Published : 14 Jun 2026, 08:45 AM
একটি-দুটি নয়, বাছাইয়ে খেলা ১০ ম্যাচের সবগুলোতেই ক্লিনশিট! তিউনিসিয়ার রক্ষণ যেন দুর্ভেদ্য দেয়ালের চেয়েও বেশি কিছু। উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে শুভসূচনা করতে হলে এই দেয়ালই টপকাতে হবে সুইডেনকে।
সুইডিশদের আক্রমণভাগে আছে আলেকসান্দার ইসাক ও ভিক্তর ইয়োকেরেস জুটি। তবে, প্রতিপক্ষের জালের দেখা পাওয়া যে সহজ হবে না মোটেও, তা ভালো করে জানেন দলটির কোচ গ্রাহাম পটার। এদিকে, তিউনিসিয়া কোচ সাবলি লামুচিও ঘোষণা দিয়েছেন, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রক্ষণের দৃঢ়তা অটুটু রাখার। তাতে আসছে ম্যাচটিতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলছে।
তিউনিসিয়ার জমাট রক্ষণের সাথে সুইডেনের আক্রমণভাগের লড়াই শুরু হবে সোমবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায়। বিশ্বকাপের তিন আয়োজকের একটি মেক্সিকোর মন্তেরেই’তে এ ম্যাচে দিয়ে ‘এফ’ গ্রুপে যাত্রা শুরু করবে দুই দল।
ম্যাচের আগে ঘুরেফিরে আসছে বাছাইয়ে তিউনিসিয়ার দুর্বার পারফরম্যান্স। ১০ ম্যাচে তারা জয় পেয়েছিল ৯টি, ড্র করেছিল একটি। অপরাজিত থেকে বাছাই পেরুনোর পথে প্রতিপক্ষের জালে গোল দিয়েছিল ২২টি, হজম করেনি একটিও।
এই দেয়ালে চিড় ধরাতে সুইডেনের বড় ভরসা ওই ইসাক-ইয়োকেরেস জুটি। দুজনের মধ্যে ইয়োকেরেস কদিন আগেই আর্সেনালের হয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ জিতে বাড়তি আত্মবিশ্বাস সঞ্চয় করে এসেছেন। বাছাইয়ে প্লে-অফের সেমি-ফাইনালে তার হ্যাটট্রিকেই আশা বেঁচে থাকে সুইডেনের এবং ফাইনালে পোল্যান্ডকে ৩-২ ব্যবধানে হারানোর পথেও জয়সূচক গোলটি করেন ২৮ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
ইসাকের সময়টা অবশ্য ভালো যাচ্ছে না তেমন একটা। নিউক্যাসল ইউনাইটেড থেকে গত সেপ্টেম্বরে লিভারপুলে যোগ দেওয়ার পর থেকে চোটের সাথে লড়তে হয়েছে তাকে। তবে, ২৬ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড গতি ও স্কিল দিয়ে নিজের দিনে সেরা ডিফেন্ডারদেরও নাকানিচুবানি খাওয়ানোর সামর্থ্য রাখেন। তিউনিসিয়ার রক্ষণ ভেদ করতে ইসাকের কাছে তার সামর্থ্যের শেষ বিন্দুটুকু সুইডিশ কোচ পটার চেয়ে রেখেছেন আগেই।
“চোটের কারণে লিভারপুলে আলেকসান্দারের (ইসাক) সময়টা কঠিন কেটেছে, কিন্তু সে বদলে যায়নি। তার মান বদলায়নি- সে এখনও শীর্ষ, শীর্ষ এবং শীর্ষ মানের খেলোয়াড়।”
প্রতিপক্ষের আক্রমণভাগ নিয়ে সতর্ক তিউনিসিয়া কোচ লামুচি। তবে, টুর্নামেন্ট শুরুর আগে তিনি ফিফাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, বড় মঞ্চে দিতে চান সামর্থ্যের প্রমাণ। রেখে যেতে চান ছাপ।
“(বাছাইপর্বে রক্ষণের দৃঢ়তা) এটাই দেখাচ্ছে যে, আমরা দুর্দান্ত একটি দল, সবকিছুর ওপরে আমরা একটা দল হিসেবে রক্ষণ সামলায়। যদিও, বিশ্বকাপে লড়াই হবে আরও উঁচু পর্যায়ে।”
“আমরা সেখানে যে দলগুলোর মুখোমুখি হতে যাচ্ছি, তারা অনেক তীব্রতা নিয়ে আমাদের কঠিন পরীক্ষা নিবে… আমাদের মাথা তুলে দাঁড়াতে হবে, যোগ্যতার প্রমাণ দিতে হবে।”
বাছাইয়ে সুইডেনের পথচলা ছিল নড়বড়ে। মাত্র ২ পয়েন্ট নিয়ে বাছাইয়ে নিজেদের গ্রুপে তলানিতে ছিল তারা। তবে, নেশন্স লিগের পারফরম্যান্সে বাছাইয়ের প্লে-অফ পর্বে জায়গা পায় তারা। আর সেখানে ইয়োকেরেশের ওই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে এক আসর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরেছে সুইডিশরা। পটারের কোচিংয়ে এবার মূল পর্বেও ভালো কিছুর আশা দলটির।
গত অক্টোবরে সুইডিশদের হাল ধরার পর পটার ডুবতে থাকা দলের রক্ষণে শৃঙ্খলা ফেরান। ইসাক ও ইয়োকেরেশকে দেন মুক্ত বিহঙ্গের মতো আক্রমণ শাণানোর অনুমতি। লুকাস বের্গবাল, অ্যান্থনি এলেঙ্গা ও বেনিয়ামিন নাইগ্রেনের মতো সৃষ্টিশীল উইঙ্গারও আছে তার হাতে। ৫১ বছর বয়সী এই কোচ তাই আস্থা রাখছেন নিজ দলের ওপর।
“আমরা জানি, আন্তর্জাতিক ফুটবলে ম্যাচ জেতা সহজ নয়। কিন্তু একই সাথে, এই বিশ্বাসও রাখতে হবে যে, আমরা যেকোনো ম্যাচ জিততে পারি।”