Published : 29 Oct 2025, 10:32 PM
জমি বরাদ্দের শর্ত অনুসারে ভবন নির্মাণ করা হয়নি, উল্টো সেই জমি ভাড়া দেওয়া হয়েছে। এমনকি ব্যাংকে বন্ধক রেখে ঋণও নেওয়া হয়েছে।
নগরীর আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকায় ‘বালুর মাঠের’ ওই জমি ‘বেআইনিভাবে বরাদ্দ ও দখলের অভিযোগে’ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-১ এর এনফোর্সমেন্ট দল চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) কার্যালয়ে অভিযান চালায়।
বুধবার দুদকের ওই অভিযানে প্লট বরাদ্দে অনিয়মের তথ্য-প্রমাণ মিলেছে বলে জানিয়েছেন দুদক কর্মকর্তারা।
দুদকের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মেসার্স মডার্ন প্রপার্টিজ লিমিটেড ও মেসার্স হাসান আবাসন প্রাইভেটে লিমিটেডকে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে ১০১ কাঠা জমি লিজ দেওয়া হয়।
লিজের শর্ত হিসেবে, দখল বরাদ্দের পরবর্তী দুই বছরের মধ্যে বহুতল ভবন নির্মাণ করার কথা ছিল।
দুদক বলছে, ২০২০ সালে জমিটি ব্যাংক মর্টগেজ দিয়ে ঋণ গ্রহণের জন্য সিডিএর কাছ থেকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) সংগ্রহ করা হয় এবং এস আলম ট্রেডিংয়ের নামে অন্যান্য জমিসহ জনতা ব্যাংকের চট্টগ্রাম চৌমুহনী শাখা থেকে ঋণ গ্রহণ করে।
দুদকের পরিদর্শক দল আগ্রাবাদের সিডিএ আবাসিক এলাকায় ১০১ কাঠার ওই জমিটি পরিদর্শন করে।
সিডিএ’র নথিপত্র অনুসারে, ২০০১ ও ২০০৫ সালে যথাক্রমে মেসার্স মডার্ন প্রপার্টিজ লিমিটেড ও মেসার্স হাসান আবাসন প্রাইভেট লিমিটেডকে মোট ১০১ কাঠা জমি ইজারা দেওয়া হয়।
দুদকের পরিদর্শক দল ওই জমিতে গিয়ে চৌধুরী সুপার শপ ও রয়েল অটো কার নামে দুইটি ভাড়ায় পরিচালিত প্রতিষ্ঠান পায়। এসব প্রতিষ্ঠান সেখানে কীভাবে হলো, সে বিষয়েও সিডিএর নথিতে কোনো তথ্য পাননি দুদক কর্মকর্তারা।
সিডিএ নথি অনুসারে, ওই দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে হাসান আবাসন প্রাইভেট লিমিটেড এস আলম গ্রুপের গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান। ওই প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল্লাহ হাসান এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলম মাসুদের ভাই এবং গ্রুপটির পরিচালক।
দুদক চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক সুবেল আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, “বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য জমি বরাদ্দ নিয়ে অন্য দুটি প্রতিষ্ঠানকে ভাড়া দিয়েছে মেসার্স মডার্ন প্রপার্টিজ লিমিটেড ও মেসার্স হাসান আবাসন লিমিটেড।
“ভাড়া দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য সিডিএর নথিতে নেই। বহুতল আবাসনের জন্য ইজারা দেওয়া জমিতে কী কী শর্ত ভঙ্গ করেছে, তা দেখতে রেকর্ডপত্র চাওয়া হয়েছে। সেগুলো দেখে কমিশন বরাবর প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে সিডিএর ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা সাদিকুর রহমান বলেন, “যখন জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়, তখন নিয়ম-কানুন মেনেই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে বোর্ডে আসে। তারপর নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতা হয়ে তারা সব টাকা জমা দিয়ে লিজ গ্রহণ করে।”
সিডিএর চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নুরুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, “ইজারার দুই বছরের মধ্যে ভবন করার কথা ছিল। সেটা হয়নি। সেখানে কিছু দোকানপাট হয়েছে। আবার জায়গা বন্ধক দিয়ে ঋণ নেওয়া হয়েছে। এগুলো অনেক আগের ঘটনা।
“যখন আমাদের নজরে এসেছে, তখন পদক্ষেপ নিয়েছি। শর্ত ভঙ্গ করায় একাধিকবার নোটিস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু জমি বরাদ্দ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখন পাওয়া যাচ্ছে না।”