Published : 21 May 2026, 11:47 PM
ছোটখাটো কিছু বাধার কারণে চট্টগ্রামে মেগা প্রকল্পগুলোর সুফল থেকে নগরবাসী বঞ্চিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের।
আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে চলা মেগা প্রকল্প ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ শতভাগ শেষ করার লক্ষ্যের কথাও বলেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, “ছোট ছোট কিছু কাজের জটিলতার কারণে সাধারণ মানুষ সুফল পাচ্ছে না। কাজ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। এই বছরের মধ্যে জলাবদ্ধতা প্রকল্পের কাজ শেষ করার চেষ্টা করছি।
“গতকাল (বুধবার) এসে বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছি। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে বসেছি। আগামী তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে শেষ হবে। প্রায় ৯০-৯৫ শতাংশ কাজ হয়ে আছে, কিন্তু মানুষ ১৫-২০ শতাংশের বেশি সুফল পাচ্ছে না। বাকি ৫ থেকে ১০ শতাংশ কাজ হলে শতভাগ সুফল পাবে।”
জাকারিয়া তাহের বলেন, “এই প্রজেক্টগুলোর পেছনে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে। ৮-১০ বছর ধরে কাজগুলো চলছে। এটার সমাপ্তি দরকার। যাতে জনগণ সুফল পেতে পারে। সবার কাজে আহ্বান যার যার জায়গা থেকে সচেষ্ট হই।
“জনগণকে যেন সুফল দিতে পারি। কিছু ‘বটলনেক’ (প্রতিবন্ধকতা) এর কারণে পুরো প্রজেক্টের সুফল মিলছে না।”
জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প নিয়ে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কন্সট্রাকশন ব্রিগেডের সঙ্গে কথা হয়েছে মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, “এই প্রকল্পের কাজ ৯৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। আশা করি এই বর্ষাতেই জনগণ এর সুফল পেতে শুরু করবে।
“প্রকল্পের কাজ নিয়ে আমি আশাবাদী। মেয়র সাহেবের সঙ্গেও কথা হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনেরও ২১টি ছোট ছোট খাল নিয়ে কাজ করছে। এটি একটি সমন্বিত প্রয়াস।”
অতীতে আইন অমান্য করে গড়ে ওঠা ভবনগুলোর বিষয়ে গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, “বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র সাড়ে তিন মাস। অতীতে কী ঘটেছে তা নিয়ে আমি বলতে চাই না। তবে যারা অতীতে প্ল্যানের ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন, তাদেরকে কীভাবে আইনের আওতায় আনা যায়, তা আমরা খতিয়ে দেখব।”
ভবনের অনুমোদিত নকশা অনুসরণ করা না হলে ‘অকুপেন্সি সার্টিফিকেট’ (ভবন ব্যবহারের সনদ) দেওয়া হবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন “অকুপেন্সি সার্টিফিকেট ছাড়া ভবনে গ্যাস, বিদ্যুৎ বা পানির মতো কোনো ইউটিলিটি সংযোগ দেওয়া হবে না।”
এসময় সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নুরুল করিম ও অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।