Published : 13 Jan 2026, 09:13 PM
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটে ২০২৪–২৫ সেশনের প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থীর শাখা পরিবর্তনে প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছে।
কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিযোগ, ভর্তি পরীক্ষার মেধাক্রম তাদের (৪৯, ৫৮তম) ভালো হলেও অনেক দূরে (৯১তম) অবস্থান করা সুমাইয়া করিমকে ‘ফলিত কলা’য় স্থানান্তরের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
যে শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বিশেষ সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, সেই সুমাইয়া করিম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রীতিলতা হল সংসদের সদস্য। গত ১৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি ইসলামী ছাত্রী সংস্থা সমর্থিত ‘সংঘবদ্ধ ছাত্রী জোট’ থেকে নির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হন।
চারুকলা ইনস্টিটিউটের এক শিক্ষার্থী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, প্রথম বর্ষের ভর্তিতে অপেক্ষমান তালিকা থেকে তুলনামূলক ভালো বিষয়ে ভর্তির সুযোগ পান ছয় শিক্ষার্থী; তাদের মধ্যে একজন ছিলেন সুমাইয়া।
“এতে ভালো পজিশন করেও আমরা আগে ভর্তি হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত ডিসিপ্লিন থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলাম। এ অবস্থায় আমরা চারুকলা ইনস্টিটিউটের পরিচালকের কাছে আবেদন করি। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পরে মাইগ্রেশনের সুযোগ দেওয়া হয় এবং পরে ভর্তি হওয়া (মেধাতালিকায় পিছিয়ে থাকা) শিক্ষার্থীদের কম জনপ্রিয় বা পেছনের দিকের ডিসিপ্লিনে দেওয়া হয়।”
তিনি বলেন, সুমাইয়া করিমকে ফলিত কলা থেকে ছাপচিত্রে পাঠানো হয়েছিল। পরে বিশেষ বিবেচনায় তাকে ফের ফলিত কলায় ফেরানো হয়েছে।
চারুকলা ইনস্টিটিউটের কয়েকজন শিক্ষার্থীর ভাষ্য, বি-১ উপ-ইউনিটের (নাট্যকলা, চারুকলা, সংগীত) মাধ্যমে শুরুতে নাট্যকলায় ভর্তি হয়েছিলেন সুমাইয়া। গত জুলাই থেকে মাস তিনেক তিনি সেখানে ক্লাস করেন।

এরপর চারুকলায় আসন শূন্যের নোটিসে সুমাইয়া চারুকলার ফলিত কলায় স্থানান্তর হন। পরে চারুকলা ইনস্টিটিউটের আনুষ্ঠানিক মাইগ্রেশন প্রক্রিয়ায় মেধাক্রম দেখে তাকে ছাপচিত্রে পাঠানো হয়। এরপর সুমাইয়া ‘বিশেষ সুপারিশে’ ফের ফলিত কলায় স্থানান্তর হন বলে শিক্ষার্থীর অভিযোগ।
ভর্তিতে বিশেষ সুবিধা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে সুমাইয়া করিমের সঙ্গে ফোনো যোগাযোগ করা হলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।
চারুকলা ইন্সটিটিউটের পরিচালক তাসলিমা আকতার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা মাইগ্রেশনের পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ম মেনে মেরিট পজিশনের ভিত্তিতেই করেছি। উপ–উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) মৌখিকভাবে সুপারিশ করায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত নিয়ম মেনেই সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর ডিসিপ্লিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
“অনুমতি নিয়ে আসায় বিষয়টি নিয়মবহির্ভূত নয়; এতে কোনো অনিয়ম হয়নি।”
সুমাইয়ার বিষয়ে তিনি এও বলেন, “সাধারণভাবে মেধা তালিকা অনুযায়ী ডিসিপ্লিন নির্ধারণ হলেও সুপারিশের কারণে ওই শিক্ষার্থী পছন্দের ডিসিপ্লিনটি পেয়েছে।
“এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরাও আপত্তি জানাননি। একইভাবে অভিযোগকারীরাও নিয়ম অনুযায়ী সুপারিশ নিয়ে এলে তাতে কোনো সমস্যা নেই।”
জানতে চাইলে উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান বলেন, “মেয়েটিকে প্রথমে যে ডিসিপ্লিন দেওয়া হয়েছিল, তা ভুলবশত দেওয়া হয়। সেই ভুলের কারণে সে প্রায় তিন মাস ওই ডিসিপ্লিনে ক্লাস করেছে।
“পরে ভুলটি ধরা পড়লে তাকে অন্য একটি ডিসিপ্লিন দেওয়া হয়। বিষয়টি জানিয়ে সে আমার কাছে অভিযোগ করলে আমি চারুকলা ইনস্টিটিউটের পরিচালককে বিষয়টি নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সমাধান করতে বলেছি।”