Published : 07 Sep 2025, 10:50 PM
স্থানীয়দের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘মালিক’ ও ‘জমিদার’ দাবি করা জামায়াত নেতা সিরাজুল ইসলামকে হাটহাজারী উপজেলা আমিরের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
রোববার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখার বর্ধিত সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।
উত্তর জেলা জামায়াতে ইসলামীর প্রচার সেক্রেটারি অধ্যাপক ফজলুল করিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বর্ধিত সভা থেকে উনাকে (সিরাজুল ইসলাম) অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।”
উত্তর জেলা জামায়াতে ইসলামীর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও জোবরা গ্রাম নিয়ে জামায়াতে ইসলামী হাটহাজারী উপজেলা আমির সিরাজুল ইসলামের দেওয়া অনাকাঙ্খিত বক্তব্য আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।
“এটি তার নিজস্ব বক্তব্য, যার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার বিক্ষুব্ধ হয়েছে। সংগঠন এ বক্তব্য বিনয় পরিপন্থি হয়েছে বলে মনে করে। এতে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। আমরা এজন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। এ বক্তব্যের কারণে তাকে হাটহাজারী উপজেলা আমিরের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়রাই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ‘মালিক’ বলে গত বৃহস্পতিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন জোবরা গ্রামে এক সভায় মন্তব্য করেন সিরাজুল ইসলাম। তিনি হাটহাজারী (চট্টগ্রাম-৫) সংসদীয় আসনের জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থীও।
সেদিনের সভায় তিনি বলেন, “আমরা হচ্ছি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় পার্শ্ববর্তী এলাকার মালিক। আমরা জমিদার, ঠিক কিনা? জমিদারের ওপর কেউ হস্তক্ষেপ করবে, এটা কী আমরা মেনে নিতে পারি? কখনোই না।
“আমরা অতীতেও মেনে নিই নাই; সামনেও মেনে নিব না। এ বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে আমাদের বুকের উপর। আমরা হচ্ছে এই জায়গার মালিক। এজন্য আমরা অন্যায় কিছু মেনে নিব না। আমাদেরকে সম্মান করতে হবে।‘‘
সিরাজুল ইসলাম বলেন, “সম্মান দেওয়ার মত পরিবেশ আমরা করে দেব। বিশ্ববিদ্যালয় যদি আমাদের যথাযথ সম্মান না করে, তাহলে জনগণ নিয়ে যেটা করা দরকার, সেটা আমরা সামনে করব।‘‘
সিরাজুল ইসলামের এ বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া হয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরও এর প্রতিবাদ জানায়।
পরবর্তীতে সিরাজুল ইসলামও এ ঘটনার জন্য দুঃখপ্রকাশ করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
তার এ বক্তব্য ঘিরে তীব্র সমালোচনা হয় মূলত গত ৩০ অগাস্টের সংঘর্ষের কারণে।
সেদিন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই নম্বর গেইট সংলগ্ন একটি ভবনের ভাড়াটিয়া এক ছাত্রীর সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীর বিতণ্ডার জেরে গত শনিবার মধ্যরাতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় জোবরা গ্রামের বাসিন্দাদের সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। রাতে শুরু হওয়া সংঘর্ষ পরদিন রোববার পর্যন্ত চলে কয়েক দফায়।
সংঘর্ষে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, উপ-উপাচার্যসহ দুই শতাধিক ব্যক্তি আহত হন। সংঘাতের মধ্যে রোববার দুপুরের পর থেকে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত ওই এলাকায় ১৪৪ধারা জারি করে প্রশাসন।