বাবরের এবারের লক্ষ্য মাউন্ট এভারেস্ট ও লোৎসে

বাবরের এই অভিযান শুরু হবে সোমবার; আবাহাওয়া ঠিক থাকলে অভিযান শেষ করতে মাস দুয়েক সময় লেগে যেতে পারে।

চট্টগ্রাম ব্যুরোবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 30 March 2024, 07:31 AM
Updated : 30 March 2024, 07:31 AM

দুবছর আগে হিমালয়ের ২২ হাজার ৩৪৯ ফুট উচ্চতার আমা দাবলাম চূড়ায় বাংলাদেশের পতাকা ওড়ানো চট্টগ্রামের তরুণ মো. বাবর আলী এবার তিনি যাচ্ছেন বিশ্বের উচ্চতম শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট ও চতুর্থ উচ্চতম পর্বত মাউন্ট লোৎসে অভিযানে। 

বাবরের এই অভিযান শুরু হবে সোমবার; আবহাওয়া ঠিক থাকলে অভিযান শেষ করতে মাস দুয়েক সময় লেগে যেতে পারে। 

শনিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে পবর্তারোহণ ক্লাব ‘ভার্টিক্যাল ড্রিমার্স’ সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে। 

সংবাদ সম্মেলনে অভিযান সমন্বয়ক ফরহান জামান বলেন, “নেপাল-তিব্বত সীমান্তে অবস্থিত ২৯ হাজার ২৮ ফুট উচ্চতার মাউন্ট এভারেস্টে অভিযান নিঃসন্দেহে একটি দুরূহ কাজ। একই অভিযানে ২৭ হাজার ৯৪০ ফুট উচ্চতার মাউন্ট লোৎসে আরোহণের প্রচেষ্টা এই অভিযানকে আরো চ্যালেঞ্জিং করেছে।” 

ফরহান জানান, বাংলাদেশ থেকে আগে এভারেস্ট আরোহণ হলেও একই অভিযানে এভারেস্ট এবং লোৎসে আরোহণের চেষ্টা হয়নি আগে। সেই চ্যালেঞ্জই নিয়েছেন বাবর।

সংবাদ সম্মেলনে পর্বতারোহী বাবর আলী বলেন, “মাউন্টেনিয়ারিং একটি একক ও শ্রমসাধ্য কাজ। পৃথিবীর দুর্গমতম প্রান্তগুলোতে এটা করতে হয়। পর্বতারোহণের শুরু থেকেই পৃথিবীর সর্বোচ্চ চূড়ায় দাঁড়িয়ে বিশ্বকে দেখার স্বপ্ন আছে আমার। 

“আমি সবসময় চ্যালেঞ্জিং আর নতুন কিছু করতে পছন্দ করি বলেই একই অভিযানে এভারেস্টের সাথে লোৎসে আরোহণের এই প্রচেষ্টা নিতে যাচ্ছি।” 

বাবর আলী বলেন, “সর্বোচ্চ শৃঙ্গ জয়ের পাশপাশি আমার উদ্দেশ্য বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা। একসাথে দুটি শৃঙ্গ জয় ব্যতিক্রমী। সফল হলে প্রমাণ হবে, আমরাও পারি।” 

অভিযানের প্রস্তুতি নিয়ে বাবর আলী জানান, পর্বতারোহণের প্রয়োজনীয় অনুমতি ও নানা সরঞ্জাম কেনার কাজ শেষ করে নেপালের রাজধানী কাঠমাণ্ডু থেকে লুকলার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন তিনি। 

“সেখান থেকে সপ্তাহ খানেকের ট্রেকিং শেষে পৌঁছাবেন বেস ক্যাম্পে। মূল অভিযান শুরু হবে সেখান থেকেই।” 

পুরো অভিযানে প্রায় দুই মাস সময় লাগতে পারে জানিয়ে অভিযান সমন্বয়ক ফরহান জামান বলেন, “আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে মে মাসের তৃতীয় অথবা শেষ সপ্তাহে চূড়ায় আরোহণ সম্পন্ন হতে পারে।” 

চট্টগ্রামের তরুণ বাবর আলী পেশায় চিকিৎসক হলেও তার ধ্যানজ্ঞান পর্বতারোহণ। ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রামের একমাত্র পর্বতারোহণ ক্লাব ‘ভার্টিক্যাল ড্রিমার্স’ এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য তিনি। 

বাবরের প্রথম হিমালয় যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১৪ সালে। ‘ভার্টিক্যাল ড্রিমার্স’ ক্লাব আয়োজিত ওই অভিযানে হিমালয়ের ৫ হাজার মিটার উচ্চতার এক পর্বতের চূড়ায় উঠেছিলেন তিনি। 

পর্বতারোহণ শুরুর আগে প্লাস্টিকের ব্যাপারে সচেতনতা তৈরিতে ৬৪ দিনে দেশের ৬৪ জেলা পায়ে হেঁটে বেড়িয়েছেন বাবর। 

শনিবারের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ভার্টিক্যাল ড্রিমার্সের সাবেক সভাপতি শিহাব উদ্দীন এবং পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান ভিজুয়াল নিটওয়ারস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ নূর ফয়সাল। 

এই অভিযানে পৃষ্ঠাপোষক এভারেস্ট ফার্মাসিউটিক্যালসসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও কয়েকজন ব্যক্তি। 

এই অভিযানে প্রায় ৪৫ লাখ টাকা খরচ হতে পারে বলে জানিয়েছেন বাবর আলী। 

সংবাদ সম্মেলন শেষে বাবর আলীর হাতে তুলে দেওয়া হয় জাতীয় পতাকা। 

আরও পড়ুন:

Also Read: হিমালয়ের আমা দাবলাম চূড়ায় প্রথম বাংলাদেশি