অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে ফাঁসির রায়

২০১৭ সালে স্ত্রীকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার পর নিজেও ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন আবু তৈয়ব।

চট্টগ্রাম ব্যুরোবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 30 Oct 2023, 02:58 PM
Updated : 30 Oct 2023, 02:58 PM

ছয় বছর আগে চট্টগ্রামের চন্দনাইশে জমি লিখে না দেওয়ায় অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার মামলায় স্বামীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।

চট্টগ্রামে ষষ্ঠ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সাইফুর রহমান সোমবার এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডিত মো. আবু তৈয়ব (৩৫) চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার ধোপাছড়ি ইউনিয়নের পূর্ব ধোপাছড়ি গ্রামের বাসিন্দা টুনু মিয়ার ছেলে।

চট্টগ্রামের জেলা আদালতের পিপি শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, স্ত্রী হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আবু তৈয়বকে মৃত্যুদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন আদালত।

রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ঘটনার ১২ বছর আগে চন্দনাইশ উপজেলার ৮ নম্বর বৈলতলী ওয়ার্ডের জাফরাবাদ গ্রামের শাহীন আক্তারের সাথে আবু তৈয়বের বিয়ে হয়। শাহীন আক্তারের দ্বিতীয় স্বামী আবু তৈয়ব।

বিয়ের পর শাহীন তার স্বামী আবু তৈয়বকে নিয়ে জাফরাবাদ গ্রামেই নতুন বাড়িতে থাকতেন। ওই বসতভিটার জমিটি শাহীন আক্তারের নামে রেজিস্ট্রি করা ছিল।

বিয়ের কয়েক বছর পর সেই বসতভিটাটি নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে দিতে চাপ দেন আবু তৈয়ব। এ নিয়ে শাহীনকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন আবু তৈয়ব।

মামলায় বলা হয়, ২০১৭ সালের ১০ জানুয়ারি দুপুরে নিজের ঘরে স্ত্রী শাহীন আক্তারকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন তৈয়ব। এরপর নিজেও ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে।

সেসময় শাহীনের স্বজন ও স্থানীয়রা দরজা ভেঙে স্বামী-স্ত্রীকে উদ্ধার করেন। চন্দনাইশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা শাহীন আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত আবু তৈয়বকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

মৃত্যুর সময় শাহীন আক্তার ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। ঘটনার দিন নিহত শাহীনের বাবা নুরুল আলম বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন।

এ ঘটনায় ২০১৭ সালের ১৯ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।

মামলার ১২ সাক্ষীর মধ্যে ওই দম্পতির দুই কন্যা শিশুসহ মোট ১১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে সোমবার রায় ঘোষণা করে আদালত।