Published : 11 May 2026, 05:44 PM
চট্টগ্রাম নগরীতে গৃহস্থালি বর্জ্য সংগ্রহে ‘ডোর টু ডোর’ প্রকল্প বাস্তবায়নে বেসরকারি কোম্পানিগুলোর আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন মেয়র শাহাদাত হোসেন।
সোমবার নগরীর র্যাডিসন ব্লু বে ভিউ হোটেলে চট্টগ্রাম শহরে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে চুক্তি নবায়ন অনুষ্ঠানে মেয়র বলেন, “ডোর টু ডোর অনেক চিন্তা করে চালু করেছিলাম। চট্টগ্রাম শহরে দিনে ময়লা কালেকশন হয় ২২০০ টন। আর ১০০০ টন খাল নালায় চলে যায়। খাল-নালার পাশের বাড়ি ঘর স্থাপনা থেকে এসব বর্জ্য খালে ফেলা হয়।
“আর বিভিন্ন রকম যানবাহন থেকে সব বর্জ্য রাস্তায় ফেলে দেয়। প্রথমত গণসচেতনতা যতক্ষণ না বাড়বে যত টাকা ঢালি, জলের টাকা জলে যাবে। শতভাগ বর্জ্য সংগ্রহে ডোর টু ডোরের বিকল্প নেই।”
২০২২ সাল থেকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সঙ্গে নগরীতে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ ও রিসাইক্লিং নিয়ে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে ইউনিলিভার বাংলাদেশ ও ইয়ং পাওয়ার ইন স্যোশাল অ্যাকশন (ইপসা)। সোমবার প্রকল্পটির কার্যক্রম চলমান রাখতে চুক্তি নবায়ন করা হয়।
‘অনেক চিন্তাভাবনা করে’ এ প্রকল্পে বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে মাসিক ফি নেওয়ার ব্যবস্থা চালু করার কথা তুরে ধরে মেয়র শাহাদাত বলেন, “যখন টাকা নিচ্ছিল, এটা নিয়ে প্রচার শুরু হয়ে যায় সিটি করপোরেশন টাকা নিচ্ছে। অথচ এ কাজে আমরা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে এজেন্ট নিয়োগ দিয়েছিলাম।
“ডোর টু ডোর প্রকল্পের জন্য সিটি করপোরেশনের লোকবল ১৮০০ জন। এক ওয়ার্ডে গড়ে ২ লাখ লোকের জন্য ৪০ জন সংগ্রহকারী কি যথেষ্ট? আমরা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ট্যাক্স নিই। বাসা থেকে আনার জন্য ট্যাক্স আমরা নিই না। এটা কাউকে বোঝাতে পারছি না। মাসে ৫০-১০০ টাকা কি একটা বাসার জন্য বেশি হয়ে যায়?”
পরবর্তী প্রজন্মকে ‘বাসযোগ্য নগরী’ উপহার দেওয়ার প্রত্যয় জানিয়ে তিনি বলেন, “ত্রিশ দিনে ১০০ টাকা দিতে গায়ে লাগছে কেন? এখন চিন্তা করছি কীভাবে এটা বিনামূল্যে করে দেব। যদি কোনো সংগঠন এগিয়ে আসে ফ্রিল্যান্স করতে, তাহলে একটা ওয়ার্ডে হয়ত ১০ লাখ টাকা লাগবে।
“কোনো একটি বেসরকারি শিল্প প্রতিষ্ঠান যদি পাঁচটা ওয়ার্ডের দায়িত্ব নেয়, তাহলে বছরে হয়ত ছয় কোটি টাকা লাগবে। এটা আনুমানিক একটা হিসাব বলছি, যাতে আপনারা এগিয়ে আসেন।”
চলতি বছরের শুরুতে ‘ডোর টু ডোর’ কার্যক্রমে বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে বর্জ্য সংগ্রহে কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এই বাবদ ফি আদায় নিয়ে সমালোচনা হওয়ায় এপ্রিল মাস থেকে সেই কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেন মেয়র।
সিটি করপোরেশনের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে মেয়র বলেন, “আমাদের ৩ হাজার ২০০ জন পরিচ্ছন্নকর্মী। মাসে ৭-৮ কোটি টাকা বেতন চলে যায়। আমাদের পাওনা ২৬৪ কোটি টাকা হোল্ডিং ট্যাক্স বন্দর দিচ্ছে না। এটাও কেউ বলে না। ভারী গাড়ি চলে সব রাস্তা ভেঙে যাচ্ছে। ক্ষতিপূরণ চাই না, ন্যায্য ট্যাক্স চাইছি।”
বন্দরের কাছ থেকে পাওনা হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ে নৌপরিবহন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিব বলার পরও বন্দর চেয়ারম্যান টাকা দেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ইউনিলিভার বাংলাদেশের সিইও এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুহুল কুদ্দুস খান বলেন, “চট্টগ্রামের সঙ্গে সম্পর্ক ঐতিহাসিক ও আত্মিক। ১৯৬২ সালে কালুরঘাট থেকে আমাদের যাত্রা শুরু। এটা একসাথে বেড়ে উঠার গল্প। যেখান থেকে আমাদের জন্ম সেটা আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পরে। তাই চট্টগ্রামকে বেছে নিয়েছি।”
অন্যদের মধ্যে ইপসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ আরিফুর রহমান এবং ইউনিলিভার বাংলাদেশের ডিরেক্টর করপোরেট অ্যাফেয়ার্স শামিমা আক্তার অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।