টগ্রামের তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জসিম উদ্দিনের আদালতে সাক্ষ্য দেন পান্না।

দুপুর একটা ৪০ মিনিটের তার সাক্ষ্য শেষ হয়। পরে আদালত মধ্যাহ্ন বিরতিতে যায়। বিরতির পর আসামি বাবুল আক্তারের আইনজীবী পান্না আক্তারকে জেরা করেন।

মিতু হত্যায় মুছার সম্পৃক্ততার তথ্য

আদালতে পান্না জানান, মিতুকে হত্যার আগের দিন ২০১৬ সালের ৪ জুন সন্ধ্যায় তার বাসায় কিছু লোক আসেন। তারা কারা, তা তিনি জানেন না, আগে দেখেননি।

পরদিন সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ৭টায় মুছা নাস্তা হিসেবে পরোটা ও হালুয়া নিয়ে আসেন। দুই সন্তানকে নিয়ে টেবিলে বসে নাস্তা করার সময় টিভিতে মিতু হত্যার সংবাদ দেখতে পান।

সংবাদের শিরোনামে আসছিল, হত্যার শিকার নারী এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার।

তখন মুছাকে পান্না জিজ্ঞেস করেন, মিতু বাবুল আক্তারের স্ত্রী কি না? তিনি দেখতে যাবেন কি না।

মুছা তাকে বলেন, “আমি এখন যাব না। স্যার (বাবুল আক্তার) আসলে যাব।”

পুরানো খবর:

মিতু হত্যা রহস্যে আবার সেই প্রশ্ন, মুছা কোথায়?

পুরানো খবর:

বাবুল আক্তার এখন চিনতে পারছেন তার সোর্স মুছাকে, জানালেন তদন্ত কর্মকর্তা

এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী জানতে চান, বাবুল আক্তার আসার পর মিতুকে দেখতে মুছা গিয়েছিলেন কি না।

জবাবে পান্না বলেন, “যে হারায়, সে বুঝতে পারে হারানোর বেদনাটা কী। আমি কিছু মিথ্যা বলছি না। আমার বক্তব্য আগে শেষ হোক।

“এটা কেন জিজ্ঞেস করলেন পরে গিয়েছিল কি না, কিছু জানি না। উনি বাইরেই ছিল। ২ দিন পর আমার বাবা অসুস্থ হওয়ায় আমি রাঙ্গুনিয়া বাপের বাড়িতে যাই। সেখানে থাকার দুয়েকদিন পর আমার স্বামী মুছা আমার বাবার বাড়িতে যায়।

“তার ৭-৮ দিন পর আমার মুছার মোবাইলে একটা টিঅ্যান্ডটি থেকে কল আসে। কলটা আমি রিসিভ করি। আমাকে ওপাশ থেকে বলা হয়, 'মুছা কোথায়' জিজ্ঞেস করে বলা হয়, 'মুছাকে সাবধানে থাকতে বলবা'।“

পান্না জানান, ১৯ বা ২০ জুন মুছা ফোনে বলছিলেন, “স্যার আমি তো এটা করতে চাইনি। আমার ফ্যামিলির কোনো সমস্যা হলে, আমি পুলিশের কাছে মুখ খুলতে বাধ্য হব।”

তখন পান্না জানতে চান, “এটা কে?”

মুছা বলেন, “বাবুল আক্তার স্যার।”

এরপর পান্না তার স্বামীকে প্রশ্ন করেন, “আপনি কি মিতু হত্যার সাথে জড়িত আছেন?”

Image

কামরুল ইসলাম শিকদার মুছার পাসপোর্ট

তার ভাষ্য, মুছা জবাবে বলেন, “পান্না, আমি এটা করতে চাই নাই, আমাকে বাধ্য করা হয়েছে।”

পান্না আদালতে জানান, তিনি বাবুল আক্তারকে কখনো সরাসরি দেখেননি, টিভিতে দেখেছেন। পরে কাঠগড়ায় থাকা বাবুলকে শনাক্ত করেন তিনি।

অপরাধ করলে ফাঁসি হোক, স্বামীকে হাজির করুন

সাক্ষ্য শেষে পান্না আদালতে কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “মিতু একজন নারী। আমিও একজন নারী। আমার স্বামী ছাড়া কিচ্ছু নেই। তিনিও আজ বহুদিন....। আমার আর্থিক অবস্থা খুব খারাপ। দুটা বাচ্চা, কীভাবে চলছি আমি জানি।

“একজন নারী হিসেবে আমি মিতু হত্যার বিচার চাই। পাশাপাশি স্বামীকে আমি আইনের কাছে হাজির দেখতে চাই। আপনি আদেশ দেন, যে অবস্থায় যেখানে থাকুক, আমার স্বামীকে হাজির করুক।

“সে যদি অপরাধ করে, তাহলে বিচারে তার ফাঁসি, সাজা, যা বিচার হয় আমরা হাসিমুখে মেনে নেব। আর যদি মেরে ফেলে, তার লাশটা আমাদের বুঝিয়ে দেওয়া হোক।”

মুছাকে 'ধরে নেওয়ার' ঘটনা সাক্ষ্যে উল্লেখ করে পান্না বলেন, “২০১৬ জুনের ২১ তারিখে রাঙ্গুনিয়ায় বাবার বাড়ি থেকে মুছাসহ চট্টগ্রামে আসি তার পরিচিত নুরন্নবীর বাসায়।

“চট্টগ্রাম শহরের কাঠগড় বন্দর এলাকার বাসা থেকে ২২ জুন ডিবি পরিচয় দিয়ে ওকে (মুছাকে) গ্রেপ্তার করে। তখন সকাল ৭টা সাড়ে ৭টা হবে। তারপরে আর আজ পর্যন্ত মুসার কোনো খবর পাওয়া যায়নি।”

মিতু হত্যার পর ২০১৬ সালের ৪ জুলাই চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে একই দাবি করেছিলেন পান্না।তবে পু্লিশ মুছাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি অস্বীকার করেছিল।

মুছা বালু ব্যবসার পাশাপাশি পু্লিশের সোর্স হিসেবে কাজ করতেন। তাকে পলাতক দেখিয়ে মিতু হত্যা মামলায় তার বিচার চলছে।