Published : 17 Mar 2026, 05:24 PM
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (সিসিসি) পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের 'ঈদ উপহার' বিতরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর কাজীর দেউরী ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন এই উপহার বিতরণ করেন।
এবার এ সিটির মোট ৩ হাজার ২৭০ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী ৫ হাজার টাকা করে ঈদ উপহার পেলেন।
গত রোববার সংসদ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য ঈদ উপহারের অর্থের চেক মেয়র ও প্রশাসকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
সেদিন চট্টগ্রামের মেয়রকে ১ কোটি ৬৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয় পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের ঈদ উপহার দেওয়ার জন্য।
মঙ্গলবারের অনুষ্ঠানে মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, "পরিচ্ছন্নতা কর্মীরাই একটি শহরের সৌন্দর্য ও পরিচ্ছন্নতার মূল চালিকাশক্তি। তারা দিন রাত পরিশ্রম করে, রোদ বৃষ্টি উপেক্ষা করে নগরবাসীর জন্য একটি বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করেন।
"তাদের এই অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রদত্ত এই ঈদ উপহার একটি মানবিক উদ্যোগ, যা কর্মীদের মনোবল আরও বাড়াবে।"
তিনি বলেন, "চট্টগ্রামকে একটি ক্লিন সিটি হিসেবে গড়ে তোলা আমাদের লক্ষ্য। এই লক্ষ্য অর্জনে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শহরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল কাজ, যার উপর পুরো নগরের ভাবমূর্তি নির্ভর করে।
"দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে পরিবর্তন এনে রাতের বেলায় ময়লা অপসারণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে, যার ফলে শহরের সার্বিক পরিচ্ছন্নতা অনেকটাই উন্নত হয়েছে।"
তবে এখনও ময়লা পরিবহনের সময় রাস্তায় বর্জ্য পড়ে যাওয়া এবং যানবাহন দ্রুত চালানোর কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকির কথা তুলে ধরে এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন মেয়র।
তিনি সুরক্ষার জন্য পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের ইউনিফর্ম ও সুরক্ষা সামগ্রী নিয়মিত ব্যবহার করার আহ্বান জানান।
মেয়র বলেন, "এই সরঞ্জামগুলো আপনাদের নিরাপত্তার জন্যই দেওয়া হয়েছে। এগুলো ব্যবহার করলে যেমন আপনাদের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে, তেমনি নগরের ভাবমূর্তিও উন্নত হবে।
"বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে সিসিসি বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বর্জ্য থেকে সম্পদ উৎপাদনের লক্ষ্যে রিসাইক্লিং, বায়োগ্যাস, গ্রিন ডিজেল এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের মত প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।"
উন্নত দেশগুলো বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করছে মন্তব্য করে মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, "আমাদের দেশে এখনো অনেকেই অনিয়মভাবে বর্জ্য ফেলছেন, যা জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ।
"বাসা থেকে সরাসরি বর্জ্য সংগ্রহের একটি উদ্যোগ নেওয়া হলেও নাগরিকদের আর্থিক আপত্তির কারণে তা বন্ধ করা হয়েছে। এখন থেকে আমরা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিনামূল্যে বাসা থেকে বর্জ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করব।"
মেয়রের একান্ত সহকারী মারুফুল হক চৌধুরী মারুফের সঞ্চালনায় এ অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, সিসিসির ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা কিসিঞ্জার চাকমা, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির চৌধুরী, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইমাম হোসেন রানা, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহি, উপ প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা উপস্থিত ছিলেন।