সাংবাদিক লাঞ্ছনা: বাঁশখালীর মোস্তাফিজুরের মনোনয়ন বাতিল দাবি
মনোনয়নপত্র জমার দিন প্রশ্ন করায় সাংবাদিকের ওপর ক্ষেপে গিয়ে তাকে ধাক্কা দেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। পরে তার অনুসারীরাও অশোভন আচরণ করেন।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় সাংবাদিকদের ‘লাঞ্চনার’ ঘটনায় চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিল করতে আওয়ামী লীগের প্রতি দাবি জানিয়েছে সাংবাদিকদের দুটি সংগঠন।
তার বিরূদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনের কাছেও দাবি জানানো হয়েছে।
শুক্রবার বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে) এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানায়।
বিএফইউজে সভাপতি ওমর ফারুক ও মহাসচিব দীপ আজাদ, সিইউজে সভাপতি তপন চক্রবর্তী ও সাধারণ সম্পাদক ম. শামসুল ইসলাম যৌথভাবে এই বিবৃতি দেন।
সাংবাদিক নেতারা বলেন, “নির্বাচনের আগেই আচরণবিধি লঙ্ঘনের ব্যাপারে প্রশ্ন করায় যিনি সাংবাদিকদের গায়ে হাত তোলার মতো ঔদ্ধত্য দেখাতে পারেন, কেউই তার কাছে নিরাপদ নয়।
“বিতর্কিত এই ব্যক্তি আগেও বিভিন্ন সময় নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ছাড়াও সাংবাদিকদের হুমকি, মিথ্যা মামলায় জড়ানোসহ সাংবাদিকবিদ্বেষী নানা ঘটনা ঘটিয়েছেন। একজন রাজনীতিবিদের কাছ থেকে আমরা তা কখনো প্রত্যাশা করি না।”
বৃহস্পতিবার দুপুরে মনোনয়নপত্র জমা দিতে এসে ‘আচরণ বিধি ভঙ্গের’ বিষয়ে প্রশ্ন করা মাত্র সাংবাদিকের দিকে তেড়ে যান বাঁশখালীর সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী। আর তার অনুসারীরা চড়াও হন সাংবাদিকদের উপর।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বের হলে ইনডিপেনডেন্ট টিভির সাংবাদিক রাকিব উদ্দিন তাকে প্রশ্ন করেন, “আপনি কি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন?”
প্রশ্ন শুনে রেগে গিয়ে মোস্তাফিজুর সেই সাংবাদিককে গালি দিয়ে ধাক্কা দেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন।
সাংবাদিকরা নিচে নেমে মোস্তাফিজুরের গাড়ি থামিয়ে তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনি গাড়ি চালিয়ে চলে যান। তখন তার অনুসারীরা সাংবাদিকদের ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়।
সাংবাদিকরা তাৎক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামানের কাছে গিয়ে ঘটনার প্রতিবাদ জানান। পরে চট্টগ্রাম ইউনিয়ন নেতাদের উপস্থিতিতে চট্টগ্রাম আদালত ভবন এলাকায় হয় প্রতিবাদ সমাবেশ।
সাংবাদিকরা লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর মোস্তাফিজুরকে তলব করেছেন চট্টগ্রাম-১৬ আসনের নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আবু সালেম মোহাম্মদ নোমান।
আরও পড়ুন:
