Published : 02 Feb 2026, 12:19 AM
জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে ‘নারীবিদ্বেষী পোস্ট’ আসার প্রতিবাদে ঝাড়ু হাতে বিক্ষোভ করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী।
রোববার রাত ৯টায় ক্যাম্পাসের জিরো পয়েন্টে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে মিছিল নিয়ে কাটা পাহাড় রোড প্রদক্ষিণ করে শহীদ মিনার গিয়ে শেষ হয়।
এসময় শিক্ষার্থীদের ‘নারী নয় পতিতা- শফিক তুই ক্ষমা চা’, ‘আমার সোনার বাংলায়, নারী হেনস্থাকারীদের ঠাঁই নাই’, ‘দেশের শক্তি অর্ধেক নারী, শফিক তুই জানস নাকি’, ‘পাল্লা হাতে গোলামের পুত, কর্মজীবী মা-বোনকে বলে প্রস্টিটিউট’, ‘মোল্লাতন্ত্রের বিষদাঁত ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’, ‘ধর্মীয় ফ্যাসিবাদ কিক আউট’, ‘রাজাকারের ঠিকানা, এ বাংলায় হবে না’, ‘একাত্তরের ধর্ষকেরা হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘এমন হ্যাকার করলো হ্যাক, বেশ্যা ডেকে আইডি ব্যাক’ এবং ‘শফিকের দুই গালে- জুতা মারো তালে তালে’ স্লোগান দিতে শোনা যায়।
মার্কেটিং বিভাগের সুমাইয়া শিকদার বলেন, “জামায়াত আমিরের আইডি হ্যাক হয়েছে, এই দাবি হাস্যকর। ঢাবিকে ‘বেশ্যা’ বলা ও কর্মজীবী নারীদের নিয়ে কটূক্তি করার ঘটনাগুলো আগেও ঘটেছে। তাই আমরা হ্যাকের বিষয়টি বিশ্বাস করি না।
“তারা ধর্মকে ব্যবহার করে নারী অবমাননা করছে। এত দ্রুত হ্যাক হয়ে আবার আইডি ফিরে আসা কীভাবে সম্ভব? তারা কি বাংলাদেশকে আফগানিস্তান বানাতে চায়? রাষ্ট্রের কাছে কি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার মতো কোনো আইন নেই? আমরা জামায়াত নেতার এসব বক্তব্য ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি এবং এমন রাজনীতি টিকতে দেব না।”
ইংরেজি বিভাগের নুসরাত জাহান বলেন, “একটি গণতান্ত্রিক দেশে কর্মজীবী মা-বোনরাই দেশ চালিয়ে নিচ্ছেন। সেখানে তাদের নিয়ে এমন কটূক্তি অত্যন্ত নিন্দনীয়। ইসলামে নারীর সর্বোচ্চ সম্মানের কথা বলা হয়েছে, অথচ তারা সেই নারীদেরই অপমান করছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।”
স্পোটস সাইন্স বিভাগের শিক্ষার্থী শ্রুতি রাজ চৌধুরী বলেন, “৫ অগাস্ট পরবর্তী যে দেশের স্বপ্ন আমরা দেখেছিলাম, তা ভেঙে যাচ্ছে। একদল নিজেদের নামের সঙ্গে ইসলাম ব্যবহার করে, অথচ নারীদের নিয়েই কটূক্তি করে। তারা কোনো দায় নিচ্ছে না। তাদের আসল চেহারা জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।”