Published : 23 Apr 2026, 03:39 PM
শাটল রেল সেবার মান বাড়াতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)।
বৃহস্পতিবার বেলা ১২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
এসময় ‘এই মুহূর্তে দরকার, শাটলে সংস্কার’; ‘ছাত্র মরে গরমে, ভিসি থাকে আরামে'; 'ফ্যান ঘোরে না- লাইট নাই, প্রশাসনের খবর নাই’; ‘শাটলে পাথর পড়ে, প্রশাসন কী করে’; ‘গরমে গরমে জীবন শেষ, ভিসি আছে এসিতে বেশ’; ‘আর কতকাল ভাঙা ট্রেন, যুক্ত করো নতুন ট্রেন’; ‘বগি বৃদ্ধি করতে হবে, নিরাপত্তা দিতে হবে’; ‘শাটলে নিরাপত্তা, নিশ্চিত করো, করতেই হবে’ এমন স্লোগান দিতে শোনা যায়।
অবস্থান কর্মসূচিতে আলাওল হলের সমাজসেবা, পরিবেশ ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বলেন, “শাটলে পর্যাপ্ত বগি না থাকায় শিক্ষার্থীরা অনেক কষ্টে যাতায়াত করে। এর আগেও শাটল সংস্কারের দাবিতে অনেক আন্দোলন হয়েছে, প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে তা সফল হয়নি।
“এখন যেহেতু চাকসু হয়েছে; এই চাকসুর মাধ্যমে আমরা দাবি জানাতে চাই, আমাদের শাটলের যৌক্তিক সংস্কার করা হোক।”
চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসন বিষয়ক সম্পাদক ইসহাক ভূঁঞা বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের ২৮ হাজার শিক্ষার্থীদের জন্যে যাতায়াতের বাহন হিসেবে মাত্র দুটি শাটল ট্রেন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যেখানে মাত্র ৮-৯টি বগি আছে।

“চাকসু হওয়ার পর থেকে আমরা বিভিন্নভাবে অফিসিয়ালি বিভিন্ন দাবি জানিয়ে এসেছি। নতুন ট্রেন, ডাবল লেইনসহ নিরাপত্তা নিশ্চিতে দাবি জানিয়েছি। কিন্তু প্রতিনিয়ত আমাদের শিক্ষার্থী ভাইবোনেরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, বহিরাগতরা যাতায়াত করছে, আমাদের বোনদের হেনস্তা করছে। এই ধারাবাহিকতা বন্ধ হচ্ছে না, আমাদের প্রশাসনও যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছে না।”
তিনি বলেন, “আমরা চেয়েছিলাম টেবিল আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে, কিন্তু সেটি হয়নি। তাই আমরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছি। আমরা ১১দফা দাবি জানাচ্ছি।
“আগামী রবিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময় দিচ্ছি; এর মধ্যে আমাদের দাবিগুলো মেনে না নেয়, তাহলে কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।”
এসময় আন্দোলনকারী ১১ দফা দাবি তুলে ধরেন, যার মধ্যে রয়েছে—
শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের চাপ বিবেচনায় বন্ধ হয়ে যাওয়া ডেমো ট্রেনের পরিবর্তে দ্রুত সময়ের মধ্যে অন্তত আরও একটি নতুন ট্রেন চালু করা; শাটল ট্রেনের বিকল্প রুট তৈরি ও অপারেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন; কোচ সংখ্যা বৃদ্ধি এবং নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করা।
এছাড়া প্রতিটি শাটল ট্রেনের বগিতে নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; ইলেকট্রনিক সুবিধা চালু করা; শাটল ট্রেনের গতি বৃদ্ধি; বগিগুলোর সংস্কার ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ; স্টেশন অবকাঠামো ও পরিবেশ উন্নয়ন এবং প্লাটফর্ম সম্প্রসারণের দাবি জানানো হয়।
শাটল স্টেশন ও ট্রেনে সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিটি স্টেশনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, কার্যকর নজরদারি ব্যবস্থা চালু, ট্রেন ও স্টেশন এলাকায় নিয়মিত টহল এবং রেলওয়ে পুলিশের তৎপরতা বৃদ্ধির দাবি জানান তারা।