Published : 14 Jun 2026, 12:12 PM
ম্যাচ-সেরার পুরস্কার নিয়ে দাসুন শানাকা বললেন, “আমার ভাবনা আজকে পরিষ্কার ছিল। ঠিক করেছিলাম, ক্রিজে গিয়েই শট খেলব।” এমনিতে তার খেলার ধরনই এমন। আগ্রাসী ব্যাটিংই করে থাকেন। তার পর এভাবে আলাদা করে বলার কারণ, আগের ম্যাচে করেছিলেন ২৩ বলে ২২! এবার ফিরলেন তিনি আপন রূপে। ক্রিজে গিয়েই শুরু করলেন ধুন্দুমার ব্যাটিং। একাদশে ফেরার ম্যাচে জ্বলে উঠলেন কামিল মিশারা। দুজনের বিধ্বংসী জুটির পর দুশমান্থা চামিরা ও ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার দারুণ বোলিংয়ে সিরিজে ফিরল শ্রীলঙ্কা।
তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে জ্যামাইকায় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৩৭ রানে হারাল শ্রীলঙ্কায়। ১-১ সমতায় থাকা সিরিজের ফয়সালা শেষ ম্যাচে।
বাংলাদেশ সময় রোববার সকালের ম্যাচটিতে লঙ্কানরা ২০ ওভারে তোলে ১৯৪ রান। তিনে নেমে ৪০ বলে ৬১ রানে অপরাজিত থাকেন মিশারা। ২৪ বলে ৫৮ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচের সেরা শানাকা।
রান তাড়ায় ফিফটি করতে পারেননি কোনো ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যান। তাদের ইনিংস থমকে যায় ১৫৭ রানে। মাত্র ৯ রানে ৩ উইকেট নেন চামিরা।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ এই ম্যাচে চোটের কারণে পায়নি আগের ম্যাচের নায়ক জেসন হোল্ডারকে।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা লঙ্কানদের দুই ওপেনার ছিলেন আগের ম্যাচের রূপেই। প্রথম চার ওভারে দুটি করে চার ও ছক্কা মারেন কুসাল মেন্ডিস। এবারও তার সম্ভাবনাময় ইনিংসটি বড় হয়নি খুব একটা (১৯ বলে ৩১)। আরেক ওপেনার পাথুম নিসাঙ্কা (১০ বলে ৭) ব্যর্থ এবারও।
পাওয়ার প্লে শেষ হতে বিদায় নেন রাথ্নায়েকেও। তিন রানের মধ্যে তিন উইকেট হারিয়ে ফেলে শ্রীলঙ্কা।
ধাক্কা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন মিশারা ও কামিন্দু মেন্ডিস। আগের ম্যাচে ফিফটি করা কামিন্দু এবার থমকে যান ২০ বলে ২৪ রানে।
সেখান থেকেই মিশারা ও শানাকার জুটি। ক্রিজে যাওয়ার পরপরই রস্টন চেইসের টানা তিন বলে ছক্কা-চার-ছক্কায় নিজের মনোভাব বুঝিয়ে দেন শানাকা।
এক প্রান্ত আগলে রাখা মিশারার রান ১৫ ওভার শেষে ছিল ২৩ বলে ২২। পরের সময়টায় উত্তাল হয়ে ওঠে তার ব্যাটও।
দুজনের ব্যাটের দাপটে শেষ ৭ ওভারে ১০২ রান তোলে শ্রীলঙ্কা।
ব্যাটিংয়ের শেষটার মতো বোলিংয়ের শুরুটাও দারুণ করে লঙ্কানরা। প্রথম ওভারেই ব্র্যান্ডন কিংকে ফেরান চামিরা। পরের ওভারে রিভিউ নিয়ে ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক শেই হোপকে আউট করেন একাদশে ফেরা দুনিথ ওয়েলালাগে।

জোড়া ধাক্বা সামলে দলকে ম্যাচে ফেরান শিমরন হেটমায়ার ও রভম্যান পাওয়েল। তৃতীয় উইকেটে ৪৭ বলে ৮১ রানের জুটি গড়েন দুজন।
হেটমায়ার একবার বোল্ড হলেও মাহিশ থিকসানার বলটি ছিল ‘নো।’ আরেকবার তৃতীয় আম্পায়ার তাকে স্টাম্পিং আউট দিয়েও সিদ্ধান্ত ঘুরিয়ে ফেলেন আবার রিপ্লে দেখে। শেষ পর্যন্ত তিনি রান আউট হন ২৬ বলে ৩৬ রান করে।
ওই ওভারেই পাওয়েল আউট হন ২৬ বলে ৪৩ রান করে। এই ইনিংসের পথে টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে রানের তালিকায় শীর্ষে উঠে যান তিনি নিকোলাস পুরানকে পেছনে ফেলে।
এই দুজনের পর আর লড়াইয়ে থাকতে পারেনি ক্যারিবিয়ানরা। একের পর এক উইকেট হারিয়ে দ্রুতই পথ হারায় তারা। শেষ তিকে আকিল হোসেন দুই ছক্কা ও শামার জোসেফের এক ছক্কায় দেড়শ পার হয় স্কোর।
সিরিজের পরের ম্যাচটি একই মাঠে রোববার বাংলাদেশ সময় ভোর সাড়ে ৬টায়।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
শ্রীলঙ্কা: ২০ ওভারে ১৯৪/৬ (নিসাঙ্কা ৭, কুসাল মেন্ডিস ৩১, মিশারা ৬১*, রাথ্নায়েকে ১, কামিন্দু মেন্ডিস ২৪, শানাকা ৫৮, ওয়েলালাগে ১*; আকিল ২-০-১১-০, ফোর্ড ৪-০-৩৮-২, শেফার্ড ৩-০-৪১-০, জোসেফ ৪-০-৩২-৩, স্প্রিঙ্গার ৪-০-৪০-১, চেইস ৩-০-২৭-০)।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ১৮.১ ওভারে ১৫৭ (কিং ২, হোপ ৬, হেটমায়ার ৩৬, পাওয়েল ৪৩, রাদারফোর্ড ১৪, চেইস ১৭, শেফার্ড ০, ফোর্ড ১, স্প্রিঙ্গার ৮, আকিল ১৪, শামার ১১*; ওয়েলালাগে ৩-০-২৮-০, চামিরা ৩.১-০-৯-৩, মালিঙ্গা ৩-০-৪১-০, থিকসানা ৪-০-৩১-১, হাসারাঙ্গা ৪-০-৩৮-৩, শানাকা ১-০-৬-০)।
ফল: শ্রীলঙ্কা ৩৭ রানে জয়ী।
সিরিজ: তিন ম্যাচ সিরিজের দুটি শেষে ১-১ সমতা।
ম্যান অব দা ম্যাচ: দাসুন শানাকা।