Published : 22 Sep 2025, 06:29 PM
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে কোনো ফাইল গেলে সেটি আর অনুমোদন হয় না অভিযোগ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন।
তিনি বলেছেন, “আমাদের তিনটা প্রজেক্ট এখনো এলজিআরডি মিনিস্ট্রিতে (স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়) আছে। অ্যাডভাইজার সাহেব এটা যখন দেখেন যে এটা একটা প্রজেক্ট, উনি ফাইলটা আর মিনিস্ট্রিতে রাখেন না, ঘরে নিয়ে যান।
“‘দিজ ইজ দ্য প্যাটিথিক সিনারিও দ্যাট উই আর ফেসিং নাও আ ডেইজ’। ফাইল আছে সবই আছে। খুব চমৎকারভাবে উনারা বাসায় নিয়ে যান। মিনিস্ট্রি থেকে ফাইল গায়েব হয়ে যায়। এটা আমার গত ১১ মাসের অভিজ্ঞতা।”
সোমবার নগরীর জামালখানে চিটাগং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি (সিআইইউ) ক্যাম্পাসে ‘পরিচ্ছন্নতা সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান’ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।
মেয়র বলেন, “ফাইল আর মিনিস্ট্রিতে পাওয়া যায় না। আমি খুঁজতে খুঁজতে খুঁজতে খুঁজতে মিনিস্ট্রিতে…। আমার ফাইল কই? বলে, ফাইল তো বাসায় নিয়ে গেছে। এখন বাসা থেকে ওটার আর পরে সিগনেচার হয় না। ওটা আর আসে না।
“এই ইউকের প্রজেক্টটা আমি আর করতে পারিনি। জাপান ‘অ্যাজ ওয়েল অ্যাজ’ কোরিয়ার প্রজেক্টও। আজকে এগুলো যদি আমি অনেক দ্রুত পেতাম, তাহলে চট্টগ্রাম শহর অনেক সুন্দর করে দিতে পারতাম। এটা শুধু চট্টগ্রাম সিটির ব্যর্থতা নয়, এটা রাষ্ট্রের ও সরকারের ব্যর্থতা। চারশ কোটি টাকার আমার যে ইন্সট্রুমেন্টের প্রজেক্ট, সেটা ফিন্যান্স মিনিস্ট্রিতে গিয়ে হয়ে গেল ২৯৮ কোটি টাকা। প্রায় একশ কোটি টাকা কেটে দিল।
“কেটে দিয়ে সেখানে বলে দিল, আমাদের ১৬০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হবে ৫ শতাংশ সুদে। আমরা একটা সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান। শুধু ৬০ কোটি টাকা তারা আমাকে বরাদ্দ দেবে। বাকিটা সিটি করপোরেশনকে থেকে দিতে হবে।”
শাহাদাত হোসেন বলেন, “ওই ফাইলটা কিন্তু এখনো পর্যন্ত ওই জায়গায় রয়ে গেছে। আমি এখনো দৌড়াচ্ছি, প্রত্যেক মন্ত্রণালয়ে যাচ্ছি। প্রধান উপদেষ্টাকে বলেছি। আমি কোথায় যাব? এর উপর আর কেউ আছে? উনি চট্টগ্রামের মানুষ। উনাকে বলেছি, উনার পিএসকে বারবার বলেছি যে, কাজটা করে দেন। আমার মেশিনারিজ খুব দরকার। আমার আসলে মেশিনারিজ নেই।

“যে যন্ত্রপাতিগুলো আছে সেগুলো ১৫-২০ বছরের পুরনো। গত সরকার একটা ড্রেনেজ সিস্টেম করতে গিয়ে ১৪ হাজার কোটি টাকার মত প্রায় খরচ করেছে। আর এটা যন্ত্রপাতি কেনার জন্য তিনশ কোটি টাকার খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্ট। কিন্তু সেখানে গিয়ে আমি ফেইল করলাম।”
তিনি বলেন, “আমি ফেইল করলাম মানে রাষ্ট্র ফেইল করল। একদম স্ট্রেইট ফেইল করল। একটা সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানকে দিতে কার্পণ্য করল। আমি এটা দিতে পারছি না। এটা অমাদের ব্যর্থতা। জলাবদ্ধতা একটা বড় সমস্যা। আমি এটা সমাধান করতে চাই।
“এখানে যে উপদেষ্টাকে পাঠানো হল, মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, আমি উনার সঙ্গে অনেকবার কথা বলেছি। অনুরোধ করলাম। সবশেষে তিনি বললেন, প্রথমে জলাবদ্ধতার সমস্যা সমাধান হয়ে যাক, তারপর আপনি সেটা পাবেন। আমার ৫০-৬০ শতাংশ জলাবদ্ধতার সমস্যা ইতিমধ্যে সমাধান হয়েছে। এখনো আমি সেটা পাচ্ছি না। কাজেই কথা আমরা বলি, কিন্তু এখানে কথার পিছনে কথা থাকে।”
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব।
সিটি মেয়রের বক্তব্যের পরে তিনি বলেন, “আমাদের ফান্ডিং যা বরাদ্দ করা হয়েছে, আমার মনে হয় সেটা নেওয়া দরকার। কারণ সরকারের আনলিমিটেড রাজস্ব নাই। যেহেতু সরকারের রাজস্ব নাই, সরকার চাইলেই অনেক বেশি অর্থ কাউকে দিতে পারে না।
“আমরা সব মিনিস্ট্রি, ফাইন্যান্স মিনিস্ট্রির সাথে মারামারি করি। লিটারেলি মারামারি করছি। আমরা চাইলে বাজেটটা পাই না। যেই বাজেটটা পাওয়া গেছে, যেহেতু মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশ, আপনাকে যদি ৫ শতাংশ দিয়ে থাকে তাহলে আপনি প্লিজ এই ফান্ডটা নিবেন এবং চট্টগ্রামের মানুষকে বঞ্চিত না করে এই ফান্ডটা দিয়ে কাজ শুরু করবেন।”
ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব বলেন, “আমাদের যে উন্নয়নটা হয়েছে এবছর জলাবদ্ধতা থেকে। চট্টগ্রামের মানুষকে জলাবদ্ধতা থেকে রেহাই দিতে পেরেছি। আমরা এ বছর গলা পরিমাণ পানি দেখিনি। আমি জানি না, আপনারা দেখেছেন কিনা।
“সিটি করপোরেশন, সিডিএ, নাগরিক সমাজ, ছাত্র ও শিক্ষক সমাজ যারা এ লক্ষ্যে কাজ করেছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। আপনাদের মোটিভেশনটা আছে। এই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা যেটা শুরু হয়েছে, আশাকরি আগামী এক বছরে সুফল দেখতে পাব।”
সিটি করপোরশনকে আয় বাড়াতে হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “সিটি করপোরেশন যত বেশি সরকারের উপর নির্ভরশীল হয়ে যাবে তত সিটি গর্ভমেন্টের ধারণাও পিছিয়ে যাবে। প্রমাণ করতে হবে, সিটি নিজের আয়ে নিজে চলতে পারে। যখন নিজের পায়ে দাঁড়াবে তখন এই ভয়েসটা জোরালো হবে যে আমি কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ হওয়া ডিজার্ব করি না।”
অনুষ্ঠানে সিআইইউ এর উপাচার্য অধ্যাপক এম এম নুরুল আবসার সভাপতিত্ব করেন। স্বাগত বক্তব্য দেন সিআইইউ ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য সৈয়দ মাহমুদুল হক। ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান লুৎফে এম আইয়ুবও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
সিআইইউর সহকারী রেজিস্ট্রার রুমা দাশের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ নুরুল করিম, চট্টগ্রাম সিটির প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা কমান্ডার ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী।