আরো ৫০টি টিটিসি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে: প্রতিমন্ত্রী নুর
“যেখানে প্রয়োজন, সেখানে যাচাই-বাছাই করে এসব কেন্দ্র আমরা গড়ে তুলব।”
দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে দেশে আরো ৫০টি ‘টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার’ (টিটিসি) করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর।
শনিবার বিকালে চট্টগ্রাম নগরীর নাসিরাবাদে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তিনি এই পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
এর আগে ‘বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, চট্টগ্রাম’ পরিদর্শন করেন তিনি।
নুরুল হক বলেন, “বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী, আগামী ৫ বছরে বিদেশে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার একটা অগ্রাধিকার রয়েছে। তারই অংশ হিসেবে আমাদের যে পরিকল্পনা রয়েছে, সে অনুযায়ী, প্রথমত অভিবাসন ব্যয় কমানোর উপর গুরুত্ব দিচ্ছি।
“দ্বিতীয়ত আমাদের দেশ থেকে যারা যাচ্ছে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আনস্কিলড ম্যানপাওয়ার এতদিন ধরে যাচ্ছে। ফলে তারাও আসলে যে জীবনযাত্রার মান পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে যায়, সেখানে এখনকার বাস্তবতায় অনেকে সফল হয় না।”
সেজন্য দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর উপর জোর দেওয়ার কথা জানিয়ে নুরুল হক বলেন, “আমাদের মন্ত্রণালয়ের অধীনে যে ১১০টা টিটিসি, যার মধ্যে ছয়টা মেরিন এবং ১০৪টা জেনারেল। এগুলোতে প্রায় ৫৮টি ট্রেডে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
“এই ট্রেনিং সেন্টারগুলো ভিজিট করার মধ্যে দিয়ে এদের সক্ষমতা ও কার্যক্রম একটু দেখার চেষ্টা করছি। প্রকৃত অর্থে বাংলাদেশে কারিগরী শিক্ষা ব্যবস্থায় যে পলিটেকনিক ইন্সটিটিউশনগুলো আছে, তার চেয়েও এই মন্ত্রণালয়ের যে ট্রেনিং সেন্টারগুলোর আছে, সেখানে ফ্যাসিলিটজ ভালো।”
বর্তমানে বিভাগীয়, জেলা ও কিছু উপজেলা পর্যায়ে টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার আছে জানিয়ে নুরুল হক বলেন, “কিন্তু প্রকৃতপক্ষে অনেক উপজেলা আছে, যেখানে ট্রেনিং করারও ওভাবে লোকবল নাই। সেটা দেখা যায়, সেখানকার লোকাল এমপি বা কোনো প্রভাবশালী লোকের তদবিরে হয়েছে।
“আমরা এ ধরনের অপ্রয়োজনীয় প্রজেক্ট বা অবকাঠামো নির্মাণ করতে চাই না। যেখানে প্রয়োজন আছে সেখানে যাচাই বাছাই করে এই কেন্দ্রগুলো আমরা গড়ে তুলব। ১১০টার বাইরে আরো ৫০টা আমাদের নির্মাণের পরিকল্পনা আছে।”
নতুন নির্মাণের ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ফরিদপুর, শরিয়তপুরসহ প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী।
এসময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিএমইটির অতিরিক্ত মহাপরিচালক আশরাফ হোসেন।
