Published : 03 Nov 2025, 12:12 AM
প্রয়াত স্বজনদের স্মরণে প্রার্থনা, কবরে ফুল দেওয়া ও মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামের পাথরঘাটায় রানী জপমালা গির্জায় পালিত হল ‘অল সোলস ডে’।
রোববার বিকাল থেকে এই ক্যাথলিক গির্জায় খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বী সব বয়সী মানুষ জড়ো হতে থাকে। তাদের হাতে ছিল ফুল। পোশাকেও ছিলে শোকের ছাপ।
প্রতি বছর ২ নভেম্বর ‘অল সোলস ডে’তে পরলোকগতদের স্মরণ করা হয়।
দিনটিতে পাথরঘাটার রানী জপমালা ক্যাথিড্রাল চার্চে বিশেষ প্রার্থনায় প্রয়াতদের আত্মার কল্যাণ কামনা করা হয়।
সন্ধ্যায় প্রার্থনা পরিচালনা করে আর্চ বিশপ লরেঞ্জ সুব্রত হাওলাদার বলেন, “জীবিতকালে যারা আমাদের ভালোবেসেছেন, লালন-পালন করেছেন মৃত্যুর পর যেন আমরা তাদের ভুলে না যাই। এই স্মরণ আজ আমরা পূর্ব পুরুষদের করছি। তাহলে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মও ভবিষ্যতে আমাদের স্মরণ করবে।”
এসময় উপস্থিত ছিলেন পাল পুরোহিত রেগান ক্লেমেন্ট ডি কস্তা।

এর আগে প্রয়াত প্রিয়জনদের স্মরণে সমবেত নারী, বৃদ্ধ, শিশু-কিশোরসহ সব বয়সী মানুষ ফুলে ফুলে ঢেকে দেন প্রয়াত প্রিয়জনদের কবর। তারপর কবরে জ্বালেন মোমবাতি। ছড়িয়ে দেন সুগন্ধি ধুপ।
অল সোলস ডেতে প্রার্থনায় সামিল হয়েছিলেন শিক্ষক এলিজাবেথ ইউজিন। তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পূর্ব পুরুষ যাতে স্বর্গ লাভ করে সে উদ্দেশ্যে এই দিবসে পবিত্র খ্রিস্টযাগের আয়োজন করা হয়।
“প্রার্থনা নিবেদন করা হয় বিশ্বাস ভক্তি ও ভালোবাসা নিয়ে। প্রতি বছর বাবা-মা এবং সব প্রয়াত পূর্ব পুরুষের স্মরণে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এখানে আসি।”
পাথরঘাটার এই সমাধিক্ষেত্রটি চট্টগ্রামে ক্যাথলিকদের সবচেয়ে পুরনো সমাধি। চট্টগ্রামে প্রথম খ্রিস্ট ধর্মযাজক ছিলেন ফাদার ফ্রান্সিসকো ফার্নান্দেজ। যিনি চারশ বছর আগে খ্রিস্ট ধর্ম প্রচার করতে আসেন। তার কবরটিও আছে এই সমাধিক্ষেত্রে।
সন্ধ্যায় গির্জায় ঘণ্টা বাজার সাথে সাথে শুরু হয় সমবেত সঙ্গীত। ততক্ষণে অস্তগামী সূর্যের আলোর সাথে মোমের আলোয় মিলে এক অন্য রকম আলোকছটা ছড়িয়ে পড়ে সমাধিক্ষেত্র জুড়ে।
সমবেতরা সারিবদ্ধ দাঁড়িয়ে প্রার্থনায় যোগ দেন। এসময় উত্তর পুরুষের স্মরণে এবং তাদের স্বর্গলাভের প্রার্থনার ধ্বনিতে ভরে উঠে চার্চ প্রাঙ্গন।