১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

রাশিদের চোখে সুরিয়াভানশি ‘প্রকৃতি প্রদত্ত’ প্রতিভা

ভারতীয় কিশোর সেনসেশনের প্রতি মুগ্ধতার কথা তুলে ধরতে গিয়ে এমনটা বলেছেন আফগানিস্তানের তারকা লেগ স্পিনার।

রাশিদের চোখে সুরিয়াভানশি ‘প্রকৃতি প্রদত্ত’ প্রতিভা

বৈভাব সুরিয়াভানশি। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 17 Sep 2026, 08:21 PM

Updated : 17 Sep 2026, 08:21 PM

বৈভাব সুরিয়াভানশিকে নিয়ে আলোচনা যেন থামার নয়। এবার ভারতীয় বিস্ময়বালকের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন রাশিদ খান। আফগানিস্তানের তারকা লেগ স্পিনারের কাছে তো সুরিয়াভানশি প্রকৃতি প্রদত্ত এক প্রতিভা।

আইপিএলে সুরিয়াভানশির বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা আছে রাশিদের। এই টুর্নামেন্টে রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে আলো ছড়িয়েই মূলত ক্রিকেট আঙিনায় আলোড়ন ফেলে দেন সুরিয়াভানশি। আর রাশিদ প্রতিনিধিত্ব করছেন গুজরাট টাইটান্সের।

২০২৬ সালের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন সুরিয়াভানশি। ফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে শিরোপা জয়ের পথে ৮০ বলে ১৭৫ রানের অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলেন তিনি। ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় হন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। আসরে তার ব্যাট থেকে আসে ৪৩৯ রান। যে পারফরম্যান্সে জেতেন টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কারও।

যুব দল, আইপিএল রাঙিয়ে গত জুলাইয়ে মাত্র ১৫ বছর ৯৯ দিন বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখেন সুরিয়াভানশি। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে তার হাতে টি-টোয়েন্টি দলের ক্যাপ তুলে দেন তিলাক ভার্মা। সেদিন ভারতের সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেকের রেকর্ড গড়েন সুরিয়াভানশি। যেখানে পেছনে ফেলেন তিনি ১৯৮৯ সালে অভিষেক হওয়া সাচিন টেন্ডুলকারকে।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেক সিরিজে ভালো করতে পারেননি সুরিয়াভানশি। তিন ম্যাচে করেন ১৪, ১৩ ও ১৫ রান। পরে জিম্বাবুয়েতে প্রথম ম্যাচেই ফিফটি করে গড়েন আরেকটি রেকর্ড। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিফটি করা সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার এখন তিনি। জিম্বাবুয়ে সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে ৮১ রানের ইনিংস খেলেন এই কিশোর।

দিল্লিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে চলমান টি-টোয়েন্টি সিরিজের দলেও আছেন সুরিয়াভানশি। তবে প্রথম দুই ম্যাচের একটিতেও সুযোগ পাননি তিনি। যা নিয়ে ভারতীয় ক্রিকেটে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

টাইমস অব ইন্ডিয়াকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন রাশিদ খান। সেখানে তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, সহজাত প্রতিভার বাইরে কোন বিষয়টি সুরিয়াভানশিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তখন বিস্ফোরক এই ব্যাটসম্যানকে নিয়ে নিজের ভাবনা তুলে ধরেন আফগান ক্রিকেটের পোস্টারবয়।

“যেমনটা বলেছি, তার ভয়ডরহীন ক্রিকেট। সে নিজের দক্ষতার ওপর আস্থা রাখে এবং নিজের শটগুলো সম্পর্কে জানে। আমার মনে হয়, তার শট বাছাই করার দিকটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো দলের বিপক্ষে, যেকোনো বোলারের বিপক্ষে, যেকোনো সময় কীভাবে খেলতে হবে, সে সম্পর্কে তার পরিষ্কার পরিকল্পনা থাকে।

“এত অল্প বয়সে এসব খুব কমই দেখা যায়; এগুলো সময়ের সঙ্গে আসে। কিন্তু তার মধ্যে এরই মধ্যে সেগুলো আছে। তার নির্ভীকভাবে খেলার ধরনই তাকে আলাদা করে তোলে। তার শক্তি, হাত ও চোখের সমন্বয়- আমার মনে হয়, এগুলো সত্যিই অন্যরকম। অন্য কোনো খেলোয়াড়ের মধ্যে এমনটা খুব কমই দেখা যায়। সে প্রকৃতি প্রদত্ত প্রতিভা।”

সুরিয়াভানশির মধ্যে নিজের ছোটবেলার ছায়া দেখতে পান কি না, জানতে চাইলে সেই তুলনা দ্রুতই উড়িয়ে দেন রাশিদ।

“সত্যি বলতে, আমি ওই বয়সে এতটা প্রতিভাবান ছিলাম না। তবে হ্যাঁ, স্কিল ছিল। কিন্তু সে যেভাবে বড় বড় ছক্কা মারছে, ওই বয়সে আমি সেটা পারতাম কি না জানি না। তবে যেমনটা বলেছি, সে অনন্য প্রতিভা। শুধু আইপিএলেই নয়, ভারতীয় দলেও সে সেটা দেখিয়েছে। তাই আমার মনে হয়, সে সত্যিই স্পেশাল একজন।”