২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

অক্টোবরের ২০ দিনেই চট্টগ্রামে সেপ্টেম্বরের চেয়ে বেশি রোগী

“এবার উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে কক্সবাজার এলাকা থেকে যেসব ডেঙ্গু রোগী আসছেন তাদের মধ্যে টাইপ-টু ভেরিয়েন্ট দেখা যাচ্ছে,” বলেন সিভিল সার্জন।

অক্টোবরের ২০ দিনেই চট্টগ্রামে সেপ্টেম্বরের চেয়ে বেশি রোগী
ফাইল ছবি।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 20 Oct 2024, 08:34 PM

Updated : 26 Aug 2026, 10:45 AM

চট্টগ্রামে চলতি অক্টোবরের ২০ দিনেই ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আগের মাসের মোট আক্রান্তকে ছাড়িয়ে গেছে; তবে মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিবেদন অনুসারে, রোববার পর্যন্ত ২০ দিনে জেলায় ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে ৯১৭ জন। আগের মাস সেপ্টেম্বরে এ বছরের সর্বোচ্চ ৯০৭ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছিল। 

তবে চলতি মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও মৃত্যুর সংখ্যা গত মাসের তুলনায় কিছুটা কম। সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুতে ১১ জনের মৃত্যু হয়। অক্টোবরে এখন পর্যন্ত ৫ জন মারা গেছেন। 

এরমধ্যে রোববার নিরঞ্জন ধর নামের ৮৮ বছর বয়সী একজন চট্টগ্রামের ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে মারা যান। ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে তার মৃত্যু হয়েছে বলে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। 

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এ মাসে রোগী বেশি আক্রান্ত হচ্ছে গতমাসের তুলনায়। তবে মৃত্যুহার এখনও কম আছে। 

“সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেখা যাচ্ছে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেড়ে যায়। গত বছরের এই সময়ের তুলনায় এ বছর আক্রান্ত এখনও অনেক কম। তবে আমরা স্থাস্থ্য সচেতনতা কার্যক্রম বাড়িয়েছি। জরিপ শেষে রেড ও ইয়েলো জোন চিহ্নিত করে দেওয়ায় সিটি করপোরেশনও ওষুধ ছিটানো অনেক বাড়িয়েছে।” 

২০২৩ সালে সেপ্টেম্বরে ৩৮৯২ এবং অক্টোবরে ২৭৭৯ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছিল। গত বছর সেপ্টেম্বরে ২১ জন এবং অক্টোবরে ১২ জন ডেঙ্গুতে মারা যায়। 

চলতি বছর এখন পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গুতে মারা গেছে মোট ২১ জন। এর মধ্যে গত সেপ্টেম্বরেই ১১ জনের মৃত্যু হয়। 

সিভিল সার্জন মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, “এবার উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে কক্সবাজার এলাকা থেকে যেসব ডেঙ্গু রোগী আসছেন তাদের মধ্যে টাইপ-টু ভেরিয়েন্ট দেখা যাচ্ছে। এই ভেরিয়েন্টে আক্রান্ত হলে দ্রুত রোগীর কনডিশন খারাপের দিকে যায়। 

“এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের একটি বিশেষজ্ঞ দল কাজ করছে। তারা প্রতিবেদন দিলে তখন সার্বিক পরিস্থিতি জানাতে পারব।” 

চলতি মাসে চট্টগ্রাম নগরীর সাতটি স্থানকে ডেঙ্গু সংক্রমণের জন্য অতি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্যবিভাগ। 

নগরীর লাল জোন হিসেবে চিহ্নিত এলাকাগুলো হল-কোতোয়ালী, বাকলিয়া, বায়েজীদ, বন্দর, পাহাড়তলী, খুলশী ও চকবাজার। 

এছাড়া ‘হলুদ’ জোন তথা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে আরও পাঁচটি এলাকা। সেগুলো হলে-পাঁচলাইশ, হালিশহর, পতেঙ্গা, চান্দগাঁও ও ডবলমুরিং। 

চলতি বছর এখন পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে ২৪২০ জন, যাদের মধ্যে ১৫৩০ জন নগরীর এবং বাকিরা উপজেলা গুলোর বাসিন্দা।

এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যু হওয়া ২১ জনের মধ্যে ১২ জনই নারী ও তিনজন শিশু।