Published : 01 Mar 2022, 09:49 PM
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তীর্থস্থানে আসা- যাওয়ার পথে দেখা গেছে হাজারো মানুষের সারি। ভিড়ের কারণে বয়স্কদের অনেকে চন্দ্রনাথ ধাম পর্যন্ত পৌঁছাতেও পারেননি।
রোববার রাত থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পুণ্যার্থীরা আসতে থাকেন। পঞ্জিকা মতে, সোমবার রাত ২টা ৫০ মিনিট ৪৪ সেকেন্ডের পর শুরু হয় শিব চতুর্দশী তিথি। এই তিথি থাকবে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত।
করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে ২০২১ সালে শিব চতুদর্শীতে মেলার আয়োজন ছিল না। এবার বিধি-নিষেধ না থাকায় গত কয়েক বছরের তুলনায় বেশি লোক সমাগম হয়।
শিব চতুর্দশীতে ব্রত রেখে সীতাকুণ্ডে আসা দেশি-বিদেশি পুণ্যার্থীরা শুরুতে স্বয়ম্ভুনাথ মন্দির, এরপর বিরুপাক্ষ মন্দির ও সর্বশেষ চন্দ্রনাথ মন্দির পরিক্রমা করে ফিরে আসেন।
সিঁড়ি বেয়ে প্রায় ১,২০০ ফুট উঁচুতে চন্দ্রনাথ পাহাড়ের চূড়ায় দেবতা শিবের মন্দিরের দিকে শুরু হয় পুণ্যার্থীদের যাত্রা। মন্দিরে যাওয়ার আগে ব্যাস কুণ্ডে স্নান করেন ভক্তরা। তারপর পাহাড় চূড়ায় পূজা ও শিব লিঙ্গে অর্ঘ্য দেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আসা বিষ্ণুপদ দাশ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সকাল সাড়ে ১০টায় যাত্রা করে আড়াইটায় চন্দ্রনাথে পৌঁছেছি। এখন নামছি। কিন্তু মানুষের এত ভিড় আরও হয়ত দুই ঘণ্টা লাগবে।”
চন্দ্রনাথে পৌঁছানোর পথে দেখা গেছে উপচে পড়া ভিড়। কেউ কেউ লাঠি ও বাঁশ হাতে পাহাড়ি পথ পাড়ি দিচ্ছিলেন।
বর্ষীয়ান হরিপদ দাশ স্ত্রীসহ রওনা হয়েছিলেন চন্দ্রনাথ ধামের উদ্দেশে। তিনি বলেন, “এত ভিড় যে শম্ভুনাথ মন্দিরের পর আর উপরে উঠতে পারিনি। ঘণ্টাখানেক দাঁড়িয়ে ছিলাম ভিড় কমার আশায়, পরে ফিরে এসেছি।”
ব্যস কুণ্ড, পুণ্য পুকুর, রাম সীতা মন্দির, সীতা কুণ্ড ঘিরে ছিল কয়েক হাজার মানুষ। চন্দ্রনাথ মন্দিরের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন বয়সী হাজারো পুণ্যার্থী সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠছেন।

বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় মেলাগুলোর মধ্যে একটি সীতাকুণ্ডের শিব মেলা। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে চন্দ্রনাথ পাহাড়ের পাদদেশে স্বয়ম্ভুনাথ মন্দির পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে বসে এই মেলা।
‘লাখো’ তীর্থযাত্রীর আগমনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশে সকাল থেকেই যান চলাচলের গতি ছিল ধীর।
মেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক পলাশ চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার সবচেয়ে বেশি মানুষ হয়েছে। এখনও তীর্থযাত্রীরা আসছে। তবে দুপুর থেকে চাপ কিছুটা কম।
“প্রশাসন আমাদের সব রকম সহযোগিতা করেছে। মেলায় এবার প্রায় ৭০০ দোকান বসেছে। আমাদের ও স্রাইন (তীর্থ) কমিটিসহ কয়েক হাজার স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছে।”

“ওয়াচ টাওয়ার, সিসি ক্যামরা ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে নিরাপত্তার জন্য। গত রাত ১২টার পর থেকে ভিড় বাড়তে শুরু করে। আজ বেলা ১টার পর ভিড় কিছুটা কম। আশাকরি আজ রাতের মধ্যেই বেশিরভাগ তীর্থযাত্রী ফিরে যাবেন।”
প্রতিবছর শিব চতুর্দশী মেলা উপলক্ষে শিবরাত্রি ব্রত পালন এবং শিব লিঙ্গে অর্ঘ্য নিবেদন করতে জড়ো হন পুণ্যার্থীরা।
সেজন্য এবার সোমবার রাত থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ছেড়ে আসা প্রায় সব ট্রেন এবং চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা পাঁচটি ট্রেন সীতাকুণ্ড স্টেশনে দুই মিনিটের জন্য যাত্রাবিরতি করছে।