Published : 16 Feb 2026, 07:02 PM
মেয়াদের শেষ প্রান্তে এসে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে (সিসিসি) দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের দাবি করেছেন মেয়র শাহাদাত হোসেন।
সোমবার বিকালে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি চাই একটা বৈধ নির্বাচন হোক। চট্টগ্রামসহ সারাদেশে সিটি করপোরেশনগুলোতে ওয়ার্ড কাউন্সিলর নেই। এতে জনগণ সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন। অনেক সময় সেবা প্রাপ্তি দীর্ঘায়িত হচ্ছে। তাই স্থানীয় সরকার পর্যায়ে দ্রুত নির্বাচন হওয়া উচিত।”
নিজের মেয়াদের বিষয়ে জানতে চাইলে মেয়র বলেন, “আমার মেয়াদ ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। তবে স্থানীয় সরকার আইনের ৬ ধারায় মেয়র কতদিন দায়িত্ব পালন করবেন, সেটা বলা আছে। সে অনুসারে বর্তমান মেয়র পরবর্তী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।
“এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জানতে চেয়েছিল। একজন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীর মাধ্যমে আমার পক্ষ থেকে লিখিতভাবে আইনের ব্যাখ্যাটি স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে।”
এর আগে সোমবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালেও স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কথা বলেন শাহাদাত।
পরে ওই ভিডিও সাক্ষাতকার মেয়রের ফেইসবুকে প্রকাশ করা হয়েছে।
এতে মেয়র বলেন, “২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যে মেয়াদটা আমার আছে, সেই মেয়াদের পরে, অবশ্যই যেন, চট্টগ্রাম নয় শুধু, সারা বাংলাদেশে যেহেতু প্রশাসক আছে প্রতিটি সিটিতে, প্রতিটি শহরে নির্বাচনটা হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। এটার উপর নির্ভর করছে জনগণ সেবা কতটুকু পাচ্ছে।
“কারণ ঢাকা একটা মেজর সিটি, সেখানেও কিন্তু প্রশাসক দিয়ে কাজ চলছে। খুলনা, রাজশাহী সিলেট— প্রতিটা বিভাগীয় শহরে প্রশাসক দিয়ে কাজ চলছে। যেটা আসলে কাজ করাটা তাদের জন্য কঠিন। আমি মেয়র হিসেবে যেটা ফ্যাসিলিটজ পাচ্ছি রাজনৈতিক নেতা হওয়ার কারণে।”
তিনি বলেন, “আমি একটা দল করি, যার কারণে দলের একটা সাপোর্ট পাচ্ছি। সাধারণ কিছু পেশাজীবী আমাকে পছন্দ করে। তারা আমাকে সাপোর্ট করে, যার কারণে চট্টগ্রামে অন্যান্য জায়গার চাইতে ভালো কিছু করতে পেরেছি।”
মেয়র বলেন, “এখন প্রায় ২২ লাখ ভোটার আছে। একটা জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচন নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে। আমি আশা করব, আমাদের যে নতুন সরকার, রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে হচ্ছে, এই নির্বাচনের চাইতে আরো বেশি ক্রেডিবল স্থানীয় সরকার নির্বাচন হোক। সমস্ত দল সেখানে অংশগ্রহণ করুক। তাদের মতামত ব্যক্ত করুক। জনগণ নির্ধিদ্বায় আসুক।”
মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, “জনগণ আমাকে যখন ভোট দিবে, তখন আমি মনে করব, হ্যাঁ এত লোক আমাকে পছন্দ করে। তখন নিজের উপর কনফিডেন্স লেভেলটা বাড়বে যে, আমাকে চার লাখ লোক পছন্দ করেছে। যেকোনো রাজনীতিকের জন্য এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
“একজন রাজনীতিকের স্বার্থকতা কোথায়? একজন রাজনীতিক কেন রাজনীতি করেন? দিনশেষে একজন রাজনীতিবিদের কতটুকু জনসমর্থন আছে, ওটার জন্যই কিন্তু একজন রাজনীতিবিদ রাজনীতি করেন।”
তিনি বলেন, “আমি যখন দেখব যে, জনগণ আমাকে চাচ্ছে না। তখন আমার নিজেরই উচিত রাজনীতি থেকে সরে যাওয়া, এটা আমি মনে করি। এই কালচার যতক্ষণ ডেভেলপ না হবে, গণতন্ত্র বিকশিত হবে না।”
২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে ৩ লাখ ৬৯ হাজার ২৪৮ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন নৌকার প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন ধানের শীষ প্রতীকে পান ৫২ হাজার ৪৮৯ ভোট।
২০২১ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মেয়র হিসেবে শপথ নেন রেজাউল করিম চৌধুরী।
ভোটে কারচুপির অভিযোগ তুলে ফল বাতিল চেয়ে ২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন শাহাদাত।
সরকার পরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর সেই মামলার রায়ে শাহাদাতকে নির্বাচিত ঘোষণা করেন চট্টগ্রামের নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালের বিচারক যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ খাইরুল আমীন। পরে ওই বছরের ৩ নভেম্বর মেয়র পদে শপথ নেন শাহাদাত হোসেন।