Published : 23 Dec 2025, 04:31 PM
চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর নির্দেশনা চেয়ে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন নিহতের বাবা জামাল উদ্দিন।
মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১টায় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে এ আবেদন জমা দেন মামলার বাদী জামাল।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার পক্ষে আবেদনটি গ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দীন।
চট্টগ্রাম মহানগর আদালতের সহকারি পিপি মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “জেলা প্রশাসকের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবেদনটি গ্রহণ করেছেন। তিনি আবেদনটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠাবেন বলে আমাদের জানিয়েছেন।”
এসময় উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী ইমতিয়াজ রেজা নিশান ও আইনজীবী আহসান উল্লাহ মানিক।
আবেদনে বলা হয়, “২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর ইসকনের নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে একটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার ও চট্টগ্রাম আদালতে উপস্থাপন শেষে জামিন নামঞ্জুরের আদেশ পরবর্তী সময়ে তার অনুসারীদের দ্বারা চট্টগ্রাম আদালত চত্ত্বরে সংঘটিত সহিংস ও ন্যাক্কারজনক ঘটনায় শহীদ অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফ উগ্রবাদী সন্ত্রাসীদের দ্বারা নৃশংসভাবে নিহত হন।”
ওই হত্যাকাণ্ডটি ‘একটি চরম চাঞ্চল্যকর, সংবেদনশীল ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা’ উল্লেখ করে আবদেনে বলা হয়, “যা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিচার বিভাগের নিরাপত্তা এবং আইনের শাসনের মৌলিক ভিত্তিকে গুরুতর ভাবে বিঘ্নিত করেছে।
“এই ঘটনায় সরকারের শীর্ষ পর্যায়সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী সংগঠন এবং দেশে-বিদেশের অসংখ্য মানুষ তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ফলে সাধারণ জনগণ ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও ব্যাপক ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়েছে।”
আলিফ হত্যা মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় মঙ্গলবাইর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়।

এরপরই মামলাটির বিচার কাজ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পরিচালনার জন্য নির্দেশনা চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাবর আবেদন করেন আলিফের বাবা।
আবেদনে মামলার জামাল উদ্দিন বলেন, “উক্ত মামলাটি একটি জাতীয়ভাবে আলোচিত ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত মামলা, যার সঙ্গে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জননিরাপত্তা ও আইনের শাসনের মৌলিক প্রশ্ন ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
“ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ এবং দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার সম্পন্ন করার স্বার্থে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার হওয়া একান্ত প্রয়োজন।”
আলিফ হত্যা মামলাটির প্রকৃতি, প্রেক্ষাপট, সামাজিক প্রতিক্রিয়া ও জাতীয় প্রভাবের কারণে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারের জন্য ‘সম্পূর্ণভাবে উপযুক্ত, প্রাসঙ্গিক ও আইনগত সকল মানদণ্ড পূরণ করে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
গত ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত ভবন এলাকায় মানববন্ধন ও সমাবেশ করে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ আইনজীবীরা আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছিল।
২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশের পর চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে প্রিজন ভ্যান ঘিরে বিক্ষোভ করে সনাতনী সম্প্রদায়ের লোকজন। আড়াই ঘণ্টা পর পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে চিন্ময়কে কারাগারে নিয়ে যায়।
বিক্ষোভকারীরা আদালত সড়কে রাখা বেশ কিছু মোটরসাইকেল ও যানবাহন ভাঙচুর করে। এরপর আদালতের সাধারণ আইনজীবী ও কর্মচারীরা মিলে তাদের ধাওয়া করে। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে রঙ্গম কনভেনশন হল সড়কে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
আইনজীবী আলিফ হত্যার ঘটনায় গত বছরের ২৯ নভেম্বর নগরীর কোতোয়ালী থানায় মামলা করেছিলেন আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন।
মামলায় ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১৫/১৬ জনকে আসামি করা হয়েছিল। ওই মামলায় সব আসামি ছিল নগরীর রঙ্গম কনভেনশন হল সংলগ্ন বান্ডেল সেবক কলোনির বাসিন্দা।
তদন্ত শেষে গত ১ জুলাই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (কোতোয়ালী) মাহফুজুর রহমান মোট ৩৮ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। তাতে প্রধান আসামি করা হয় চিন্ময় দাসকে।
পরে ২৫ অগাস্ট চিন্ময় দাস ব্রহ্মচারীসহ ৩৯ আসামির বিরুদ্ধে বাদির উপস্থিতিতে অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আদালত। এই ৩৯ জনের মধ্যে ১৭জন আসামি এখনো পলাতক।
আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলা বিচারের জন্য গেল জজ আদালতে
বিচারের জন্য প্রস্তুত আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলা
আলিফ হত্যা: আসামিদের গ্রেপ্তার-বিচার দাবিতে আইনজীবীদের মানবন্ধন