Published : 18 Sep 2025, 07:47 PM
চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর ও বায়েজিদে বর্জ্যের দুটি ডাম্পিং স্টেশন পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় জঙ্গল দক্ষিণ পাহাড়তলি মৌজায় নতুন ল্যান্ডফিল করার উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (সিসিসি)।
নগরীর প্রান্তে হাটহাজারী থানার ওই এলাকায় ল্যান্ডফিল স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ৪০ একর জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হয়েছে বলে মেয়র শাহাদাত হোসেন জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার টাইগারপাসে অস্থায়ী নগর ভবনে সিটি করপোরেশনের সার্বিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে গঠিত কমিটির বিশেষ সাধারণ সভায় তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন ।
মেয়র বলেন, “চট্টগ্রামকে ক্লিন সিটি করতে নতুন ল্যান্ডফিলের জন্য জমি কেনা হবে। নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জে রূপ নিয়েছে।
“প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার টন বর্জ্য উৎপন্ন হলেও চসিক সর্বোচ্চ ২২০০ টন বর্জ্য সংগ্রহ করতে পারছে, বাকি প্রায় ৮০০ টন বর্জ্য নানা উপায়ে খাল, নালা হয়ে কর্ণফুলি নদীতে গিয়ে পড়ছে, যা মারাত্মকভাবে পরিবেশ দূষণ করছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় চসিক নতুন একটি ল্যান্ডফিল ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”
শাহাদাত বলেন, “চট্টগ্রামের বর্তমান দুটি ডাম্পিং স্টেশন হালিশহরের আনন্দবাজার এবং বায়েজিদের আরেফিন নগর- ধারণ ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। যে কোনো সময় সেগুলোতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় চসিক ইতোমধ্যে নতুন একটি ল্যান্ডফিল স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”
এজন্য ২০২৩ সালে হাটহাজারী থানার জঙ্গল দক্ষিণ পাহাড়তলী মৌজায় প্রায় ৫০ একর জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল জানিয়ে মেয়র বলেন, “এর মধ্যে সাড়ে ৯ একর জমি ইতোমধ্যে ক্রয় করা হলেও মালিকদের অনীহার কারণে বাকি জমি ক্রয় সম্ভব হয়নি।
“ফলে বিকল্প হিসেবে একই মৌজার পার্শ্ববর্তী সমতল ও টিলা শ্রেণির প্রায় ৪০ একর জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে আমরা দীর্ঘদিন ধরে চিন্তিত। নতুন ল্যান্ডফিল না হলে নগরীর পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য ভয়াবহ ঝুঁকিতে পড়বে।
সভায় মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, “নতুন ল্যান্ডফিল হলে ভবিষ্যতে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে। ইতোমধ্যে কোরিয়া, জাপান ও সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন কোম্পানি চসিকের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা করেছে। তবে শর্ত হিসেবে তারা ন্যূনতম ৪০ একর জমি চেয়েছে।”
সভায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ল্যান্ডফিল স্থাপন, নগর উন্নয়ন ও জনদুর্ভোগ কমানোর নানা পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এছাড়া মেয়র নগরীতে অবৈধ বাজার উচ্ছেদ, রাস্তা সংস্কার, সবুজায়ন কার্যক্রম, পর্যটন সুবিধা বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ ও পিডিবির সঙ্গে সমন্বয়, এবং ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
সিটি করপোরেশনের সচিব মো. আশরাফুল আমিন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর উপ-বিভাগীয় কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার মো. গোলাম মুরশেদ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, পরিবেশ অধিদপ্তরের সিনিয়র কেমিস্ট রুবাইয়াত তাহরীম সৌরভ, বন অধিদপ্তরর সহকারী সংরক্ষক মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, বিআইডব্লিউটিএ এর ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মো. জাহিদুল ইসলাম, প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের উপ পরিচালক মনছুর আলী চৌধুরী, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপ পরিচালক মুহাম্মদ ফরিদুল আলম হোসাইনী, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী একে.এম মামুনুল বাশরী, এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুল ইসলাম সভায় উপস্থিত ছিলেন।