Published : 18 May 2026, 11:49 PM
চট্টগ্রাম বিভাগের প্রতি ছয়জন বাসিন্দার মধ্যে একজনের কাছে ব্র্যাকের সেবা পৌঁছেছে বলে প্রতিষ্ঠানটির এক প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।
স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আর্থিক সেবায় অন্তর্ভুক্তি, দুর্যোগ ও সংকট মোকাবিলা, নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন (ওয়াশ), জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, অভিবাসন ও দক্ষতা উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এসব সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার সকালে নগরীর একটি হোটেলে ব্র্যাকের চট্টগ্রাম বিভাগের ২০২৫ সালের প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ তথ্য তুলে ধরা হয় বলে প্রতিষ্ঠানটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বলা হয়, চট্টগ্রাম বিভাগে ৮ হাজার ৫০৭টি অতি-দরিদ্র পরিবার আর্থিক সহায়তা পেয়েছে এবং ১০ হাজার ৩৯৪টি পরিবার অতিদারিদ্র্য থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। জলবায়ু-সহনশীলতা বিষয়ে সহায়তা পেয়েছেন ৯ হাজার ৪৬৪ জন এবং ৪৭১ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সহায়তা পেয়েছেন।
মাইক্রো ফাইন্যান্সের আওতায় আর্থিক সেবা পেয়েছেন ২৭ লাখ ৭০ হাজার মানুষ। ১ হাজার ১৭৬ জন বেকার যুবককে উদ্যোক্তা তৈরি ও কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। কমিউনিটিভিত্তিক স্বাস্থ্য কার্যক্রমে ২ লাখ ৩ হাজার ৮২২ জন সেবা পেয়েছেন। এ ছাড়া ১৩ হাজার ৬৬৬ জন গর্ভবতী নারী পূর্ণাঙ্গ প্রসবপূর্ব সেবা পেয়েছেন এবং ৭ হাজার ২১৩টি নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত করা হয়েছে। ৩৮ হাজার ৬০৪ জনের চোখের পরীক্ষা এবং ১০ হাজার ১১৯টি চশমা বিতরণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ব্র্যাকের ঊর্ধ্বতন পরিচালক (অ্যাডভোকেসি, কমিউনিকেশনস ও এনগেজমেন্ট) কেএএম মোর্শেদ বলেন, “ব্র্যাকের কর্মকাণ্ডের ৮০ ভাগের বেশি নিজেদের অর্থায়নে পরিচালিত হয়। দাতাদের সহায়তা ১৮ থেকে ১৯ ভাগ। ব্র্যাক তাই নিজেদের সিদ্ধান্তেই দেশ ও মানুষের প্রয়োজনে উন্নয়নমূলক যেকোনো কাজ হাতে নিতে পারে। এ জন্য কারো অনুমোদন বা পরামর্শের প্রয়োজন হয় না।
“ব্র্যাকের বিস্তৃতি বিশ্বজুড়ে, তবে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার দেশের মানুষ। ব্র্যাকের জন্ম বাংলাদেশে। এর অন্যতম দর্শন হচ্ছে, মানুষের ভেতরের অমিত সম্ভাবনাকে জাগিয়ে তোলা এবং তা এগিয়ে নিয়ে যেতে সহায়তা করা।”
অনুষ্ঠানে শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ সহনশীলতা, নারী ও পুরুষের সমঅধিকার, সামাজিক ব্যবসা উদ্যোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্র্যাকের গত এক বছরের কার্যক্রম তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে বলা হয়, চট্টগ্রাম বিভাগে কর্মরত ১৫ হাজার ৯৮৪ জন কর্মী ব্র্যাকের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছেন। এর মধ্যে ৩৭ শতাংশই নারী। এ বিভাগে সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচির ৯১৫টি কার্যালয় এবং সামাজিক ব্যবসা উদ্যোগের ৩৯টি কার্যালয়ের মাধ্যমে এসব কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত উপ মহাপরিদর্শক মো. নাজিমুল হক, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক শেখ ফজলে রাব্বি, চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পাঠান মো. সাইদুজ্জামান, চট্টগ্রাম নগর জামায়াতের সেক্রেটারি মুহাম্মদ নুরুল আমিন, চট্টগ্রাম সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সভাপতি প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন মজুমদার, পাবলিক কৌঁসুলি মফিজুল হক ভূঁইয়া, নারী উদ্যোক্তা সুলতানা জাহান, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক জাহিদুল করিম ও এনসিপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইফরাত ইব্রাহিম।
ব্র্যাকের সমন্বিত কর্মসূচির জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক আঞ্জুমান আরা বেগম চট্টগ্রামে বিভাগে ২০২৫ সালে ব্র্যাকের কর্মসূচি সংক্ষেপে তুলে ধরেন।