Published : 10 Jun 2026, 11:32 PM
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬ পাস হলে স্বাধীন কমিশন নয়, বরং এটি সরকারের কর্তৃত্বাধীন প্রতিষ্ঠান হবে বলে মনে করছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
আইনটি চূড়ান্তকরণ প্রক্রিয়ায় অংশীজনদের যুক্ত করার দাবিও তুলেছে দুর্নীতিবিরোধী প্রতিষ্ঠানটি।
বুধবার বিকালে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবি বলেছে, সরকার গত ১৭ মে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬’- এর যে খসড়া প্রণয়ন করেছে, সেটির ওপর ভিত্তি করে গঠিত কমিশন কোনোভাবেই একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হবে না।
এর আগে গত ৮ জুন এ আইন নিয়ে সরকারের কাছে ১৯ দফা সুপারিশ তুলে ধরে তারা।
টিআইবির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশের তুলনায় আইনটিতে এমন কিছু মৌলিক পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা সরকারের প্রভাবমুক্ত একটি সত্যিকারের স্বাধীন ও কার্যকর কমিশন প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘকাল লালিত জনআকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি এবং প্যারিস নীতিমালা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এ বিষয়ে টিআইবিসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষের মতামতকে গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করার আহ্বান প্রতিষ্ঠানটির।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “খসড়া আইনের ধারা-৭ এ কমিশনার নিয়োগ বাছাই কমিটির সদস্য হিসেবে স্পিকার, দুইজন মন্ত্রী, সরকারি দলের একজন সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে রাখা হয়েছে। এর ফলে কমিশনার নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারি দলের তথা নির্বাহী বিভাগের আধিপত্য ও ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব প্রতিষ্ঠা এবং নিয়োগ-প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন হওয়াসহ স্বার্থের দ্বন্দ্ব সৃষ্টির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা সংশোধন করতে হবে।”
এতে টিআইবি কয়েকটি সুপারিশও তুলে করে। এরমধ্যে খসড়া আইনের ধারা-১৩ তে কমিশনের কার্যাবলী হিসেবে উল্লেখযোগ্য হল-
ক. সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা ও অনুরূপ নজরদারি সংস্থা এবং সেনাবাহিনীর সম্ভাব্য আটকস্থল যেখানে গুমসহ বিভিন্ন নির্যাতনের জন্য আটকদের রাখার সম্ভাবনা রয়েছে, এমন স্থান নিয়মিত অনুসন্ধান, পরিদর্শন ও তদন্ত করা।
খ. এমন স্থান ও অবস্থার উন্নয়নের জন্য সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান।
গ. এসব স্থান আইন-বহির্ভূত হলে, তা বন্ধ করা ও দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে সরকারের কাছে সুপারিশ করার প্রস্তাব।
মানবাধিকার লঙ্ঘনে অভিযুক্ত ব্যক্তি সরকারি কর্মচারী বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হলে, তাকে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে টিআইবির সুপারিশ হচ্ছে, আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা ক্ষেত্রমতে কমিশনের পূর্বানুমতি নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকার বা সংশ্লিষ্ট নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতির প্রয়োজন হবে না।
টিআইবি মনে করে, খসড়া আইনে কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে কমিশনার হিসেবে ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বা সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী ও নারীদের অন্তর্ভুক্তির’ বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি।
এ ক্ষেত্রে কমিশন গঠনে কমপক্ষে একজন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বা সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর সদস্য এবং নারী-পুরুষের সমতা নিশ্চিত করতে কমপক্ষে দুইজন নারী কমিশনার রাখার সুস্পষ্ট বিধান যুক্ত করার আহ্বান করেছে প্রতিষ্ঠানটি।