Published : 02 Mar 2026, 07:09 PM
চট্টগ্রামে ‘ঘোষণা দিয়ে’ নগর পুলিশের পক্ষ থেকে শুরু করা অভিযান ‘এস ড্রাইভে’ ধরা পড়েছে ৬৫ জন, যাদের ৪১ জনই ‘ছিনতাইকারী’।
ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমানের বাসায় ‘চাঁদার দাবিতে’ গুলি বর্ষণের ঘটনায় নানা আলোচনা সমালোচনার মধ্যে রোববার রাত ১১টায় জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডাকে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি)। সেখানে শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানোর ঘোষণা দেওয়া হয়।
সিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বিভিন্ন থানায় থানায় সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়ে রাতে এ অভিযান চালানো হয়; নাম দেওয়া হয় ‘এস ড্রাইভ’।
সোমবার বিকালে নগর পুলিশের পক্ষ থেকে পাঠানো অভিযান বিবরণীতে ৪১ জন ছিনতাইকারী, পাঁচজন চাঁদাবাজ, দুই জুয়াড়ি, পাঁচজন মাদক কারবারী ও কিশোর গ্যাংয়ের ১২ জনসহ ৬৫ জনকে আটকের তথ্য জানানো হয়।
এছাড়া অভিযানে একটি দেশীয় তৈরি এলজি, তিনটি ছোরা, ১২টি শর্টগানের কার্তুজ, ১০ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, দুটি ছুরি, তিনটি ধামা, একটি চাপাতি ও ৪৬৯টি ইয়াবা বড়ি উদ্ধারের কথা বলা হয়।
রাতের জরুরি সংবাদ সম্মেলন এবং ঘোষণা দিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়ে চালানো এ অভিযান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়।
এর মধ্যে সোমবার বিকালে সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ওয়াহিদুল হক এ অভিযানকে তাদের ‘কৌশল’ হিসেবে মন্তব্য করেন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “অভিযান হয় গোপনে। আমাদের গোয়েন্দা অভিযানসহ বিভিন্ন অভিযান চলমান আছে। তবে আমাদের একটা কৌশল আছে, সে কৌশলে আমরা এ অভিযান পরিচালনা করেছি।”

নগরীর চকবাজার থানার চন্দনপুরা এলাকায় স্মার্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবুর রহমানের বাড়ি লক্ষ্য গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে শনিবার ভোরের দিকে। এর আগে গত ২ জানুয়ারি ওই বাড়ি লক্ষ্য করে কয়েকজন গুলি চালিয়েছিল।
‘চাঁদার দাবিতে’ প্রথমবার গুলি করার পর ওই বাড়িতে বসানো হয়েছিল পুলিশ পাহারা। এর মধ্যে দ্বিতীয় দফায় শনিবার গুলি চালানো হয় বাড়ির পেছন থেকে।
ঘটনার পর সমালোচনা শুরু হলে রোববার সেটি নিয়ে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। হামলাকারীদের ‘চিহ্নিত করা গেছে’, এমন কথাও বলেন মন্ত্রী।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর সেদিন রাতে রাত ১১টায় চট্টগ্রাম নগর পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে কথা বলতে আসেন অতিরিক্ত কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি ব্যবসায়ীর বাড়িতে গুলি বর্ষণকে 'বিচ্ছিন্ন ঘটনা' মন্তব্য করে বলেন, “এ ঘটনা নিয়ে নগরবাসীর শঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। এটা একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। যদি বলেন ব্যর্থতা, সেটা আমরা মেনে নিয়েছি।"
তিনি নগরবাসীর নিরাপত্তাহীনতা দূর করে আস্থা অর্জনের জন্য অভিযান পরিচালনার কথা জানান। যে অভিযানের নাম দেওয়া হয় ‘এস ড্রাইভ’।
অভিযানের সাফল্য কী, এ বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত কমিশনার ওয়াহিদুল বলেন, “এসব অপরাধী পেশাদার। অন্য ১০টা অপরাধীর মতো তারা না। তাদের কাছে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রও আছে। তাদের শনাক্ত করতে হলে আমাদের বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে হবে।”
তিনি বলেন, “এ ধরনের অপরাধীরা গোপন স্থানে লুকিয়ে থাকে। আমরা অনেক জায়গায় অভিযান চালিয়েছি। অপরাধীরা যেন বুঝতে পারে, তাদের সব প্রাইভেসির জায়গায় আমরা হাত দিয়েছি।”
ব্যবসায়ীর বাসায় গুলি: 'ব্যর্থতা মেনে নিয়ে' অভিযানে পুলিশ
ব্যবসায়ীর বাসায় গুলি: সন্ত্রাসীদের ‘চিহ্নিত করা গেছে’, বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী