Published : 17 Dec 2025, 03:33 PM
চট্টগ্রামের আলোচিত ‘সন্ত্রাসী’ ছোট সাজ্জাদ উচ্চ আদালত থেকে আরো তিন মামলায় জামিন পেয়েছেন।
এ নিয়ে মোট সাতটি মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেলেন সাজ্জাদ। গত সপ্তাহে প্রথম দফায় চারটি মামলার জামিননামা চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছালে বিষয়টি জানাজানি হয়।
এরপর গত সপ্তাহে দ্বিতীয় দফায় আরো তিনটি মামলার জামিননামা কারাগারে এসে পৌঁছায়। সে বিষয়টি জানা যায় বুধবার এসে।
চট্টগ্রাম কারাগারে একের পর এক জামিননামা এলেও সাজ্জাদ এখন আছেন রাজশাহী কারাগারে। তার বিরুদ্ধে আরো মামলা থাকায় এখনই তার মুক্তি মিলছে না।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার সৈয়দ শাহ শরীফ বুধবার দুপুরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "এখন পর্যন্ত সাতটি মামলায় সাজ্জাদের জামিননামা আমাদের কাছে এসেছে। সবগুলো এসেছে গত সপ্তাহে। শুরুতে চারটি মামলায় এবং পরে আরো তিনটি মামলার জামিননামা এসে পৌঁছায়।
"সাজ্জাদ এখন রাজশাহী কারাগারে। আমরা জামিননামাগুলো সব সেখানে পাঠিয়ে দিয়েছি।"
দুই দফায় যে সাত মামলায় সাজ্জাদ ও তার স্ত্রী তামান্নার জামিন হয়েছে, তার সবগুলোই হত্যা মামলা। প্রায় কাছাকাছি সময়ে এসব মামলায় জামিন হলেও আদেশের প্রায় আড়াই মাস পর নথিপত্র চট্টগ্রামে পৌঁছেছে।
সাজ্জাদের বিরুদ্ধে ১০টি হত্যা মামলাসহ মোট ১৯টি মামলা রয়েছে। আর তার স্ত্রী তামান্নার বিরুদ্ধে রয়েছে আটটি মামলা।
গত সোমবাই ছোট সাজ্জাদ ও তার স্ত্রীকে আরো দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেয় আদালত। চান্দগাঁও থানার পুলিশ ওই দুই মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে।
এর মধ্যে একটি হল গত বছর জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালে চান্দগাঁও থানার বহদ্দারহাট এলাকায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের হামলায় ফজলে রাব্বী নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলা। অন্যটি সেসময় নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহর বাড়ির সামনে সংঘর্ষের ঘটনায় করা মামলা।
চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের জামালের ছেলে সাজ্জাদ হোসেন নগরীর বায়েজিদ, অক্সিজেন, চান্দগাঁও এলাকায় ‘ছোট সাজ্জাদ’ বা ‘বুড়ির নাতি’ হিসেবে পরিচিত। তিনি হুলিয়া নিয়ে বিদেশে পালিয়ে থাকা সাজ্জাদ হোসেনের অনুসারী।
দুই যুগ আগে চট্টগ্রাম শাহ আমানত সেতুর সংযোগ সড়কে দিনের বেলায় আড়াআড়ি বাস রেখে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীবাহী মাইক্রোবাস আটকে গুলি চালিয়ে আটজনকে হত্যার আসামি ছিলেন সাজ্জাদ হোসেন। তার অনুসারী হিসেবে তার পক্ষে বায়েজিদ ও চান্দগাঁও এলাকায় চাঁদাবাজি করেন ছোট সাজ্জাদ।
চট্টগ্রামে প্রকাশ্যে বিভিন্ন খুন, ফেইসবুক লাইভে এসে চট্টগ্রামের বায়েজিদ থানার ওসিকে পেটানোর হুমকিসহ নানা কারণে আলোচিত ছিলেন আলোচিত এ সন্ত্রাসী। গত ১৫ মার্চ ঢাকার বসুন্ধরা সিটি শপিংমল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারের পর ছোট সাজ্জাদকে চট্টগ্রাম জেলার ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ হিসেবে বর্ণনা করে চট্টগ্রাম নগর পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ বলেছিলেন, “গত বছরের অগাস্টে অক্সিজেন এলাকায় জোড়া খুন এবং পরবর্তীতে চান্দগাঁও এলাকায় প্রকাশ্যে একজনকে গুলি করে হত্যা করেছে সে। পাশাপাশি প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে চাঁদাবাজি, গার্মেন্টেসের ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধী কার্যক্রম করত।
“দুবাই প্রবাসী সাজ্জাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থেকে সে চাঁদাবাজি, বিভিন্ন ধরনের হত্যাকাণ্ডসহ নানা ধরনের অপরাধী কার্যক্রমগুলো পরিচালনা করত ছোট সাজ্জাদ।”
নগরীর চকবাজার চন্দনপুরা এলাকায় গত ৩০ মার্চ ভোর রাতে ধাওয়া করে প্রাইভেটকার থামিয়ে দুজনকে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। আহত হন আরও দুইজন।
ওই ঘটনায় সাতজনের নাম দিয়ে নগরীর বাকলিয়া থানায় মামলা করেন নিহত বখতেয়ার উদ্দিন মানিকের মা ফিরোজা বেগম।
তিনি অভিযোগ করেন, কারাগারে থাকা ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ ছোট সাজ্জাদ ও তার স্ত্রীর ‘পরিকল্পনায়’ খুনের ওই ঘটনা ঘটে।
এছাড়া গত ২৩ মে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর, ৫ নভেম্বর সরোয়ার হোসেন বাবলা খুনের পরও আলোচনায় আসে ছোট সাজ্জাদের নাম।
পুলিশ ছোট সাজ্জাদকে গ্রেপ্তারের পর ফেইসবুক লাইভে এসে ‘কাড়ি কাড়ি টাকা দিয়ে’ সাজ্জাদকে ছাড়িয়ে আনা, বিরোধী পক্ষকে হুমকি দেওয়াসহ নানা কারণে আলোচিত ছিলেন তার স্ত্রী তামান্না। গত ১০ মে জোড়া খুনের মামলায় তামান্নাকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গত মাসে সাজ্জাদকে রাজশাহী কারাগারে ও তামান্নাকে ফেনী কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।
পুরনো খবর