Published : 06 Sep 2025, 09:35 PM
স্থানীয়রাই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ‘মালিক’ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর হাটহাজারী উপজেলা আমির সিরাজুল ইসলাম।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন জোবরা গ্রামে গিয়ে তার এ ধরনের বক্তব্য দেওয়ায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী, যাদের মধ্যে ইসলামী ছাত্রশিবিরও আছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জোবরা গ্রামের বাসিন্দাদের উদ্যোগে এক মতবিনিময় সভা হয়। সেখানে জামায়াতে ইসলামীর (চট্টগ্রাম ৫) মনোনীত প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন। বক্তব্য দেন চবি ছাত্রশিবিরের অফিস সম্পাদক হাবিবুল্লাহ খালেদও।
বক্তব্যে সিরাজুল ইসলাম বলেন, “আমরা হচ্ছি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় পার্শ্ববর্তী এলাকার মালিক। আমরা জমিদার, ঠিক কিনা? জমিদারের ওপর কেউ হস্তক্ষেপ করবে, এটা কী আমরা মেনে নিতে পারি? কখনোই না।
“আমরা অতীতেও মেনে নিই নাই; সামনেও মেনে নিব না। এ বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে আমাদের বুকের উপর। আমরা হচ্ছে এই জায়গার মালিক। এজন্য আমরা অন্যায় কিছু মেনে নিব না। আমাদেরকে সম্মান করতে হবে।‘‘
সিরাজুল ইসলাম বলেন, “সম্মান দেওয়ার মত পরিবেশ আমরা করে দেব। বিশ্ববিদ্যালয় যদি আমাদের যথাযথ সম্মান না করে, তাহলে জনগণ নিয়ে যেটা করা দরকার, সেটা আমরা সামনে করব।‘‘
শিবিরের অফিস সম্পাদক হাবিবুল্লাহ খালেদ বলেন, ভুল বোঝাবুঝিকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে। প্রকৃত সন্ত্রাসীরা এ এলাকার নয়, বাইরে থেকে এসেছে। তাদের গ্রেপ্তার করতে হবে।
“এলাকাবাসীর কাছে আহ্বান জানাই, আপনারা তো কখনো এ ধরনের কাজ করেননি। যারা করেছে, তাদের ধরিয়ে দিন।”


এদিকে সিরাজুল ইসলামের বক্তব্য প্রত্যাখান করে শনিবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের বিবৃতিতে বলা হয়, তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা প্রকৃত সন্ত্রাসীদের অপকর্মকে আড়াল করে দেয়। উনার বক্তব্য স্থানীয় সন্ত্রাসীদের দায়মুক্তি দেওয়ার নামান্তর। ছাত্রশিবির সিরাজুল ইসলাম সাহেবের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
হাবিবুল্লাহ খালেদের বক্তব্যের জন্য দুঃখপ্রকাশ করে বিবৃতিতে বলা হয়, তার এ বক্তব্য অনাকাঙ্খিত। অফিস সম্পাদক তার বক্তব্যে স্থানীয় সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে সঠিক ও বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরতে পারেননি।
জোবরা গ্রামে দেয়া বক্তব্যকে ‘অনাকাঙ্খিত‘ উল্লেখ করে জামায়াত নেতা সিরাজুল ইসলাম শনিবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ওখানে দেওয়া বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। বক্তব্যের সময় ভুলে শব্দগুলো বেরিয়ে গেছে। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী।”
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই নম্বর গেইট সংলগ্ন একটি ভবনের ভাড়াটিয়া এক ছাত্রীর সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীর বিতণ্ডার জেরে গত শনিবার মধ্যরাতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় জোবরা গ্রামের বাসিন্দাদের সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। রাতে শুরু হওয়া সংঘর্ষ পরদিন রোববার পর্যন্ত চলে কয়েক দফায়।
সংঘর্ষে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, উপ-উপাচার্যসহ দুই শতাধিক ব্যক্তি আহত হন। সংঘাতের মধ্যে রোববার দুপুরের পর থেকে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত ওই এলাকায় ১৪৪ধারা জারি করে প্রশাসন।
শিক্ষার্থীদের সাথে গ্রামবাসীর সংঘর্ষের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ৯৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৮০০ থেকে ১০০০জনকে আসামি করে মামলা করে। এ ঘটনায় পুলিশ মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে।