Published : 30 Apr 2026, 02:51 PM
চট্টগ্রাম নগরীর মঙ্গলবারের জলাবদ্ধতা নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় ২০২৩-২৪ সালের ছবি দিয়ে ‘অপপ্রচার’ চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
নগরীর বিভিন্ন প্রান্তে জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান মেগা প্রকল্পের কাজ বৃহস্পতিবার পরিদর্শনের সময় তিনি এ কথা বলেন।
দুপুরে চাক্তাই এলাকায় সাংবাদিকের মুখোমুখি হয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, “মামনীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে পাঠিয়েছেন। এবং উনার কাছে যে খবর ছিল চট্টগ্রামে ব্যাপক জলাবদ্ধতা হয়েছে। সোশাল মিডিয়াতে চব্বিশ সালের তেইশ সালের বিভিন্ন ছবি প্রকাশ করে একটা অপপ্রচার চালানো হয়েছে যে, চট্টগ্রাম মহানগর পানির মধ্যে ভাসছে।
“এই খবরে উনি সংসদে দাঁড়িয়ে চট্টগ্রাম নগরবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তারপরে সংসদেই তার কার্যালয়ে ডেকে উনি আমাকে নির্দেশনা দিয়েছেন যে, আপনি এক্ষুণি চট্টগ্রাম যান। এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও কর্তৃপক্ষগুলোকে নিয়ে বসে কী সমস্যা আছে, সমাধান করে তারপর আপনি ফিরবেন।”
তিনি বলেন, “আমি গতকাল সন্ধ্যার পরে এসেছি ঘুরেছি। যেভাবে মিডিয়াতে নিউজটা এসছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও, এরকম জলাবদ্ধতা আমি এসে দেখিনি। এবং রাতে আমি বলেছি, চট্টগ্রাম পানির মধ্যে ভাসছে না। অনেকে ট্রল করে বলেছেন, মাননীয় মন্ত্রীর চশমার সমস্যা আছে। চোখে কম দেখে।
“কিন্তু আপনারা তো কাল থেকে আমার সাথে ছিলেন। আজকেও আছেন। আপনাদের কাছেও আমি প্রশ্ন রাখতে চাই। আজকে তো কোথাও আপনারা জলাবদ্ধতা দেখেননি।”

চট্টগ্রামের প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও সোশাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম বলেন, “আপনারা সজাগ, সচেতন ও খুব ট্যালেন্ট মানুষ। তবে এইটুকু অনুরোধ করি, শুকনা রাস্তাকে আপনারা ভাই চট্টগ্রাম বৃষ্টির মধ্যে ভাসছে এটা দেখাইয়েন না।”
এর আগে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার পরিস্থিতি ব্যাখ্য করে তিনি বলেন, “এখন প্রশ্ন এটা হতে পারে প্রবতর্কের মোড়সহ কয়েকটি জায়গায় হঠাৎ বৃষ্টি হবার কারণে। হঠাৎ করে এরকম মহানগরীতে ৮০-৮৫ বা ৯০ মিলিমিটারের ভারি বৃষ্টি যদি হয়, স্বাভাবিক কারণেই এই পানিটা সরতে একটু সময় লাগবে। এটাকে আমরা জলাবদ্ধতা বলব না, এটাকে আমরা জলজট বলব।
“জলাবদ্ধতা কোনটা হবে? তিন-চারদিন ধরে পানি নামছে না। আর যে তিনটি পয়েন্টে সামান্য একটু পানি আটকে ছিল, ওখানে আমাদের কাজ চলমান আছে। ৩৬টি খালের মধ্যে ৬টি খালের কাজ যে এলাকাগুলোতে চলমান আছে, সেখানে এই জলাবদ্ধতা ছিল একদিন।”
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, “এর পরও সিটি করপোরেশন, সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেড, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, পানি উন্নয়ন বোর্ড সবাই যৌথভাবে গিয়ে, চলমান কাজের জন্য কিছু রিটেইনিং ওয়াল দেওয়া ছিল। সেকারণে পানি বাধা প্রাপ্ত হয়েছিল। সেগুলো অপসারণ করে তারা পানি নিষ্কাশন করে দিয়েছে।
“স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা না হয় এইজন্য কাজ উনারা গতকাল রাত থেকে শুরু করে দিয়েছে। দিনরাত কাজ চলছে। বর্ষাকালের আগেই এসমস্ত খালের উন্নয়নমূলক কাজ আপাতত আমরা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ব্যারিকেড এবং রিটেইনিং ওয়ালগুলো আমরা উঠিয়ে নিব। বর্ষাকালের পর আবার ডেভেলপমেন্টের কাজ হবে।”
‘পানি সরাতে গাড়িতে পাম্প নিয়ে ঘুরছি’
নগরীর বিভিন্ন এলাকা বুধবার ঘুরে দেখা কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, “কালকে আসার পরে আমি মেয়র সাহেবকে মজা করে বলছিলাম কিছু পানি নিষ্কাশনের পাম্প গাড়ির মধ্যে নেওয়ার জন্য। আমরা কোথাও যদি পানি পাই, নিজেরাই পানি নিষ্কাশন করে দিব।

“কিন্তু কাল থেকে আমরা ঘুরছি। পাম্পও আমাদের গাড়িতে আছে। কিন্তু আমরা কোথাও পাম্প ইউজ করতে পারিনি। এটাই বাস্তবতা। এই কথা নিয়েও অনেক কথা হবে।”
তিনি বলেন, “বাস্তবতা হচ্ছে চব্বিশ সালে যে চিত্র ছিল, চট্টগ্রামের পঁচিশ সালে, সেটা ৭০-৮০ শতাংশ সমাধান হয়েছে। এখন খালগুলোর যে অবস্থা আমি ঘুরে দেখছি, কাজ চলমান আছে। সমাপ্ত হবে ডিসেম্বরের পরে গিয়ে।
“এই বর্ষায় আমি চট্টগ্রামবাসীকে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এটুকু আশ্বস্ত করতে পারি যে, ৭০-৮০ ভাগ জলাবদ্ধতা থাকবে না। বাকি যে ১৫-২০ ভাগ থাকবে এটার জন্য আপনাদের ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। আমাদের সময় দিতে হবে যেহেতু প্রকল্পের কাজটি চলমান আছে।”
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “চট্টগ্রামবাসীকে এটুকু আশ্বাস দিতে পারি আগামী বর্ষা মৌসুমে চব্বিশ সাল বা তার পূর্বের অবস্থায় আর ফিরে যেতে হবে না। জলাবদ্ধতা থাকবে না, তবে বেশি ভারি বৃষ্টি হলে জলজট হতে পারে। সেটার জন্য ২-৩ ঘণ্টা সময় দিতে হবে সবাইকে।”
সিডিএ’র ব্যর্থতা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ব্যর্থতা ওইভাবে বলব না। সিডিএ’র জনবলের ঘাটতি আছে। এবং সিডিএ’র কাজটা তো আমাদের সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড করছে। উনারা মনিটরিং করছে। আমাদের কিছু অর্থ ছাড়ের বিষয় আছে। কিছু জটিলতা আছে।”
এসময় প্রতিমন্ত্রীর সাথে ছিলেন চট্টগ্রামের মেয়র শাহাদাত হোসেন, সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নুরুল করিম।