Published : 21 Jun 2026, 06:23 PM
দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণ শেষে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে কমিশন পেলেন ৬১ জন নবীন কর্মকর্তা।
রোববার চট্টগ্রামে বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিতে মিডশিপম্যান ২০২৩-বি এবং ডাইরেক্ট এন্ট্রি অফিসার ২০২৬-এ ব্যাচের নবীন কর্মকর্তাদের গ্রীষ্মকালীন রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ হয়।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,
রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ করেন নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান।
তিনি নবীন কর্মকর্তাদের ‘সততা, নিষ্ঠা ও আত্মত্যাগের’ মন্ত্রে বলীয়ান হয়ে অন্যান্য বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং দেশের যে কোনো প্রয়োজনে আত্মনিবেদনে সদা প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নৌবাহিনী প্রধান বলেন, “প্রতিরক্ষা শিল্পে প্রধানমন্ত্রীর ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ নীতির আলোকে নৌবাহিনীর পরিচালিত শিপইয়ার্ড, ডকইয়ার্ড ও সিএনআরডি দেশীয় প্রযুক্তির বিকাশ এবং নিজস্ব সক্ষমতায় সামুদ্রিক প্ল্যাটফর্ম ও অবকাঠামো নির্মাণে কাজ করে যাচ্ছে।
“লার্জ পেট্রোলক্রাফট, এলসিটি, সার্ভে ভেসেল, অরপিভি, ডাইভিং বোট ও অন্যান্য নৌযান নির্মাণের পাশাপাশি বন্ধুপ্রতিম দেশ থেকে হেলিকপ্টার, আনম্যানড এয়ারক্রাফট, আধুনিক যুদ্ধজাহাজ এবং বিভিন্ন সক্ষমতার সামুদ্রিক প্ল্যাটফর্ম সংযোজন চলমান রয়েছে।”

তিনি বলেন, “নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে উপকূলীয় এলাকায় শোর-বেইজড সারফেস সার্ভেইলেন্স সিস্টেম, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সেন্টার, অত্যাধুনিক এন্টি-ড্রোন সিস্টেম ও জ্যামার স্থাপনের কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে।
“সমুদ্রসীমার সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সামুদ্রিক সম্পদের সুরক্ষা, সমুদ্রপথে অপরাধ দমন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানবিক সহায়তা প্রদান, সংকটকালে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় দায়িত্ব পালন ছাড়াও বাংলাদেশ নৌবাহিনী আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে চলেছে।”
বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ পরিদর্শন শেষে নৌবাহিনী প্রধান বিভিন্ন বিষয়ে কৃতি প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে পদক তুলে দেন|
এ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ২০২৩-বি ব্যাচের ৫৪ জন মিডশিপম্যান এবং ২০২৬-এ ব্যাচের ৭ জন সরাসরি কমিশন্ড অফিসারসহ মোট ৬১ জন নবীন কর্মকর্তা কমিশন পান। কমিশনপ্রাপ্ত নবীন কর্মকর্তাদের মধ্যে ৫ জন নারী এবং ২ জন বিদেশি কর্মকর্তা রয়েছেন।
সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত নবীন কর্মকর্তাদের মধ্যে মিডশিপম্যান মো. ইনতিসার ইসলাম ইনান সকল বিষয়ে সেরা চৌকশ মিডশিপম্যান হিসেবে ‘সোর্ড অব অনার’ পান।

মিডশিপম্যান সাদমান সাকিব পান্থ প্রশিক্ষণে দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী হিসেবে ‘নৌ প্রধান স্বর্ণপদক’ এবং সরাসরি কমিশন্ড অফিসার অ্যাক্টিং সাব লেফটেন্যান্ট মো. আবিদ শাহরিয়ার অনু কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী হিসেবে ‘বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিন স্বর্ণপদক’ পান।
এছাড়া মিডশিপম্যান জিহাদ এ এম সালাহ সেরা চৌকশ বিদেশি মিডশিপম্যান হিসেবে ‘বিএনএ আন্তর্জাতিক স্বর্ণ পদক’ পান।
পরে সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত নবীন কর্মকর্তারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার শপথ গ্রহণ করেন।
কুচকাওয়াজ শেষে নৌবাহিনী প্রধান, অতিথিরা এবং প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী মিডশিপম্যানদের অভিভাবকরা নবীন কর্মকর্তাদের অ্যাপুলেট পরিয়ে দেন।